২২ হাজার ৫০০ কোটি টাকা ছাপিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক
শুক্রবার, ১৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১২:৩০ AM

২২ হাজার ৫০০ কোটি টাকা ছাপিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক

জৈন্তা বার্তা ডেস্ক

প্রকাশিত: ২৯/১১/২০২৪ ১০:৫১:৩৫ AM

২২ হাজার ৫০০ কোটি টাকা ছাপিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক

ছবি : সংগৃহীত


আর্থিক সংকটে থাকা ছয়টি ব্যাংককে তারল্য সহায়তা দেওয়া হয়েছে। এর পরিমাণ ২২ হাজার ৫০০ কোটি টাকা। নতুন করে টাকা ছাপিয়ে এই টাকা দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর।বৃহস্পতিবার কেন্দ্রীয় ব্যাংককে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা জানান।

ব্যাংকগুলো হলো- এসআইবিএল, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, ন্যাশনাল ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক, এক্সিম ও ইউনিয়ন ব্যাংক। এ ব্যাংকগুলো তারল্য সংকটে ভুগছে। চাহিদা অনুযায়ী তাদের গ্রাহককে টাকা দিতে পারছে না বলে অভিযোগ উঠেছে।

গভর্নর বলেন, আগামী রোববার থেকে চাহিদা মোতাবেক এসব ব্যাংক থেকে গ্রাহকরা টাকা তুলতে পারবেন। কিন্তু সবাই যদি হাজির হন, তা হলে তো কোনো ব্যাংকের পক্ষে টিকে থাকা সম্ভব নয়। তিনি বলেন, বন্ড ছাড়ার মাধ্যমে এসব টাকা তুলে নেওয়া হবে। আমাদের টাইট পলিসি থাকবে। এক হাতে দেব, অন্য হাতে তুলে নেব। এতে বাজারেও অস্থিরতা তৈরি হবে না।

গভর্নর বলেন, আমরা দুর্বল ব্যাংকগুলোকে তারল্য সহযোগিতা দিচ্ছি। আমানতকারীদের সুরক্ষার জন্য এটি দেওয়া হচ্ছে। এরই মধ্যে ২২ হাজার ৫০০ কোটি টাকা দেওয়া হয়েছে। তবে শাখাগুলোয় যে অস্থিরতা ছিল সেটি থেকে বেরিয়ে এসেছি। শাখাগুলোতে রোববার থেকে সবাই (গ্রাহক) নিজ নিজ চাহিদা অনুযায়ী টাকা পাবেন।

আমানতকারীদের উদ্দেশে গভর্নর বলেন, আপনাদের টাকা নিরাপদে আছে, আপনারা নিশ্চিন্তে থাকুন। আপনারা যে ব্যাংকেই টাকা রেখে থাকুন নিরাপদে থাকবে, সমস্যা হবে না। আপনাদের যতটুকু টাকা প্রয়োজন ততটুকুই তুলুন। আমানতকারীর টাকা নিয়ে সমস্যা নেই, এ নিয়ে মাথাব্যথা আমাদের। আমানতকারীর টাকা সুরক্ষিত থাকবে।

শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর গত ১৩ আগস্ট আহসান এইচ মনসুরকে বাংলাদেশ ব্যাংকের ১৩তম গভর্নরের দায়িত্ব দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে সরকার। দায়িত্ব গ্রহণের পরই তিনি জানিয়েছিলেন, নতুন করে টাকা ছাপিয়ে আর কোনো দুর্বল ও সমস্যাযুক্ত ব্যাংককে তারল্য সহায়তা দেওয়া হবে না। এখন তিনি আগের অবস্থান দেখে সরে এসেছেন। সংবাদ সম্মেলনে ন্যাশনাল ব্যাংকের চেয়ারম্যানসহ অন্য চার ব্যাংকের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

গভর্নর বলেন, কেন্দ্রীয় ব্যাংক ও সরকার আমানতকারীদের স্বার্থ পুরোপুরি দেখবে। এটা আমাদের একটা মৌলিক নীতি। কোনো ব্যাংকে তারল্য সংকট দেখা দিলে কেন্দ্রীয় ব্যাংক তাদের পাশে দাঁড়াবে। আমরা এ জন্য ২২ হাজার ৫০০ কোটি টাকা দিয়েছি। এটা যথেষ্ট। প্রয়োজনে আরও দেওয়া হবে, যাতে করে ব্যাংকিং খাতের অস্থিরতা থেকে বের হয়ে আসা যায়। আমরা সামনের দিকে এগোতে চাই।

আমনাতকারীদের আমরা আস্বস্ত করতে চাই যে ব্যাংকে টাকা রেখেছেন তা সেখানেই নিরাপদ থাকবে। আমরা তারল্য সহায়তা দিয়েছি। আগামী রবিবার ব্যাংকগুলোতে গিয়ে দেখবেন অবস্থা কী। তারা গ্রাহকদের টাকা ঠিকমতো দিতে পারছে কি না। পাশাপাশি আমি একথা বলব গ্রাহকরা যাতে একসঙ্গে সব টাকা তুলে নিয়ে না যায়। গ্রাহকদের বলব- আপনাদের টাকা নিরাপদে আছে। এটা নিয়ে মাথাব্যথা আমাদের। আমরাই এর সমাধান করব। আমানতকারীদের সুরক্ষায় যা করা দরকার তা-ই করা হবে। অযথা টাকা তোলা যাবে না। এই বার্তাটি গ্রাহকদের আমরা দিতে চাই। যেটুকু দরকার শুধু সেটুকু তুলুন। তার অতিরিক্ত নয়। কারণ সবাই যদি হুমড়ি খেয়ে টাকা তুলতে চান, তা হলে কোনো দেশের ব্যাংকিং খাত টিকে থাকতে পারবে না।

