গোয়াইনঘাটে দেশি মাছের সংকট: তেলাপিয়া ও পাঙ্গাসে ভরসা
শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬, ০৫:১১ PM

গোয়াইনঘাটে দেশি মাছের সংকট: তেলাপিয়া ও পাঙ্গাসে ভরসা

সৈয়দ হেলাল আহমদ বাদশা, স্টাফ রিপোর্টার

প্রকাশিত: ১৬/০৮/২০২৩ ০১:৩৮:৫৭ AM

গোয়াইনঘাটে দেশি মাছের সংকট: তেলাপিয়া ও পাঙ্গাসে ভরসা

ছবি: গোয়াইনঘাট প্রতিনিধি


হাওর-খাল-বিল অধ্যুষিত সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলার স্হানীয়  বাজারগুলোতে দেশি মাছের সংকট দেখা দিয়েছে। বাজার দখল করে রেখেছে পুকুরে বা ফিসারীতে চাষকৃত নানা প্রজাতির মাছ।

গোয়াইনঘাট সদর কোম্পানীগঞ্জের মোহনায় অবস্থিত গোয়াইনঘাট উপজেলার ঐতিহ্যবাহী শতবর্ষী সালুটিকর বাজার। যে বাজারটি দেশি মাছ ও বিভিন্ন দেশীয় জিনিসপত্রের জন্য অত্যন্ত সুপরিচিত।

সেই বাজার বর্তমানে দেশীয় মাছের আকালে নিমজ্জিত।তেলাপিয়া পাংকাশ কার্পসহ বিভিন্ন প্রজাতির ফিসারীর মাছে ভরপুর। তাও আবার দাম সাধারন ক্রেতাদের নাগালের বাইরে। ২০০ টাকা থেকে শুরু করে আড়াইশো ও ৪০০ টাকা পর্যন্ত কেজি আকারে মাছ বিক্রি হয়।

সরেজমিন ঘুরে ও খোজ নিয়ে জানা যায়, দেশীয় মাছ না থাকায় উপজেলার বিভিন্ন বাজারে দখল করে আছে পুকুরের তেলাপিয়া আর পাঙ্গাস মাছ। পুকুরের এ দুটি মাছ এখন অনেকের সহ্য না হলেও বর্তমানে তেলাপিয়া আর পাঙ্গাস মাছই এখাকার মানুষের একমাত্র ভারসা। উপজেলার বাজারগুলোতে বর্তমানে শিং, পুটি, টেংরা, মলা, পাবদা, খলিশা, কৈ, টাকি, রই, বাইম, গুলশা, বোয়াল, চাপিলা, চিংড়ি, মাগুরসহ বিভিন্ন প্রজাতীর দেশীয় মাছ এখন চোখে পড়ছেনা। উপজেলার  অনেকেই ভরা মৌওসুমে হাওরের দেশীয় প্রজাতীর মাছ বাজারে না থাকায় অনেকটা হতাশা প্রকাশ করেছেন।কৃষক সামছুর রহমান বলেন, বিভিন্ন হাওর ও নদী থেকে দেশীয় মাছ আহরণকারীরা স্থানীয় বাজারগুলোতে বিক্রি না করে সিন্ডিকেটের মাধ্যমে মাছ ব্যবসায়ীরা কিনে বিভিন্ন শহরের মাছের আড়তদারদের কাছে তা বিক্রি করছে। যার ফলে উপজেলার বাজারগুলোতে এখন আর দেশীয় মাছ পর্যাপ্ত পরিমাণ দেখা যাচ্ছেনা। মৎস্য আহরণকারীরা যদি হাওরে মাছ ধরে আড়তদারদের কাছে বিক্রি না করে উপজেলার বাজারগুলোতে বিক্রি করে তাহলে স্থানীয়দের কাছে দেশীয় মাছের অভাব হবে না।


সংশ্লিষ্টরা বলছেন, হাওরে পানি না থাকায় ও মা মাছ শিকার করায় দেশি প্রজাতির মাছের সংকট দেখা দিয়েছে। তবে বৃষ্টি হলে দেশি মাছ পাওয়া যাবে বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা।


স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, হাওরবেষ্টিত এ অঞ্চলে এবার বৃষ্টি কম হওয়ায় পানিশূন্য খাল ও বিল। এ ছাড়া বৈশাখ, জ্যৈষ্ঠ ও আষাঢ় মাসে মা মাছ হাওরে ডিম পাড়ে। ডিম থেকে পোনা মাছের জন্ম হয়। কিন্তু এবার পানি না থাকায় নেই মা মাছও। বৃষ্টি না হওয়ায় এ সমস্যা আরও বেড়েছে।



মৌসুম অনুযায়ী, এ সময়ে রুই, কাতল, চিতল, বোয়াল, পুটি, টেংরা, বাইম, পাবদা, শিং-মাগুর, চিংড়িসহ নানা প্রজাতির দেশীয় মাছ হাওরের খাল, বিল ও নদী-নালায় ভরপুর থাকার কথা। কিন্তু পানি না থাকায় এসব দেশি মাছের দেখা মিলছে না। ফলে মাছের বাজার দখল করে নিয়েছে চাষের মাছ। বাধ্য হয়ে এসব মাছ বেশি দামে কিনে খেতে হচ্ছে উপজেলার বাসিন্দাদের।


স্থানীয়রা জানান, এ বছর পর্যাপ্ত বৃষ্টি না হওয়ায় পোনা মাছ কম; যা আছে কয়েকদিন পর বড় হবে। নদীতে নতুন পানি এলে এসব মাছ ছড়িয়ে পড়বে হাওরে। তখন জেলেদের জালে প্রচুর মাছ ধরা পড়বে। সে সময় মাছের দামও কম থাকে। তখন ১০০ থেকে ১৫০ টাকা হলেই একটি পরিবারের মাছের চাহিদা মিটে যাবে।


উপজেলার বিভিন্ন বাজারে ঘুরে দেখা গেছে, ব্যবসায়ীরা ফার্মের পাঙাশ, তেলাপিয়া, পাবদা, সিলভার কার্প ও কই মাছ নিয়ে বসে আছেন। দামের বিষয়ে খোঁজ নিয়ে দেখা গেল, অধিকাংশ মাছই চড়া দামে বিক্রি হচ্ছে।


দেশি মাছ না থাকার কারণ জানতে চাইলে শ্রী ধীরেন নমঃ নামে এক ব্যবসায়ী বলেন, হাওরে পানি নেই, তাই বাজারে দেশি মাছও নেই। বৃষ্টি হলেই ছোট মাছ পাওয়া যাবে।


উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মাসরুপা তাছলিম বলেন, অবৈধ কারেন্ট জাল ও চায়না দুয়ারী জালের কারণে মাছের বংশবিস্তারে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। ফলে দেশি প্রজাতির মাছ কমে যাচ্ছে। এ ছাড়া ডিমওয়ালা মাছ ও পোনা নিধন বন্ধ করতে হবে। মা ও পোনা মাছ শিকারিদের বিরুদ্ধে অভিযান চলছে এবং বাজার মনিটরিংয়ের মাধ্যমে জরিমানা করা হচ্ছে। তিনি বলেন,দেশি মাছের ফলন বৃদ্ধিতে এলাকার জনপ্রতিনিধি সহ এলাকার  সবাইকে সচেতন ও সোচ্চার হতে হবে।

এস.ডি



শীর্ষ সংবাদ: