ছবি:সংগৃহীত
দেশি মাছে জমে উঠা মাছের মেলায় ঢুকতেই সারি সারি দোকানগুলোতে চোখে পড়ে মন-জুড়ানো সব মাছের পসরা। দূরদূরান্ত থেকে বিক্রেতারা এসেছেন মাছ বিক্রির জন্য। দোকানগুলোতে থরে থরে সাজানো মাছগুলো প্রায় সবই বড় আকারের। মেলায় ছোট মাছ নেই বললেই চলে। আছে বড় বড় বোয়াল রুই, কাতলা, মৃগেল, সিলভার কার্প ও পাঙাশ মাছ। আকারভেদে হাজার টাকা থেকে শুরু করে মেলা সবোর্চ্চ দামের মাছ ছিল ৭৫ হাজার টাকা। দিবারাত্রী এ মেলায় অন্তত কোটি টাকার মাছ কেনাবেচা হয়েছে। চাষের মাছের পাশাপাশি নদীর বাঘাইর, আইড়, গাঙচিতল, কাইক্কা এবং দু-এক ধরনের সামুদ্রিক মাছও উঠেছে এ মেলায়। সবাই দরদাম করে মাছ কিনছেন। তবে মাছের এ মেলায় প্রবাসীদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো।
রোববার সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলার মিরপুর বাজারে দিবারাত্রি এ মাছের মেলার আয়োজন করা হয়েছে।
মেলার আয়োজকরা জানান, মিরপুর বাজার ব্যবসায়ী মরহুম ফয়সল মিয়ার উদ্যোগে ৯ বছর আগে প্রথমবারের মতো এ মেলার আয়োজন করা হয়। এরই ধারাবাহিকতায় এবার ৯ তম এ মেলার আয়োজন করে মিরপুর বাজার ব্যবসায়ী কমিটি। বর্তমানে এ মেলায় শুধু জগন্নাথপুর উপজেলার বাসিন্দারা নন, পার্শ্ববর্তী সিলেটের বিশ্বনাথ উপজেলাসহ দূর-দূরান্ত থেকেও লোকজন আসেন মেলায় মাছ কিনতে। মেলাটি ঘিরে আশপাশের প্রায় ৩০টি গ্রামের মানুষ মধ্যে এক উৎসব বিরাজ করে। তবে মেলায় প্রবাসী ক্রেতাদের সংখ্যাই ছিল বেশি। প্রবাসীদের অংশগ্রহণে মেলাটি প্রাণবন্ত হয়ে উঠে। বাড়ে বেচাকেনা।
কথা হয় মাছ কিনতে আসা যুক্তরাজ্য প্রবাসী আব্দুস শহিদ তকলিছ মিয়ার সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘মেলায় এতো বড় বড় মাছ উঠেছে যা আমরা লন্ডনেও পাইনা। এখানে দেশিয় নদী ও হাওরের অনেক বড় বড় মাছ পাওয়া যায়। তাই প্রতি বছর এই মেলার জন্য অপেক্ষা করি আর এ মৌসুমে পরিবার নিয়ে দেশে চলে আসি।
আরেক প্রবাসী আজিজুর রহমান বলেন, গত বছরের চেয়ে এবারের মেলায় প্রচুর মাছ উঠেছে, কিন্তু দামও একটু বেশি। মেলায় বহু ক্রেতা ও দর্শনার্থীদের দেখে ভালো লাগছে। আসলে গ্রামীন জীবন থেকে এ উৎসবগুলো হারিয়ে যাচ্ছে। এ রকম উৎসবে অংশ নিতে পারলে ব্যস্ততম জীবনে কিছুটা হলেও প্রশান্তি আসে। তাই দেশে ছুটে আসি।
মাছ ব্যবসায়ী আমির আলী বলেন, ‘প্রতিবারেই মেলায় ভালোই লোকজন আসে; এবারও এসেছেন। দেশি ও মাঝারি আকারের মাছের প্রতি ক্রেতাদের চাহিদা বেশি।
মিরপুর বাজার ব্যবসায়ী কমিটি সেক্রেটারি শফিক উদ্দিন বলেন, গতবারের চেয়ে এবার মেলায় অনেক বড় বড় মাছ বিক্রি হয়েছে। শতাধিক দোকান বসেছিল। এবার প্রায় কোটির মাছ কেনাবেচা হয়েছে।
মিরপুর বাজার ব্যবসায়ী কমিটি সভাপতি বাদশা মিয়া বলেন, দিন দিন এ মেলাটি ব্যাপক জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। এটি এখন এলাকার ঐতিহাসিক উৎসবে পরিনত হয়েছে। আমরা ব্যবসায়ী কমিটি পক্ষ থেকে প্রতি বছর এ মেলার আয়োজন করব।
জৈন্তা বার্তা/ ওয়াদুদ




