ছবি : নিজস্ব
শ্রাবণ মাসের শুরু থেকে আমন রোপণের দৃশ্য চোখে পড়ে। কৃষকদের কেউ জমি প্রস্তুত করেন, কেউ বীজতলা থেকে চারা তোলেন। ব্যস্ততায় কাটে তাঁদের দিন। এই শ্রাবণে রোপণ করা আমন ধান অগ্রহায়ণে ঘরে তুলবেন কৃষকেরা। নতুন ধানের গন্ধে ভরে উঠবে কৃষকের আঙিনা। এমন স্বপ্ন নিয়ে আমন ধানের আবাদ করেছেন গোয়াইনঘাট উপজেলার কৃষকরা। সেই স্বপ্ন এখন সবুজ ধানের কচি চারায় সেজেছে সবুজ রঙে।
গোয়াইনঘাট উপজেলার অধিকাংশ মানুষ জীবিকার জন্য কৃষির উপর নির্ভরশীল। উপজেলা কৃষককুল পুরাপুরি ভাবে তৈরি হয়েছে চাষাবাদের জন্য। আমন রোপনের বীজতলা (হালি) চারার মাঠগুলো সবুজ হয়ে উঠেছে। আর সেই চারা রোপণের জন্য নিজেদের তৈরি করছেন কৃষক। মাঠে মাঠে চলছে জমি তৈরি,বন বাছাই, পাওয়ার টিলার দিয়ে চাষের মাধ্যমে বীজ বপনসহ কোথাও কোথাও চারা উত্তোলন করে রোপণের ধূম পড়েছে। হার না মানা কৃষক নেমে পড়েছে মাঠে। মাত্র ২০ দিনের ব্যবধানে লালচে আর বাদামী রঙের দোআঁশ মাটি পরিণত হয়েছে সবুজে। কচি ধানের চারা হাতছানি দিয়ে ডাকছে কৃষককে । যে দিকে চোখ যায় মাঠের পর মাঠ সবুজের সমারোহ। কৃষকের সোনালী স্বপ্ন লুকিয়ে আছে সবুজ ধানের কচি চারায়। মৃদু বাতাসে দোল খেয়ে মাথা নাড়াচ্ছে ধানের চারা।মাত্র ২০ দিনের ব্যবধানে বেড়ে উঠেছে আমনের চারা। বর্তমানে কোন সংকটে পড়তে হচ্ছে না কৃষকদেরকে। পর্যাপ্ত বৃষ্টি হওয়ায় পানির সংকট ও থাকছে না তাদের। সার, বীজ, কীটনাশক সংকট না থাকার পাশাপাশি কৃষি কর্মকর্তাদের পরামর্শ কৃষকের আমন চাষে গতি বাড়িয়েছে আরো এক ধাপ।
কৃষক মজার আলী জৈন্তাবার্তাকে বলেন,বোরো ধানের ফসল ভালো হওয়ায় প্রতি বছরের ন্যায় আমান আবাদও করছেন।
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়,এবার আমন আমাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ১৭২৬৫ হেক্টর।তার মধ্যে রয়েছে হাইব্রিড উফসী ও স্থানীয় জাতের ধান। বীজ তলার লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৭২১ হেক্টর। যা শতভাগ অর্জন হয়েছে।
উপজেলার কৃষকরা তপ্ত দুপুরে প্রখর রৌদ্রে আমন ধানের জমি তৈরিতে মাথার ঘাম পায়ে ফেলছেন। তীব্র তাপদাহ, বারী বর্ষণ, আর বজ্রবৃষ্টির বৈরি আচরণকে উপেক্ষা করে জমি তৈরি করতে কৃষকরা নানা কাজে ব্যস্ত রয়েছেন। কেউবা পাওয়ার টিলার ও ট্রাক্টরের সাহায্যে হালচাষ করছেন। বৃষ্টির জমানো পানি যেন কোনোভাবে নিষ্কাশন হতে না পারে, এ জন্য জমির চতুর্থ দিকে মাটির শক্ত আইল তৈরি করা হচ্ছে, আবার কোনো জমি থেকে অতিরিক্ত পানি সরিয়ে দেওয়ায় ব্যস্ত কৃষকরা।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার রায়হান পারভেজ রনি জৈন্তাবার্তাকে জানান, উপজেলার পশ্চিম আলীরগাঁও,পূর্ব আলীরগাঁও, পূর্ব জাফলং, পশ্চিম জাফলং, ফতেপুর,ডৌবাড়ী, রুস্তমপুর, তোয়াকুল ও নন্দীরগাঁও ইউনিয়ন মিলে প্রায় ৩০০০ হেক্টর জমির আমন রোপন হয়ে গেছে। এ পর্যন্ত হালির চারায় কোন ধরনের রোগ বালাই নেই। তাই কৃষকরা স্বস্তিতে আছেন। তিনি জানান, গত বছরের চাইতে এ বছরের আমান আবাদের লক্ষ্যমাত্রা বৃদ্ধি পেয়েছে এবং এই বছরও লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
এম সি




