ছবি:সংগৃহীত
ওসমানীনগরের খাদিমপুর হাজি নছিব উল্লাহ উচ্চ বিদ্যালয়ে এবারের এসএসসি পরীক্ষার জন্য বোর্ডের নির্ধারিত ফি’র চেয়ে প্রধান শিক্ষক কর্তৃক অতিরিক্ত ফি আদায় করা নিয়ে এক শিক্ষার্থী সাথে হট্টগোলের খবর পাওয়া গেছে। এসময় প্রধান শিক্ষক কর্তৃক ওই ছাত্রীকে নিয়ে অশালিন মন্তব্য করার খবর পেলে শিক্ষার্থীর দিনমজুর বাবা বিদ্যালয়ে আসলে তাকেও অশালিন কটুকথা বলে তিরস্কার করেন প্রধান শিক্ষক সৈয়দ মো: মহরম আলী। গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে বিদ্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে। এদিকে ভুক্তভোগি শিক্ষার্থী প্রতিকার পেতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবরে একটি লিখিত আবেদন করেছেন।
জানা গেছে, উপজেলার উমরপুর ইউনিয়নের খাদিমপুর নছিব উল্লাহ উচ্চ বিদ্যালয়ে গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে এবারের এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিতে পুরাতন শিক্ষার্থী হিসেবে পরীক্ষার ফি জমা দিতে আসেন বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী ফাহমিদা আক্তার নিফা। গেল বছর নিপা একটি বিষয়ে অকৃতকার্য হন। দিনমজুর আব্দুস শহীদের মেয়ে নিপা তার বাবাকে নিয়ে পরীক্ষার ফি জমা দিতে বিদ্যালয়ে যান। এসময় প্রধান শিক্ষক দাবী করেন ২হাজার টাকা দিতে হবে। তখন নিপা ১৫শ টাকা দেওয়ার কথা বললে প্রধান শিক্ষক অশালীন মন্তব্য করেন। এক পর্যায়ে প্রধান শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও শিক্ষার্থীর বাবার মধ্যে বাকবিতন্ডা হয়ে হট্টগোল শুরু হলে অন্যান্য শিক্ষকরা শিক্ষার্থীর কাছ থেকে ১৫শ টাকা রেখে ফি জমা হবে বলে তাদের বাড়ি যেতে বলেন। এরপর ফাহমিদা আক্তার নিফা প্রতিকার পেতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবরে লিখিত আবেদন করেছেন।
ফাহমিদা আক্তার নিফা বলেন, আমি গেল বছর এক বিষয়ে ফেল করেছিলাম। হেড স্যার আমাকে বলেছেন, আমি নাকি রাতে ছেলেদের সাথে মোবাইলে প্রেম করে ফেল করেছি। মেয়েরা নাকি প্রেম করে পালিয়ে যায়। তিনি আমার হিজাব নিয়ে কটাক্ষ করেছেন। তিনি ২হাজার টাকার কম পরীক্ষার ফি নিতে পারবেন না। তিনি অতিরিক্ত ফি আদায় করছেন।
বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সদস্য বিএনপি নেতা শাহ আলম বলেন, আজকে বিদ্যালয়ে একটি সমস্যা হয়েছে। বিষয়টি নিষ্পত্তি করার চেষ্টা করবো।
প্রধান শিক্ষক সৈয়দ মহরম আলী জানান, আমরা ভাল ফলাফল করার জন্য কোচিং নয়,অতিরিক্ত ক্লাস করিয়ে ৪হাজার টাকা নিচ্ছি। রাতে মোবাইলে কথা বললে ফলাফল খারাপ হয় এটা বলেছি, প্রেমের কথা বলিনি। প্রেম করে পালিয়ে যাওয়ার কথা বলিনি, বিদ্যালয় থেকে শিক্ষার্থীরা পালিয়ে যাওয়ার কথা বলেছি।
এ বিষয়ে জানতে ওসমানীনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুনমুন নাহার আশার সরকারি মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি সাংবাদিকদের কল রিসিভ করেন নি।
জৈন্তা বার্তা/ ওয়াদুদ




