ছবি:সংগৃহীত
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সিলেট-৫ (কানাইঘাট–জকিগঞ্জ) আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী ও বিএনপির বহিস্কৃত নেতা মামুনুর রশীদ ওরফে চাকসু মামুন নির্বাচনী মাঠ ছাড়ছেন না-এ কথা স্পষ্ট করে জানিয়ে দিয়েছেন তিনি। তার ভাষায়, এই নির্বাচনে বিজয়ের বিকল্প কোনো পথ বা সমঝোতার চিন্তা নেই।
শনিবার (১০ জানুয়ারি) নিজের ব্যক্তিগত ফেসবুক প্রোফাইলে দেওয়া একটি স্ট্যাটাসে তিনি এই অবস্থান তুলে ধরেন। স্ট্যাটাসটি প্রকাশের পরপরই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা ও প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়।
বর্তমানে সিলেট অঞ্চলে বিএনপির একমাত্র বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবেই আলোচনায় রয়েছেন চাকসু মামুন। একই দিনে সুনামগঞ্জ-৫ আসনে বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান চৌধুরী দলটির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের আহ্বানে সাড়া দিয়ে প্রার্থিতা প্রত্যাহারের ঘোষণা দেন। ফলে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন ওঠে-চাকসু মামুনও কি একই পথে হাঁটবেন?
তবে সেই জল্পনায় নিজেই ইতি টানেন তিনি। ফেসবুক পোস্টে ক্ষোভ প্রকাশ করে চাকসু মামুন লেখেন,‘যাদের প্ররোচনায় আমাকে আমার ৪৫ বছরের রাজনৈতিক আদর্শিক অবস্থান থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে, তারাই আজ আবার সমঝোতার জন্য নেতাদের দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন-এটা কি আত্মসম্মানের সঙ্গে মানানসই?’
উল্লেখ্য, সিলেট-৫ আসনে বিএনপির দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশী ছিলেন চাকসু মামুন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত বিএনপি এ আসনে নিজস্ব প্রার্থী না দিয়ে জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম সমর্থিত প্রার্থী মাওলানা উবাদুল্লাহ ফারুককে সমর্থন দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। এ সিদ্ধান্ত মেনে না নিয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নেন মামুন এবং যাচাই-বাছাইয়েও উত্তীর্ণ হন। এর পরপরই বিএনপি তাকে দল থেকে বহিষ্কার করে।
তার সাম্প্রতিক স্ট্যাটাসে একপ্রকার চূড়ান্ত বার্তাই দিয়েছেন তিনি- নির্বাচনে বিজয় ছাড়া অন্য কোনো সমঝোতার প্রশ্নই ওঠে না।’
চাকসু মামুনের এই ঘোষণার পর সিলেট-৫ আসনের রাজনৈতিক হিসাব-নিকাশে নতুন করে উত্তাপ ছড়িয়েছে। বিশেষ করে যারা ধারণা করেছিলেন যে শেষ পর্যন্ত তিনি প্রার্থিতা প্রত্যাহার করবেন-তাদের সেই প্রত্যাশা অনেকটাই অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। জমিয়তপন্থি কর্মী-সমর্থকদের মধ্যেও বিষয়টি নতুন উদ্বেগ তৈরি করেছে।
তবে এখনো পুরোপুরি পর্দা নামেনি। কারণ মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ সময় ২০ জানুয়ারি। সে পর্যন্ত রাজনৈতিক নাটকে নতুন মোড় আসতে পারে—এমন আশাও করছেন কেউ কেউ।
জৈন্তা বার্তা/ ওয়াদুদ




