ছবি: সংগৃহীত
জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফশিল ঘোষণা হওয়ার কথা আগামী নভেম্বরে। কিন্তু সিলেটে নির্বাচন নিয়ে অনেকটাই নিষ্ক্রিয় ইসলামী দলগুলো। কিন্তু একসময় সিলেটে ইসলামী দলগুলোর ব্যাপক প্রভাব ছিল। নিজস্ব ভোটব্যাংক থাকায় বড় দলগুলোর কাছে ব্যাপক কদরও ছিল তাদের। কিন্তু নিজেদের মধ্যে বিভক্তি ও নেতৃত্ব সংকটের কারণে দিন দিন দুর্বল হয়ে পড়েছে ইসলামী দলগুলো।
বর্তমানে মাঝে মধ্যে ধর্মীয় বিভিন্ন ইস্যূতে শুক্রবার জুমার নামাজের পর সমাবেশ করা ছাড়া সিলেটের রাজপথে দলগুলোর কর্মসূচি তেমন দেখা যায় না। কয়েকটি আসনে শুধুমাত্র খেলাফত মজলিস ছাড়া অন্য কোন দলের প্রার্থীদের তৎপরতাও পরিলক্ষিত হচ্ছে না।
সিলেট জেলার ৬টি সংসদীয় আসনের প্রত্যেকটিতে রয়েছে ইসলামী রাজনৈতিক সংগঠনগুলোর ভোট ব্যাংক। মাদ্রাসাভিত্তিক নেতাকর্মীদের উপর ভিত্তি করে নগরের ভেতরও ইসলামী দলগুলোর শক্ত অবস্থান ছিল। ফলে যে কোন ইস্যূতে তারা বিশাল জমায়েত করতে পারতো। কিন্তু দলীয় বিভক্তি ও মতদ্বৈততার কারণে এখন আর ইসলামী দলগুলোর আগের অবস্থান নেই। আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়েও অনেকটা অগোছালোভাবে চলছে দলগুলোর কার্যক্রম। জনদাবি কিংবা রাষ্ট্রীয় ইস্যূ নিয়ে সর্বশেষ কবে কী কর্মসূচি পালন হয়েছিল সেটাও বলতে পারছেন না অনেক দলের নেতারা।
গত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সিলেট জেলার সবকটি আসনে প্রার্থী দিয়েছিল ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ। সম্প্রতি শেষ হওয়া সিলেট সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মেয়র পদেও প্রার্থী দেয় দলটি। কিন্তু বরিশাল সিটি নির্বাচনের দিন দলীয় প্রার্থী ও দলের সিনিয়র নায়েবে আমীর মুফতি ফয়জুল করিম হামলার শিকার হলে সিলেটেও নির্বাচন বর্জনের ডাক দেয় দলটি। ফলে মাঝপথে প্রচারণা বন্ধ করে ঘরে ফিরতে হয় ইসলামী আন্দোলনের মেয়র প্রার্থী মাওলানা মাহমুদুল হাসানকে। এরপর আর রাজপথে দেখা যায়নি সংগঠনটিকে। যদিও দলের নেতারা বলছেন, সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে তারা তৃণমূল পর্যায়ে দলকে আরও শক্তিশালী করার মিশনে আছেন।
সিলেট মহানগর ইসলামী আন্দোলনের সাধারণ সম্পাদক ও কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা মাহমুদুল হাসান বলেন- জাতীয় সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবিতে তাদের দলের পক্ষ থেকে সিলেটে বিক্ষোভ মিছিল হয়েছে। এখন তৃণমূল পর্যায়ে কাজ চলছে। ওয়ার্ড ও থানা পর্যায়ে তৃণমূল সমাবেশের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এরপর জেলা, মহানগর ও বিভাগীয় পর্যায়ে সমাবেশ হবে। তিনি বলেন, গত সিটি নির্বাচনে দেখা গেছে সরকার কতটুকু মারমুখী। এজন্য আগামী নির্বাচনের জন্য দলকে সুসংগঠিত ও শক্তিশালী করার বিকল্প নেই।
সিলেটের রাজপথে একসময় দুর্দ-প্রতাপ ছিল খেলাফত মজলিসের। সিলেটের নেতৃত্বে ছিলেন প্রিন্সিপাল মাওলানা হাবিবুর রহমান। যে কোন ইস্যূতে সমাবেশের ডাক দিলে সিলেট নগরীতে হাজার হাজার মানুষের উপস্থিতি ঘটতো। খেলাফত মজলিসের বিভক্তির পর তিনি একাংশের আমীর নির্বাচিত হন। মৃত্যুর পূর্ব পর্যন্ত তিনি সেই দায়িত্ব পালন করেন। এখন প্রিন্সিপাল হাবিবুর রহমানের খেলাফত মজলিস সিলেটে অনেকটাই নিষ্ক্রিয়। কোন ইস্যূতেই তাদেরকে আর মাঠে দেখা যায় না।
দ্রব্যমূল্যের উর্ধ্বগতিসহ বিভিন্ন ইস্যূতে খেলাফত মজলিস সকল উপজেলা পর্যায়ে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করেছে। জেলা ও মহানগর পর্যায়েও নানা কর্মসূচি পালিত হচ্ছে জানিয়ে মাওলানা দেলওয়ার হোসেন বলেন, সিলেট-১ ছাড়া বাকি সবগুলো আসনে দলীয় প্রাথীরা কাজ করছেন।
সিলেটে জমিয়তে উলামায়ে ইসলামেরও শক্তিশালী অবস্থান ছিল একসময়। কওমি মাদ্রাসাভিত্তিক তাদের ছিল ভোট ব্যাংক। কিন্তু সেই অবস্থান ধরে রাখতে পারেনি দলটি। গত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সিলেট-৫ আসনে ২০ দলীয় জোটের মনোনয়ন নিয়ে প্রার্থী হয়েছিলেন জমিয়ত নেতা মাওলানা উবায়দুল্লাহ ফারুক। নির্বাচনে শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে হেরে যান তিনি। কিন্তু আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে সিলেটের কোন আসনেই খুব বেশি তৎপরতা নেই দলটির।
এ প্রসঙ্গে সিলেট মহানগর জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের সিনিয়র সহ-সভাপতি হাফেজ মাওলানা আবদুর রহমান সিদ্দিকী বলেন- গত সংসদ নির্বাচনে জমিয়ত জোটবদ্ধভাবে অংশ নিয়েছিল। এবার দলটি বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোট থেকে বের হয়ে এসেছে। তাই আগামী নির্বাচনে কিভাবে অংশ নেবে তা এখনো সিদ্ধান্ত হয়নি।
এদিকে, গত সিটি নির্বাচনে প্রার্থীতা ঘোষণা দিয়েছিল জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম। সিলেট মহানগর জমিয়তের সহ-সভাপতি হাফেজ মাওলানা আবদুল্লাহকে প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা দেওয়া হয়। কিন্তু মনোনয়ন দাখিলের আগেই প্রার্থীতা প্রত্যাহারের ঘোষণা দেয় দলটি।
এছাড়া সিলেটের রাজপথে দীর্ঘদিন ধরে কর্মসূচী পালন করতে দেখা যায়নি মরহুম ফুলতলী পীরের দল আঞ্জুমানে আল ইসলাহ, জাকের পার্টি, জমিয়তে উলামা বাংলাদেশ, ইসলামী ঐক্যজোট ও নেজামে ইসলামপার্টিকে। নির্বাচন নিয়েও তাদের মধ্যে কোনো প্রস্তুতি পরিলক্ষিত হচ্ছে না।
এম সি




