সিলেট-তামাবিল সড়কে মৃত্যুর মিছিল থামাবে কে?
বুধবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৪, ১২:০২

সিলেট-তামাবিল সড়কে মৃত্যুর মিছিল থামাবে কে?

সাখাওয়াত হোসেন টিটু, শায়েস্তাগঞ্জ

প্রকাশিত: ০৭/০৩/২০২৪ ০১:৫৮:৩৮

সিলেট-তামাবিল সড়কে মৃত্যুর মিছিল থামাবে কে?

তামাবিল মহাসড়কে দুর্ঘটনার চিত্র।


সিলেট তামাবিল সড়ক যেন মৃত্যুফাঁদে পরিণত হয়েছে। একের পর এক সড়ক দুর্ঘটনায় এখানে ঝরছে তাজা সব প্রাণ। এতে করে সাধারণ মানুষের মাঝে ক্ষোভ অসন্তোষ বাড়লেও যেন সড়কে নিরাপত্তা বাড়াতে কারও কোনো ভ্রুক্ষেপ নেই। নামেই টহল আর নিরাপত্তা চৌকি। কাজের কাজ কিছু হচ্ছেনা। এ সড়কে দুর্ঘটনার একাধিক কারণ চিহ্নিত করে হাইওয়ে পুলিশ সংশ্লিষ্ট সকল কর্তৃপক্ষকে জানালেও কেউ কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছেন না। ফলে একের পর এক দুর্ঘটনা ঘটছেই। আর ঝরছে সব তাজা প্রাণ।

ডেটলাইন ২৩ জানুয়ারি ২০২৩: সিলেটে সড়ক দুর্ঘটনায় আহত বীমা কোম্পানির কর্মকর্তা সজিব দে বিনয়ের (৩৫) মৃত্যু হয় ঐদিন। তিনি সিলেট নগরের একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছিলেন। ২০২৩ সালের সোমবার (২৩ জানুয়ারি) দুপুরে বিনয়ের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন তার ছোট ভাই পিন্টু দে।

ডেটলাইন ৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৩: সিলেট-তামাবিল সড়কের জৈন্তাপুরে ট্রাক চাপায় সজিব আহমদ (২২) নামের এক সিএনজি অটোরিকশাযাত্রীর মৃত্যু হয়। নিহত সজিব শেরপুর থানার কুলুরচর বেপারিপাড়া গ্রামের মৃত বিল্লাল আহমদের ছেলে। ঐ দিন বৃহস্পতিবার সকাল ৬টার দিকে সিলেট তামাবিল মহাসড়কের চিকনাগুল ইউনিয়নের শুক্রবারী বাজার নামক স্থানে দ্রুতগামী একটি ট্রাক বিপরীত দিক থেকে আসা সিএনজি অটোরিকশাকে (সিলেট-থ-১১-৮৮৪৯) চাপা দেয়। এতে চালক অটোরিকশা যাত্রী মো. সজিব আহমদ (২২) এবং অটোরিকশা চালক শাহিন (৩০) গুরুতর আহত হন। তাদেরকে ওসমানী মেডিকেল হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক সজিবকে মৃত ঘোষণা করেন।

ডেটলাইন ৭ জুলাই, ২০২৩: জৈন্তাপুর উপজেলার দরবস্ত এলাকায় সিলেট-তামাবিল সড়কে ২০২৩ সালের ০৭ জুলাই শুক্রবার রাত ১০টার দিকে জাফলংয়ে অভিমুখী বাসটি বিপরীতমুখী ইজিবাইকের সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয় । বাস-ইজিবাইক (ব্যাটারিচালিত রিকশা) সংঘর্ষে পাঁচজন নিহত হন।। নিহতরা ছিলেন তারা হলেন- উপজেলার বড়খলা গ্রামের মৃত খুর্শেদ আলমের ছেলে মুসদ আলী (৫০), শ্রীখেল গ্রামের মোজাম্মেল আলীর ছেলে নূর উদ্দিন (৫৫), বারগাতি গ্রামের আব্দুল বারীর ছেলে আব্দুল লতিফ (৫০), ফরফরা গ্রামের তরিকুল ইসলামের ছেলে (ইজিবাইক চালক) মো. কামাল আহমদ (২৫) ও উপজেলার দিঘীরপাড় গ্রামের মৃত আব্দুস শুক্কুরের ছেলে মতিন উরফে কাছাই (৪৫)। নিহতদের মধ্যে চারজন ঘটনাস্থলে এবং একজনকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়ার পথে মৃত্যু হয়। 

ডেটলাইন ১৭ মে ২০২৩: সিলেট-তামাবিল সড়কের জৈন্তাপুরে সড়ক দুর্ঘটনায় দু’জন প্রাণ হারার ২০২৩ সালের ১৭ মে বুধবার। ঐদিন দুপুরে সিলেট-তামাবিল সড়কের জৈন্তাপুর উপজেলার কাটাগাঙ এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। দুর্ঘটনায় জৈন্তাপুর উপজেলার হেলিরাই (লুৎমাইল) গ্রামের মরহুম হাবিবুর রহমানের ছেলে নুরুল ইসলাম (৪৫) ও একই গ্রামের মরহুম ইউসুফ মিয়ার ছেলে ছায়াদ আহমদ (৩৫) প্রাণ হারায়। এছাড়া আহত হয়েছেন পিকআপচালক একই উপজেলার তেলিজুরি গ্রামের রায়হান আহমদ (৪০)।

ডেটলাইন ১৭ নভেম্বর ২০২৩: সিলেট-তামাবিল মহাসড়কের কাটাগাঙ এলাকায় যাত্রীবাহী বাস ও সিএনজিচালিত অটোরিকশার মুখোমুখি সংঘর্ষে স্বামী-স্ত্রী নিহত হন। ২০২৩ সালের ১৭ নভেম্বর  শুক্রবার দুপুরে সিলেটের জৈন্তাপুর উপজেলার কাটাগাঙ নামক স্থানে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহতরা হলেন সিলেট সদর উপজেলার খাদিমপাড়া ৩ নম্বর সড়কের মৃত হযরত আলীর ছেলে বাদশা মিয়া (৬০) ও তার স্ত্রী রোকেয়া বেগম (৫৩)। তারা উভয়ই সিএনজিচালিত অটোরিকশার যাত্রী ছিলেন।

ডেটলাইন ২৪ অক্টোবর ২০২৩: ঐদিন সিলেট-তামাবিল জাফলং- মহাসড়কের ফেরিঘাট কাটাগাং নামক স্থানে সড়ক দুঘর্টনায় ঘটনাস্থলে ২ জন নিহত হন। এই ঘটনায় গুরুত্বর আহত হন আরও ৮ জন। জৈন্তাপুর মডেল থানা ও তামাবিল হাইওয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে ২ জন নিহতের কথা নিশ্চিত করেছেন। নিহত এবং আহত সবাই পিকআপ গাড়ির যাত্রী ছিলেন। ২০২৩ সালের মঙ্গলবার (২৪ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ৯ টার দিকে এই ঘটনা ঘটে। নিহতরা হলেন ঢাকার কেরানীগঞ্জ ইটাপাড়া দক্ষিণ কানারচর গ্রামের আব্দুর রহিমের ছেলে জাহাঙ্গীর (৩০) এবং অপরজন হলেন ঢাকা হেমায়েতপুর এলাকার চরতুলাতুলি গ্রামের আব্দুল বারেক মিয়ার ছেলে মোহাইমিন (২৫)।

ডেটলাইন ১৭ ডিসেম্বর ২০২৩: গত বছর ১৬ ডিসেম্বর শনিবার রাত ১২টার দিকে সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলার তামাবিল পুলিশ ফাঁড়ির সামনে দুই মোটরসাইকেলের সংঘর্ষে দুই যুবক নিহত হন। । নিহতরা হলেন গোয়াইনঘাট উপজেলার শান্তিনগর গ্রামের আব্দুল মতিনের ছেলে আল আমিন (২৫) ও জৈন্তাপুর উপজেলার ২ নম্বর লক্ষ্মীপুর গ্রামের নুর মিয়া ওরফে নুরা মিস্ত্রির ছেলে মো. শাকিল আহমদ ইমন (৩০)। এ ঘটনায় সাইদুল ইসলাম নামে অপর এক ব্যক্তি গুরুতর আহত হয়েছেন। সেই রাতে আল আমিন মোটরসাইকেল নিয়ে তামাবিল পয়েন্ট থেকে নলজুড়ি এবং ইমন ও সাইদুল মোটরসাইকেল নিয়ে জৈন্তাপুর থেকে জাফলংয়ে যাচ্ছিলেন। পথে তামাবিল-সিলেট মহাসড়কের তামাবিল পুলিশ ফাঁড়ির সামনে মোটরসাইকেল দুটির সংঘর্ষ হয়। এ সময় তিন মোটরসাইকেল আরোহীই আহত হন। স্থানীয়রা তাঁদের উদ্ধার করে জৈন্তাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক আল আমিন ও শাকিলকে মৃত ঘোষণা করেন। 

