সুনামগঞ্জের ছাতকে ছাত্রলীগের এক নেতার বাড়িতে দিনদুপুরে হামলা চালানো হয়েছে। ফেসবুকে করা মন্তব্যকে কেন্দ্র করে শনিবার (২৭ সেপ্টেম্বর) দুপুরে উপজেলার ছৈলা (ইনাম) গ্রামের ছাত্রলীগ নেতা অনুরঞ্জন সরকারের বাড়িয়ে এ হামলা চালানো হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সম্প্রতি গণঅধিকার নেতা নুরুল হক নুর এবং বিএনপি, জামায়ত-শিবির ও এনসিপি সম্পর্কে নিজ ফেসবুকে মন্তব্য করেন ছাত্রলীগ নেতা অনুরঞ্জন সরকার। এ মন্তব্য করার পর ফেসবুক ম্যাসেঞ্জারে তাকে হুমকি দেয়া হয়। শনিবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে বেশকিছু লোক ছাতক উপজেলার ছৈলা (ইনাম) গ্রামস্থ অনুরঞ্জন সরকারের বাড়িতে হামলা চালায়। হামলাকারীরা ঘরের দরজা-জানালায় ইটপাটকেল নিক্ষেপ এবং বসতঘরে প্রবেশ করে জিনিসপত্র ভাঙচুর করে। একপর্যায়ে তারা অনুরঞ্জনের বড় ভাই রাধাই চন্দ্র সরকারকে মারধর করে রক্তাক্ত করে। যাওয়ার সময় হামলাকারীরা অনুরঞ্জন এবং তার বাবা ও ভাইদের নাম ধরে গালাগালি করার পাশাপাশি বাড়ি ছেড়ে চলে যেতে বলে। অন্যথায় তাদেরকে হত্যা করা হবে বলেও হুমকি দেয়। হামলায় গুরুতর আহত রাধাই চন্দ্র সরকারকে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
হামলার সময় বাড়িতে থাকা অনুরঞ্জন সরকারের বৃদ্ধ মা জানান, দুপুরে হঠাৎ করে বেশকিছু লোক বাড়িতে এসে হামলা ও ভাঙচুর করে। এসময় তারা অনুরঞ্জন এবং তার বাবা ও ভাইদের নাম ধরে অকথ্য ভাষায় গালাগালি করে।
এব্যাপারে ছাতক থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মুখলেছুর রহমান আকন্দ’র সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, বিষয়টির খোজ নিয়ে দেখা হচ্ছে। ঘটনার সাথে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, অনুরঞ্জন সরকার ছাত্রলীগের সাথে সম্পৃক্ত ছিলেন। তিনি সিলেট মদন মোহন কলেজ ছাত্রলীগের পদবীধারী নেতা ছিলেন। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ সরকারের পতন ও শেখ হাসিনার দেশত্যাগের মধ্যদিয়ে দেশে রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট পরিবর্তন হলে দলীয় অনেক নেতাকর্মী আত্মগোপন করেন। তাদের মতো অনুরঞ্জনও আত্মগোপন করেন। তবে একটি সূত্র জানিয়েছে, অনুরঞ্জন ইতোমধ্যে দেশ ছেড়ে বিদেশে পাড়ি দিয়েছেন।
জৈন্তাবার্তা




