দিল্লিতে মমতা-কেজরিওয়ালসহ আটক বহু নেতা
শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:৪৯ অপরাহ্ন

দিল্লিতে মমতা-কেজরিওয়ালসহ আটক বহু নেতা

জৈন্তা বার্তা ডেস্ক

প্রকাশিত: ১০/১০/২০২৬ ০৪:৩৪:৫২ অপরাহ্ন

দিল্লিতে  মমতা-কেজরিওয়ালসহ আটক বহু নেতা

সংগৃহিত


ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে বিক্ষোভ ঘিরে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে রাজধানী নয়াদিল্লি। ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়ায় অনিয়মের অভিযোগ তুলে চলা এ আন্দোলন দমনে ব্যাপক নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়েছে পুলিশ। রাজধানীজুড়ে অভিযান চালিয়ে হাজার হাজার বিক্ষোভকারীকে আটক করা হয়েছে। আটক ব্যক্তিদের মধ্যে রয়েছেন পশ্চিমবঙ্গের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, দিল্লির সাবেক মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়ালসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা ও কর্মী।

শনিবার (১০ অক্টোবর) দিল্লির যন্তর মন্তরে ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) পূর্বঘোষিত বিক্ষোভ কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। বিক্ষোভে যোগ দিতে আসা নেতা-কর্মীদের পাশাপাশি শিক্ষার্থী, অধিকারকর্মী ও বিভিন্ন সংগঠনের সদস্যদেরও আটক করা হয়েছে বলে ভারতীয় সংবাদমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।

মমতা ও কেজরিওয়াল আটক

প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগের দাবিতে ধর্নায় বসার পর দিল্লির সাউথ অ্যাভিনিউ বাসস্ট্যান্ডের কাছ থেকে পশ্চিমবঙ্গের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী ও তৃণমূল কংগ্রেসের নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে আটক করে পুলিশ। তাঁর সঙ্গে তৃণমূলের কয়েকজন সংসদ সদস্যকেও আটক করা হয়। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন ডেরেক ও’ব্রায়েন, দোলা সেন, প্রতিমা মণ্ডল, সামিরুল ইসলাম ও সাকেত গোখলে।

একই দাবিতে চলমান আন্দোলনের মধ্যে দিল্লির লোধি এস্টেটে নিজের বাসার সামনে থেকে আম আদমি পার্টির (এএপি) নেতা ও সাবেক মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়ালকেও আটক করা হয় বলে সংবাদমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে।

এর আগে ত্রিপুরার সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মানিক সরকার এবং কেরালার সাবেক মুখ্যমন্ত্রী পিনারাই বিজয়নকে আটক করে পুলিশ। এ ছাড়া ভারতের কমিউনিস্ট পার্টি (মার্কসবাদী) বা সিপিআই-এমের সাধারণ সম্পাদক এম এ বেবিসহ দলটির কয়েকজন নেতাকেও আটক করা হয়েছে।

৩ হাজার ৩০০ বিক্ষোভকারী আটক

দিল্লি পুলিশের এক কর্মকর্তার বরাতে প্রকাশিত সংবাদে বলা হয়েছে, রাজধানীজুড়ে অভিযান চালিয়ে প্রায় ৩ হাজার ৩০০ বিক্ষোভকারীকে আটক করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে যন্তর মন্তর এলাকা থেকেই আটক করা হয়েছে পাঁচ শতাধিক ব্যক্তিকে।

শুক্রবার দিবাগত রাত থেকেই বিক্ষোভকারীরা যন্তর মন্তরের দিকে জড়ো হতে শুরু করেন। তবে পুলিশ আগে থেকেই বিভিন্ন সড়কে ব্যারিকেড বসিয়ে এবং যানবাহনে তল্লাশি চালিয়ে তাঁদের চলাচলে বাধা দেয়। বিক্ষোভে যোগ দিতে যাত্রা করা বাসগুলোতেও অভিযান চালানো হয়।

আন্দোলন ঘিরে দিল্লিতে ৩৫ হাজারের বেশি পুলিশ ও আধা সামরিক বাহিনীর সদস্য মোতায়েনের খবর পাওয়া গেছে। সংবেদনশীল এলাকায় তিন শতাধিক সিসিটিভি ক্যামেরা বসানো হয়েছে। পাশাপাশি হোটেল, লজ ও বিভিন্ন আবাসিক স্থাপনায় তল্লাশি চালানো হচ্ছে।

উড়োজাহাজ থেকে আটক সিজেপি নেতারা

বিক্ষোভের নেতৃত্ব দিতে দিল্লিতে পৌঁছানোর পর ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দিপকে এবং তাঁর সহযোগী সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্কাকে উড়োজাহাজের ভেতর থেকে আটক করে পুলিশ। দিল্লি বিমানবন্দরে উড়োজাহাজ অবতরণের পর পুলিশ সদস্যরা সেখানে প্রবেশ করেন।

দিপকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত একটি ভিডিওতে দেখা যায়, পুলিশের সঙ্গে তাঁর ও দলের অন্য সদস্যদের কথা-কাটাকাটি হচ্ছে। যাত্রীদের নামার জন্য অপেক্ষা না করে কেন তাঁদের আটক করা হচ্ছে, সে প্রশ্নও তোলেন তাঁরা।

সিজেপির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, অভিজিৎ দিপকে আটক হলে অজিঙ্কা শিন্ডে বিক্ষোভের নেতৃত্ব দেবেন। এ ছাড়া দলটির আইনি বিষয়ক প্রধান রত্না সিংকেও আটক করা হয়েছে। জনপ্রিয় কনটেন্ট নির্মাতা কাব্য কর্ণাটক এবং ইউটিউবার ধ্রুব রাঠিকে আটক করার খবরও প্রকাশিত হয়েছে।

আটক ছাত্রনেত্রী নেহা বোরা

প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগের দাবিতে চলা আন্দোলনে গুরুত্বপূর্ণ মুখ হয়ে ওঠা অল ইন্ডিয়া স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের (এআইএসএ) সভাপতি নেহা বোরাকেও আটক করেছে পুলিশ। ২৯ বছর বয়সী এই ছাত্রনেত্রী দিল্লির জওহরলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয়ের পিএইচডি শিক্ষার্থী।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে নেহা অভিযোগ করেন, আন্দোলনকারীদের আটক করতে গিয়ে দিল্লির বিভিন্ন স্থানে ব্যারিকেড বসানো হয়েছে। রাজধানীতে অবস্থানরত এবং রাজধানীর দিকে যাত্রা করা নাগরিকদেরও আটক করা হচ্ছে বলে দাবি করেন তিনি।

নেহা বলেন, সরকার বিক্ষোভ ব্যর্থ হবে বলে দাবি করলেও আন্দোলন থেমে যাবে না। তাঁর ভাষায়, ‘যন্তর মন্তর ২.০ আসছে।’

এদিকে উত্তর প্রদেশের সাবেক বিজেপি বিধায়ক বিক্রম সিংহের মেয়ে যশস্বিনী রাজে সিংকেও আটক করা হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তিনি জানান, দিল্লির বাংলা সাহিব গুরুদুয়ারার কাছ থেকে তাঁকে আটক করে কেশব পুরম থানায় রাখা হয়েছে।

মুম্বাইয়ে আটক তুষার গান্ধী

দিল্লির আন্দোলনের প্রতি সমর্থন জানিয়ে মুম্বাইয়ে কর্মসূচি পালনের উদ্যোগ নেওয়া মহাত্মা গান্ধীর প্রপৌত্র তুষার গান্ধীকেও আটক করেছে পুলিশ। তিনি ‘হাম ভারত কে লগ’ সংগঠনের সভাপতি।

শনিবার বিকেলে মুম্বাইয়ের আগস্ট ক্রান্তি ময়দানে কর্মসূচি আয়োজনের পরিকল্পনা ছিল তাঁর সংগঠনের। সেখানে যাওয়ার পথে বান্দ্রা এলাকা থেকে তুষার গান্ধীকে আটক করে ডিএন নগর থানায় নেওয়া হয় বলে পুলিশের বরাতে সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে। তাঁর সহযোগীদেরও আটক করা হয়েছে।

পুলিশ জানিয়েছে, কর্মসূচি আয়োজনের অনুমতি চেয়ে আবেদন করা হয়নি। তাই কর্মসূচির অনুমতিও দেওয়া হয়নি।

মোদি সরকারের সমালোচনায় কেজরিওয়াল ও রাহুল

বিক্ষোভকারীদের আটকের ঘটনায় ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের সমালোচনা করেছেন অরবিন্দ কেজরিওয়াল। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া পোস্টে তিনি বর্তমান পরিস্থিতিকে জরুরি অবস্থার চেয়েও খারাপ বলে মন্তব্য করেন। প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগ দাবি করে তিনি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিরও সমালোচনা করেন।

অন্যদিকে কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লিখেছেন, ‘জ্ঞানেশ কুমারকে বিদায় নিতে হবে। এ সরকারকেও বিদায় নিতে হবে। এর পরই গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের কাজ শুরু হবে।’

সিজেপির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দিপকেও বিক্ষোভের আগে সরকারের কঠোর সমালোচনা করেন। তাঁর অভিযোগ, আন্দোলন শুরুর আগেই ব্যাপক ধরপাকড় ও রাজধানীতে চলাচলে বিধিনিষেধ আরোপ সরকারের ভীতির প্রকাশ।

ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন প্রক্রিয়ায় অনিয়মের অভিযোগ এবং প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগের দাবিকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া এই আন্দোলন ঘিরে দিল্লিতে নিরাপত্তা ও রাজনৈতিক উত্তেজনা আরও বেড়েছে।

জৈন্তা বর্তা / ওয়াদুদ



শীর্ষ সংবাদ: