আর্জেন্টিনার হয়ে শেষ ম্যাচটি খেলে ফেললেন কিংবদন্তি লিওনেল মেসি। আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে বিদায় নিলেও আর্জেন্টিনার জার্সিতে তিনি রেখে যাচ্ছেন অমর এক অধ্যায়। ২১ বছরের দীর্ঘ পথচলায় চারটি শিরোপা জয়ের পাশাপাশি গড়েছেন অসংখ্য ব্যক্তিগত রেকর্ড। এর মধ্যে অন্তত চারটি রেকর্ড ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য ভাঙা প্রায় অসম্ভব বলেই মনে করা হচ্ছে।
সবচেয়ে বেশি ম্যাচ খেলার কীর্তি
আর্জেন্টিনার হয়ে সর্বোচ্চ ম্যাচ খেলার রেকর্ড রয়েছে মেসির। এখন পর্যন্ত ২০৭ ম্যাচ খেলেছেন তিনি। শুধু আর্জেন্টিনা নয়, পুরো দক্ষিণ আমেরিকা মহাদেশের জাতীয় দলের খেলোয়াড়দের মধ্যেও এটি সর্বোচ্চ।
আর্জেন্টিনার হয়ে মেসির পর সবচেয়ে বেশি ম্যাচ খেলেছেন হাভিয়ের মাসচেরানো—১৪৭টি। এরপর আনহেল দি মারিয়া ও হাভিয়ের জানেত্তি খেলেছেন ১৪৫টি করে ম্যাচ। ১৩৯ ম্যাচ খেলা নিকোলাস ওতামেন্দি গত বিশ্বকাপের ফাইনালের পর আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে অবসর নিয়েছেন।
সর্বোচ্চ গোলের রেকর্ড
আর্জেন্টিনার হয়ে সর্বোচ্চ গোলের রেকর্ডটিও মেসির দখলে। ২০৭ ম্যাচে তার গোল ১২৬টি। একসময় এই রেকর্ডের মালিক ছিলেন গাব্রিয়েল বাতিস্তুতা। তার ৫৬ গোলের রেকর্ড অনেক আগেই পেরিয়ে গেছেন মেসি। বর্তমান খেলোয়াড়দের মধ্যে মেসির সবচেয়ে কাছাকাছি আছেন লাউতারো মার্তিনেজ। তবে, তার গোলসংখ্যা ৪২টি। ফলে, ব্যবধানটা বেশ বড়।
বিশ্বকাপে গোল ও ম্যাচের রেকর্ড
২০২৬ বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনা চতুর্থ শিরোপা জিততে না পারলেও আসরটি মেসির ক্যারিয়ারে বিশেষ হয়ে থাকবে। বিশ্বকাপের মঞ্চে সর্বোচ্চ গোলদাতা হওয়ার দৌড়ে ফ্রান্সের কিলিয়ান এমবাপের সঙ্গে তার লড়াই ছিল। এমবাপে ২২ গোল নিয়ে শীর্ষে থাকলেও আর্জেন্টিনার হয়ে মেসির গোল ২১টি।
নিজ দেশের খেলোয়াড়দের মধ্যে মেসির ধারেকাছেও নেই গাব্রিয়েল বাতিস্তুতা, যার গোল ১০টি। গিয়ের্মো স্তাবিল ও দিয়েগো ম্যারাডোনা করেছেন ৮টি করে।
বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার হয়ে এবং সব দেশ মিলিয়ে সর্বোচ্চ ৩৪টি ম্যাচ খেলার রেকর্ডও মেসির। আর্জেন্টিনার হয়ে ম্যারাডোনা খেলেছেন ২১টি এবং মাসচেরানো ২০টি ম্যাচ।
বাছাইপর্বেও শীর্ষে মেসি
লাতিন আমেরিকা অঞ্চলের বিশ্বকাপ বাছাইপর্বেও মেসির রেকর্ড অনন্য। সেখানে তার গোল ৩১টি। উরুগুয়ের লুইস সুয়ারেজের সঙ্গে যৌথভাবে তিনি কনমেবলের বিশ্বকাপ বাছাইপর্বের ইতিহাসে সর্বোচ্চ গোলদাতা। তাদের পরের অবস্থানে আছেন বলিভিয়ার মার্সেলো মোরেনো মার্তিন্স ২২ গোল নিয়ে। চিলির আলেক্সিস সানচেজ করেছেন ২০ গোল। আর্জেন্টিনার হার্নান ক্রেসপোর গোল ১৯টি এবং উরুগুয়ের এদিনসন কাভানির ১৭টি।
পেছনে থাকা এসব খেলোয়াড়ের সবাই ইতোমধ্যে আন্তর্জাতিক ফুটবলকে বিদায় জানিয়েছেন। ফলে, বিশ্বকাপ বাছাইপর্বেও মেসির রেকর্ড বেশ নিরাপদ অবস্থানেই রয়েছে।
জৈন্তাবার্তা/আরআর




