কর্ম*বিরতি প্রত্যাহার ওসমানীর ইন্টার্ন চিকিৎসকরা কাজে যোগ দেবেন আজ
শুক্রবার, ১৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০১:৪৩ AM

কর্ম*বিরতি প্রত্যাহার ওসমানীর ইন্টার্ন চিকিৎসকরা কাজে যোগ দেবেন আজ

প্রকাশিত: ১৯/০১/২০২৬ ১২:৪৩:০৫ AM

কর্ম*বিরতি প্রত্যাহার  ওসমানীর ইন্টার্ন চিকিৎসকরা  কাজে যোগ দেবেন আজ

ছবি:সংগৃহীত


প্রায় ৩৮ ঘণ্টা পর কর্মবিরতি প্রত্যাহার করেছেন সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ইন্টার্ন চিকিৎসকরা। তবে সঙ্গে ৮ দফা দাবি জুড়ে দিয়েছেন তারা। রবিবার দুপুরে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সাথে বৈঠক শেষে কর্মবিরতি প্রত্যাহারের ঘোষণা দেন ইন্টার্ন চিকিৎসকদের নেতা ডা. মোহাম্মদ সাদিক। 

এর আগে শুক্রবার রাতে চিকিৎসায় অবহেলার অভিযোগ তুলে হাসপাতালে এক নারী ইন্টার্ন চিকিৎসকের ওপর হামলা করেন রোগীর স্বজনরা। প্রতিবাদে শনিবার সকাল থেকে কর্মবিরতি শুরু করেন ইন্টার্ন চিকিৎসক পরিষদ। প্রশাসনের সঙ্গে সমঝোতা না হওয়ায় রোববারও কর্মবিরতি অব্যাহত রাখেন তারা। এতে দুর্ভোগে পড়েন হাসপাতালের রোগীরা। এমতাবস্থায় রোববার দুপুরে ইন্টার্ন চিকিৎসকদের নিয়ে বৈঠকে বসেন হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল উমর রাশেদ মুনিরসহ উর্ধতন কর্মকর্তারা। 

বৈঠক শেষে ইন্টার্ন চিকিৎসক পরিষদের নেতা ডা. মোহাম্মদ সাদিক বলেন, কর্মক্ষেত্রে নিরাপত্তা নিশ্চিতের দাবিতে আমরা কর্মবিরতি শুরু করেছিলাম। কর্তৃপক্ষ আমাদের দাবি পুরণে আশ্বাস দেওয়ায় কর্মবিরতি প্রত্যাহার করে নিচ্ছি। তবে মানসিক প্রস্তুতির বিষয়টি মাথায় রেখে আমরা সোমবার সকাল ৮টা থেকে কাজে যোগ দেবো। 

এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল উমর রাশেদ মুনির বলেন, ইন্টার্ন চিকিৎকরা আমাদের দাবি মেনে কর্মবিরতি প্রত্যাহার করে নিয়েছে। আমরাও তাদের নিরাপত্তার বিষয়টি সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেবো। ইতোমধ্যে হাসপাতালের বিভিন্ন স্পর্শকাতর এলাকায় সার্বক্ষণিক আনসার মোতায়েনের সিদ্ধান্ত হয়েছে। 

আট দফা দাবি হলো- (১) হাসপাতালে প্রতিটি এডমিশন ইউনিটে ২ জন (একজন পুরুষ ওয়ার্ড এবং একজন মহিলা ওয়ার্ড) করে প্রশিক্ষিত আনসার নিয়োজিত থাকতে হবে। এছাড়া ইভিনিংয়ে ১ ঘণ্টা পর পর টহল টিম থাকবে, যারা প্রতিটি ওয়ার্ডে গিয়ে তদারকি করবে। আর রাতে অন কল ইন ইমার্জেন্সি হিসেবে ফোর্স প্রস্তুত থাকতে হবে। (২) রোগীর সাথে সর্বোচ্চ ২ জন এটেন্ডেন্ট থাকতে পারবে। শীতকালীন ও গ্রীষ্মকালীন আলাদা সময়ে ভিসিটিং টাইম চালু করতে হবে। সেক্ষেত্রে কোন অবস্থায় একজন রোগীর সাথে ২ জন এর বেশি এটেন্ডেন্ট থাকতে পারবে না। (৩) পরিচালক এর সাথে প্রতি মাসে ইন্টার্ন চিকিৎসকদের একটা মাসিক সভার ব্যবস্থা করতে হবে। (৪) হাসপাতালে ইন্টার্ন চিকিৎসকদের সাথে সর্বদা মিডলেভেল ডাক্তার থাকতে হবে। বিশেষ করে এডমিশন এর দিন। (৫) অধিকাংশ এসিস্টেন্ট রেজিস্ট্রার ইন্টার্ন চিকিৎসকদের শিক্ষানবিশ সময়ে তাদের প্রয়োজনীয় শিখানোর ব্যাপারে উদাসীন থাকেন, এ বিষয়ে তাদেরকে আরো দ্বায়িত্বশীল হতে হবে। (৬) হাসপাতালে যে পুলিশ বিভাগ নিয়োজিত আছে তাদেরকে হাসপাতালের নিরাপত্তার পরিবেশ সুন্দর রাখতে আরো দ্বায়িত্বশীল ও কার্যকর করতে হবে। (৭) নিয়মিত ভিত্তিতে হাসপাতালে নিয়োজিত আনসার ও আউটসোর্সিং কর্মকর্তাদের বিভিন্ন ওয়ার্ডে রোটেশন করতে হবে। (৮) হাসপাতালে ঔষধ কোম্পানির স্বাধীন প্রবেশাধিকার বন্ধ করতে হবে, প্রয়োজনে নির্ধারিত ভিজিটিং আওয়ার এর ব্যবস্থা করতে হবে। 

প্রসঙ্গত, শুক্রবার রাতে সুনামগঞ্জ থেকে অন্তসত্ত্বা এক নারীকে নিয়ে ওসমানী হাসপাতালে ভর্তি হন তার স্বজনরা। ওই নারীর চিকিৎসা নিয়ে বাগবিতন্ডার জেরে রাত সাড়ে ১১টার দিকে হাসপাতালের চারতলার ৬ নম্বর ওয়ার্ডে এক নারী ইন্টার্ন চিকিৎসকের ওপর হামলা চালান ওই রোগীর স্বজনরা। খবর পেয়ে অন্য ইন্টার্ন চিকিৎক ও হাসপাতালের স্টাফরা জড়ো হলে হাসপাতালে ব্যাপক উত্তেজনা দেখা দেয়। এসময় রোগীর স্বজনরা হাসপাতালে ভাঙচুর চালান। পরে পুলিশ ১ নারী ও দুই পুরুষকে আটক করে। এসময় রোগীর স্বজনদেরও মারধর করা হয় বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। তাদের মধ্যে দুজন আহত হয়ে বেসসরকারি হাসপাাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন। এ ঘটনায় পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে হাসপাতাল কতৃপক্ষ। 

জৈন্তা বার্তা/ ওয়াদুদ