ডেটলাইন ১৯ জানুয়ারী ২০২৪ : সিলেট-তামাবিল মহাসড়কের জৈন্তাপুরে প্রাইভেটকার খাদে পড়ে গত ১৯ জানুয়ারী হারান ছাত্রলীগের চার নেতা। ঐ দিন ছিলো শুক্রবার। মধ্যরাতে সড়কের জৈন্তাপুর উপজেলার বাংলাবাজার ব্রিজের পাশে এ দুর্ঘটনা ঘটে। রাত ১টার দিকে স্থানীয় লোকজন তাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে গেলে ডাক্তার মৃত ঘোষণা করেন।পরদিন শনিবার বিকেলে তাদের দাফন ও সৎকার করার কথা রয়েছে। নিহতরা হলেন- জৈন্তাপুর উপজেলার পানিহারা হাটির আরছ মিয়ার ছেলে তমাল(২৫), একই উপজেলার নিজপাট ইউনিয়নের রনদ্বীপ পালের ছেলে নেহাল (২৬), কমলাবাড়ি এলাকার জামাল উদ্দিনের ছেলে জুবায়ের, নিজপাট ইউনিয়নের হারুন উর রশিদের ছেলে আলী হোসেন সুমন। স্থানীয় সূত্র জানায় মধ্যরাতে গোয়াইনঘাট উপজেলার তামাবিল এলাকা থেকে জৈন্তাপুরে ফিরছিলেন চার নেতা। তারা প্রায় রাতে বেড়াতে যান। শুক্রবার রাত ১২টার দিকে ফেরার পথে তাদের বহনকারী প্রাইভেটকার নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কের পাশের খাদে পড়ে যায়। এ সময় তারা চারজন নিহত হন।

ডেটলাইন ৫ মার্চ ২০২৪: জৈন্তাপুরে গত ৫ মার্চ সড়ক দুর্ঘটনায়্ একে একে তিন তরুণ মারা গেছেন। তিনজনই মোটর সাইকেলের আরোহী। সড়কের পাশে মোটর সাইকেল থামিয়ে গল্প করার সময় এ দুর্ঘটনা ঘটে। মঙ্গলবার (৫ মার্চ) রাত ১০ টার দিকে সিলেট-তামাবিল সড়কের জাফলং ভ্যালী বোর্ডিং স্কুলের সামনে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহতরা হলেন জৈন্তাপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এম লিয়াকত আলীর মেজ ছেলে ফয়সাল রেজা (১৯) ও সে মোকামবাড়ী এলাকার আলাউদ্দিনের পুত্র শিহাব (২২) ও একই এলাকার আব্দুল হান্নানের পুত্র পাবেল ( ১৯)। পুলিশ সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার রাত দশটার দিকে নলজুরীগামী একটি ডিআই পিকআপ (ঢাকা মেট্রো – ন ১৫-২৯৯৯) বেপরোয়া গতিতে জাফলং ভ্যালি বোর্ডিং স্কুলের সামনে একে একে দুইটি বাইককে সজোরে ধাক্কা মারলে বাইক দুটি দুমড়ে মুচড়ে যায়। এতে ঘটনাস্থলেই মারা যান ফয়সল। পরে স্থানীয় লোকজন আহতদের উদ্ধার করে জৈন্তাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে সেখানে শিহাব ও পাবেলের মৃত্যু হয়। এ তথ্য নিশ্চিত করেছে জৈন্তাপুর মডেল থানার ওসি মো: তাজুল ইসলাম বলেন, জাফলং ভ্যালি বোর্ডিং স্কুলের সামনে যুবকরা মোটর সাইকেল রেখে গল্প করা অবস্থায় একটি ডিআই পিকআপ নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে তাদের উপর উঠে গেলে ঘটনাস্থলে জৈন্তাপুর আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক লিয়াকত আলীর ছেলে ফয়সাল মারা যান। শিহাব আর পাবেল নামের বাকি দুই যুবকের মৃত্যু হয় হাসপাতালে নেয়ার পর। দুর্ঘটনার পরপরই সিলেট-তামাবিল সড়কে যান চলাচল বন্ধ করে দেন উত্তেজিত জনতা। 

এ ব্যাপারে হাইওয়ে পুলিশের অতিক্তি ডিআইজি মোহাম্মদ শহিদুল্লাহ জৈন্তা বার্তাকে বলেছেন এ সড়কের দুর্ঘটনা নিয়ে তারাও উদ্বিগ্ন। তিনি বরেন আমরা সাধ্যমতো কাজ করে যাচ্ছি। দুর্ঘটনার একাধিক কারণ উল্লেখ করে সংশ্লিষ্ট সকল কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে। প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা সওজসহ সকল কর্তৃপক্ষ ব্যবস্থা নিলে দুর্ঘটনা অনেক কমতো।

জৈন্তাবার্তা/জেএ


This is the free demo result. For a full version of this website, please go to Website Downloader