প্রতিশ্রুতিতে ৫২ বছর পার: পাকা হয়নি বোগলাবাজার-বক্তারপূর রাস্তা
রবিবার, ০৩ মে ২০২৬, ১২:২৬ AM

ভোগান্তি চরমে

প্রতিশ্রুতিতে ৫২ বছর পার: পাকা হয়নি বোগলাবাজার-বক্তারপূর রাস্তা

মামুন মুন্সি, দোয়ারাবাজার

প্রকাশিত: ১৬/০৯/২০২৩ ০৯:৫৯:৫২ AM

প্রতিশ্রুতিতে ৫২ বছর পার: পাকা হয়নি বোগলাবাজার-বক্তারপূর রাস্তা

ছবি : নিজস্ব


সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজার উপজেলার বোগলাবাজার থেকে বক্তারপুর পশ্চিম বাংলাবাজার যাওয়ার কাঁচা রাস্তাটি ৫২ বছরে পাকা হয়নি। দেখে বোঝার উপায় নেই এটি কোনো রাস্তা! বোগলাবাজার থেকে বক্তারপুর পশ্চিম বাংলাবাজার যাওয়ার কাঁচা রাস্তাটিতে দুর্ভোগ নিত্যদিনের। ব্যবহারকারীরা বলছেন, একদিনের বৃষ্টিতে তিন দিন চলার অনুপযোগী থাকে এটি। রাস্তার এই দুদর্শায় ১৫ গ্রামের প্রায় ৮০ হাজার মানুষ ভোগান্তিতে পড়েন। দেশ স্বাধীনের ৫২বছর পার হলেও প্রতিশ্রুতিতেই আটকে আছে কাঁচা সড়কটি পাকা করার দাবি।

সেখানে গিয়ে দেখা যায়, রাস্তাটিতে সিএনজি অটোরিকশা ছাড়া অন্য কোনো যানবাহন চলাচল করে না। বৃষ্টি হওয়ায় বোগলাবাজার ইউনিয়নের নোয়াডর জসিম মাষ্টারের বাড়ী থেকে বক্তারপুর খেয়াঘাট পর্যন্ত প্রায় চার কিলোমিটার রাস্তার বিভিন্ন স্থানে  কাদাপানি জমে গেছে। মালবাহী ভ্যান গাড়ির পেছন থেকে  কয়েকজন মিলে ধাক্কা দিয়ে রাস্তাটির এই কাঁচা অংশ পার হচ্ছেন। স্থানীয়রা বলছেন সড়কের বেহাল দশার কারণে স্বাস্থ্যসহ অনেক সুবিধা থেকেই বঞ্চিত হচ্ছেন তারা।

কাঠালবাড়ী সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত  প্রধান শিক্ষক  আব্দুল মান্নান  বলেন, স্বাধীনতার ৫২ বছর ধরে অল্প কিছু মাটি ভরাট, মাপজোক ও সয়েল টেস্ট ছাড়া রাস্তার কোনো দৃশ্যমান উন্নয়ন দেখতে পাইনি। এই যুগে বাংলাদেশের আর কোথাও এমন রাস্তা দেখা যায় না। আমরা বছরের পর বছর মানববন্ধন করেছি এবং রাস্তা নির্মাণের দাবিতে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করেছি, কিন্তু কোনো ফল হয়নি।’

বাঘমারা  গ্রামের বাসিন্দা আবুল কাশেম  বলেন, ‘বর্ষা মৌসুমে রাস্তাটির এমন দশা হয় যে, আমরা পায়ে হেঁটেও পশ্চিম বাংলাবাজার ও বোগলাবাজার পৌঁছাতে পারি না।’

একই গ্রামের  বাসিন্দা জাকির হোসেন  বলেন, ‘মাত্র চার কিলোমিটার কাঁচা রাস্তার জন্য লক্ষীপুর  ও বোগলাবাজার ইউনিয়নের ১৫ গ্রাম এখনো পিছিয়ে আছে। আধুনিক যুগে বাস করেও এই ১৫ গ্রামের মানুষ জরুরিভিত্তিতে কোনো রোগীকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যেতে পারে না। কৃষকরাও তাদের উৎপাদিত পণ্য নিয়ে দূরের বাজারে যেতে পারে না।’

এই রাস্তায় চলাচলকারী অটোরিকশাচালক গোলাপ হোসেন  বলেন, ‘গাড়িতে যাত্রী নিয়ে এ রাস্তা দিয়ে চলাচল করাটা ‍খুবই কষ্টের, দুর্ভোগের। কাদা মাড়িয়ে চলতে হয় বলে প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটে এবং গাড়ির পার্টস নষ্ট হয়ে যায়।’

স্থানীয়রা জানান প্রায় চার কিলোমিটার কাচা রাস্তা পাকাকরণ  না হওয়ায় যাতায়াত ও পণ্য পরিবহনে দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন ২টি ইউনিয়নের প্রায় ১৫টি গ্রামের মানুষ। সড়কটি ইউনিয়নের সীমান্তবর্তী হওয়ায় ডিজিটাল যুগেও উন্নয়নের ছোঁয়া মেলেনি। প্রতিদিন অন্তত ১৫টি গ্রামের মানুষ মাটির কাঁচা সড়ক  দিয়ে যাতায়াত করে থাকেন। বিশেষ করে লিয়াকতগঞ্জ স্কুল অ্যান্ড কলেজ, ক্যাপ্টেন হেলাল খছরু উচ্চ বিদ্যালয়, বোগলা রোসমত আলী-রামসুন্দর স্কুল এন্ড কলেজ, কাঁঠালবাড়ী সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় বিদ্যালয়, বক্তারপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়, পেস্কারগাও দাখিল মাদ্রাসা ও অফিস আদালতসহ বিভিন্ন জায়গার কলেজের শিক্ষার্থীদের যাতায়াতসহ মালবাহী গাড়ি চরম দুর্ভোগের শিকার হতে হচ্ছে। একটু বৃষ্টি হলেই সড়কে হাঁটু পানি, কাদা জমে স্কুল কলেজের শিক্ষার্থীদের যাতায়াতে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়। কাদায় পোশাক নষ্ট হয়ে যায়। তাই অতি দ্রুত এ  সড়ক পাকাকরণ করা  না হলে দিনদিন জনসাধারণের দুর্ভোগ ও ভোগান্তি চরমে পৌঁছাবে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।

রাস্তার বিষয়ে জানতে চাইলে দোয়ারাবাজার  উপজেলা স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদফতরের (এলজিইডি)প্রকৌশলী আব্দুল হামিদ জানান, এই রাস্তাটি আমাদের স্কিমে অন্তর্ভুক্ত করা আছে।অনুমোদন পেলে এটি পাকাকরণ করা হবে।

এম সি