ছবি: নিজস্ব
সিলেটের গোয়াইনঘাট উজেলার প্রান্তিক কৃষক পর্যায়ে সরিষা চাষে আগ্রহ বাড়ছে। মধ্যবর্তী ফসল, উৎপাদন খরচ স্বল্প এবং ভোজ্যতেল হিসেবে ভোক্তাদের চাহিদা বৃদ্ধি পাওয়ায় সরিষা চাষের প্রতি কৃষকদের আগ্রহ বৃদ্ধি পেয়েছে। যার ফলে এ উজেলায় সরিষার চাষ সম্প্রসারিত হচ্ছে। আবাদি-অনাবাদি জমিতে কৃষকরা এখন সরিষা চাষ করছেন।
উপজেলার তোয়াকুল ইউনিয়নের কৃষক বিলাল উদ্দিন এ বছর ৮০ বিঘা জমিতে সরিষা আবাদ করেছেন। আদর্শ একজন কৃষকের পাশাপাশি তিনি ভালো একজন জনপ্রতিনিধি।বর্তমান ৬ নং ওয়ার্ডের নির্বাচিত সদস্য। তবে তার মূল পেশা হচ্ছে কৃষি ও খামার ব্যবসা। নতুন নতুন জাতের আমন ও বোরো ধান আবাদের পাশাপাশি বয়লার মুরগির প্রোল্টি খামার কোয়েল পাখির খামার এবং বর্জ্য ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে বায়োগ্যাস তৈরি করে পারিবারিক রান্নার গ্যাসের চাহিদা মিটিয়ে থাকেন।
কৃষক বিলাল উদ্দিন জানান,গত বছর তিনি ৪ দাগে ৫০ বিঘা জমিতে সরিষা আবাদ করেছিলেন।ভালো ফলন ও ভালো মুনাফা পাওয়ায় এ বছর তিনি ৫ দাগে ৮০ বিঘা জমিতে সরিষার চাষ করেছেন। সঠিক পরিচর্যা করতে পারলেও সরিষা ক্ষেতে সময়মত পানি দিতে একটু তাকে বেগ পেতে হয়।বিভিন্ন পন্হা অবলম্বন করে বিভিন্ন মাধ্যমে তিনি সরিষা ক্ষেতে পানি দেন।সেখানে তার একটু খরচ বাড়ে। তিনি জানান,বিক্রয়ের সময় আসলে সরিষা বেশি উৎপাদন হয়ে গেলে সেই সময় দাম কমে যায়।যার ফলে মুনাফার পরিমাণ কমে আসে।
সময় মত দাম সঠিক থাকলে অর্ধেক অর্ধেক লাভের সম্ভাবনা থাকে কিন্তু দাম কমে যাওয়ায় লাভের পরিমাণ শতকরা বিশ ভাগ কমে যায়। তার অভিমত, ধানের তুলনায় সরিষায় লাভ বেশি। বিগত বছরগুলো থেকে চলতি মৌসুমে বেড়েছে সরিষার আবাদ। পাশাপাশি তিনি ভুট্টা ও সূর্যমুখী ফুলের চাষ করেছেন।
বিলাল উদ্দিন আরো জানান উপজেলা কৃষি অফিস ও উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা সরকারি সার বীজ ও পরামর্শ দিয়ে সর্বাত্মক সহযোগিতা করছে। যার ফলে কৃষি কাজে তার আগ্রহ বাড়ছে ও ভালো ফলন পাওয়া সম্ভব হচ্ছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, দিগন্ত জোড়া ফসলের মাঠ সরিষার হলুদ ফুলে ছেয়ে গেছে। যতদূর চোখ যায় হলুদ আর হলুদ-এ যেন হলুদের রাজ্য। প্রতিটি সরিষা ক্ষেতে শীতের কনকনে হিমেল হাওয়ায় দোল খাচ্ছে কৃষক বিলাল এর স্বপ্ন। সূর্যের কিরণ প্রতিফলিত হবার সঙ্গে সঙ্গেই সরিষা ফুলের সমারোহে হেসে ওঠে চারদিক। অন্যদিকে এমন নয়নাভিরাম দৃশ্য দেখতে ছুটে আসছে এলাকার অনেকে।
কৃষি বিভাগ বলছে, এ বছর উৎপাদনও বেশি হবে বিগত বছরগুলোর চেয়ে। তবে পর্যাপ্ত যন্ত্রপাতি এবং প্রশিক্ষণ না থাকায় এ জেলার চাষিরা সরিষা ক্ষেত থেকে সরিষার পাশাপাশি মধু উৎপাদন করতে ব্যর্থ হচ্ছেন। কৃষি বিভাগ বলছে এ ব্যাপারে তাদের পরিকল্পনা রয়েছে।কৃষি বিভাগ আরো জানায়,গত বছরের চাইতে এ বছর উপজেলায় ৮০৩ হেক্টর জমিতে সরিষার আবাদ হয়েছে।তারমধ্যে রয়েছে বারী-১৪, ১৭ ও টরি-৭ এবং বিনা সরিসা-৯। উপজেলা রুস্তমপুর, বিছনাকান্দি, পূর্ব জাফলং, পশ্চিম জাফলং ও সদর ইউনিয়নে বেশি সরিষার আবাদ হয়ে থাকে।এছাড়া উপজেলার অন্যান্য ইউনিয়নেও টুকটাক সরিষা আবাদ হয়।উপজেলা কৃষি অফিস জানায় সবচাইতে বেশি সরিষার আবাদ করে থাকেন কৃষক বিলাল উদ্দিন।গত বছর তিনি ৫০ বিঘা জমিতে সরিষার আবাদ করায় জেলা কৃষি অফিস থেকে তাকে পুরস্কৃত করা হয়েছে। এ বছরও তাকে ৮০ বিঘা জমিতে সরিষার আবাদ করায় সরকারিভাবে উপজেলা কৃষি অফিস থেকে সরিষা ভাঙতে একটি মেশিন দেওয়া হবে। উপজেলায় মোট ১৩০ টি সরিষার প্রদর্শনী রয়েছে বলে জানায় উপজেলা কৃষি অফিস।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রায়হান পারভেজ রনি বলছেন, ওই এলাকার কৃষকেরা আমন মৌসুমে আমন ও বোরো মৌসুমে বোরো আবাদ করতেন। এর মাঝে কিছু সময় জমি পতিত অবস্থায় থাকত। কিন্তু এবার তারা উন্নত জাতের সরিষা আবাদ করেছেন। এতে আমনে বেশি ফলন পাওয়ার পাশাপাশি সরিষা চাষের কারণে আর্থিকভাবেও তারা লাভবান হবেন।
জৈন্তাবার্তা / জারা