গভর্নর বলেন, আমি আগে বলেছি টাকা ছাপাব না। সেখান থেকে সাময়িকভাবে সরে এসেছি। কিন্তু পুরোপুরি নয়। আমরা এই টাকাটা তুলে ফেলব বন্ড ইস্যু করার মাধ্যমে। বন্ড ছাড়ার মূল কারণ হচ্ছে আমরা এক হাতে তারল্য সাপোর্ট দেব, আরেক হাতে তুলে নেব। এর ফলে সামগ্রিকভাবে অর্থনীতিতে ভারসাম্য থাকবে।

আগে যে পদ্ধতিতে টাকা ছাপানো হয়েছিল সেখান থেকে আপনার প্রক্রিয়ায় পার্থক্য কী- এক সাংবাদিকের এমন প্রশ্নের জবাবে গভর্নর বলেন, অবশ্যই পার্থক্য আছে। প্রথমত. ব্যাংকগুলোর পর্ষদ পুনর্গঠন করা হয়েছে। টাকা চুরি বন্ধ হয়েছে। আগে টাকা দেওয়ার ফলে ব্যাংকগুলো সেই টাকা লুটপাট করেছে। এবার তা হবে না। দ্বিতীয়ত. এখন প্রত্যেকটা ব্যাংককে নিবিড় তদারিক করা হচ্ছে। তাদেরকে বলা হয়েছে পরিস্থিতির উন্নতি করতে হবে। আগে কোনো জবাবদিহি ছিল না। চাহিবা মাত্রই ফান্ড দেওয়া হয়েছে। কোনো বাছবিচার করা হয়নি। এবার তা হবে না।

খেলাপি ঋণ আদায়ে সরকার কঠোর অবস্থান নিয়েছে। এতে করে কী খেলাপি ঋণ কমবে? জবাবে গভর্নর বলেন, আগে কী হয়েছে সেটার দায়ভার আমি নেব না। আমি যেটা বলতে চাই, এখন যে নিয়ম করা হয়েছে তা সঠিকভাবে মেনে চলা হবে। আমাদের কোনো ইচ্ছা নেই খেলাপি ঋণকে কমিয়ে রাখা। আমি জানি, নতুন নিয়ম কার্যকর করার ফলে খেলাপি ঋণ আরও বাড়বে। তাতে আমাদের কিছু করার নেই। যেটা আসল চিত্র তা তুলে ধরা হবে। তারপর দেখব এখান থেকে কত পরিমাণ কমিয়ে আনা যায়। আমাদের উদ্দেশ্য গোপন করে রাখা নয়। উদ্দেশ্য হচ্ছে সঠিক চিত্র দিয়ে সেখান থেকে পরিস্থিতির উন্নতি কীভাবে করা যায় সে বিষয়ে কাজ করা। আগে যেটা হয়েছে রেগুলেশন হয়েছে কিন্তু তা বাস্তবায়ন হয়নি। এখন তা হবে না। তিনি বলেন, এনফোর্সমেন্ট যদি না থাকে, তাহলে কোনো দিনও ব্যাকিং খাত সবল হবে না।

টাকা ছাপানোর বিষয়ে আপনি আগের অবস্থান থেকে সরে এসেছেন কেন- এ প্রশ্নের জবাবে বলেন, আমি যদি ১০ টাকা দিই, পরে সেই টাকা নিয়ে ফেলি তা হলে তারল্য- এর কোনো হেরফের হবে না। একই থাকল। বিষয়টি হলো, আমরা এক হাতে দিচ্ছি তারল্য, অন্য হাতে তুলে নেব। একটা পাইপ দিয়ে হাউজে পানি ঢুকছে, অন্য পাইপ দিয়ে সমপরিমাণ পানি বের হয়ে যাচ্ছে। তিনি প্রশ্ন করে বলেন, ‘তা হলে কী পানির কোনো পরিবর্তন হবে? হবে না। আমরা এ ধরনের নীতির দিকে যাচ্ছি। আমাদের মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে মূল্যস্ফীতি কমানো। পাশাপাশি আমানতকারীদের সুরক্ষা দেওয়াটা আমাদের দায়িত্ব।’

এক প্রশ্নের জবাবে গভর্নর বলেন, ইচ্ছাকৃত ঋণখেলাপিদের বিরুদ্ধে কেন্দ্রীয় ব্যাংক শক্ত অবস্থান নেবে। তারা ধাপ্পাবাজ। তাদের সঙ্গে কোনো আপস করা হবে না।আরেক প্রশ্নের জবাবে বলেন, আমরা কোনো মব জাস্টিসে বিশ্বাস করি না। আমি এখানে আমার স্বার্থ দেখার জন্য আসিনি। যদি কেউ আমাকে চাপ দেয় চাকরি ছেড়ে চলে যাব। কোনো আপস করব না। যেটা ভালো সেটাই করব। কারও চাপে কিছু করব না।


জৈন্তাবার্তা / সুলতানা