সংগৃহীত
পাকিস্তানকে নারী দলকে মাত্র ৫৫ রানে অলআউট করে দিয়েছে ভারত নারী দল। টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে এটাই দলটির সর্বনিম্ন দলীয় সংগ্রহ। মাত্র ২৯ বলের মধ্যে ৮ রানে ৬ উইকেট হারিয়ে বিপাকে পড়ে পাকিস্তান। সেই ধাক্কা আর সামলে উঠতে পারেনি তারা। শেষ পর্যন্ত ২০ ওভারও ব্যাট করতে পারেনি দলটি।এদিকে ভারতীয় অধিনায়ক হরমনপ্রীত কৌরও গড়েছেন নতুন ইতিহাস। নারী ও পুরুষ—উভয় ক্রিকেট মিলিয়ে প্রথম খেলোয়াড় হিসেবে টি-টোয়েন্টি আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ১৫০ ম্যাচে দলকে নেতৃত্ব দেওয়ার কৃতিত্ব অর্জন করেন তিনি। পাকিস্তানের প্রতিটি উইকেট পতনই তিনি দারুণ উচ্ছ্বাসে উদ্যাপন করেছেন। পরে জয়সূচক রানও এসেছে তার ব্যাট থেকেই।পুরোনো ধাঁচের বাঁহাতি স্পিন যেন আবারও ফিরে আসছে। পুরুষদের ক্রিকেটে ভারত পেয়েছে মানব সুতারকে, আর নারী দলে আগে থেকেই আছেন এন শ্রী চরণী। বিশ্ব র্যাঙ্কিংয়ে টি-টোয়েন্টি আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের এক নম্বর বোলার শ্রী চরণী শনিবার নিজের প্রথম ওভারেই দুটি উইকেট তুলে নেন।বলকে বাতাসে ভাসিয়ে দেওয়ায় গুল ফিরোজা ক্রিজ ছেড়ে বেরিয়ে আসেন। বল ভেতরের দিকে ঘুরে আসায় তিনি লেগ সাইডে খেলতে চেয়েছিলেন। এরপর বল নিচে নেমে ঘুরে যাওয়ায় ব্যাটে লেগে তা উঠে যায় পয়েন্ট অঞ্চলে। সহজ ক্যাচ নেন ফিল্ডার। বোলার তার কাজটি নিখুঁতভাবে করেছেন, আর ব্যাটার ভুল করেছেন প্রায় সবকিছুতেই।পাকিস্তানের ব্যাটারদের মধ্যে একমাত্র শাওয়াল জুলফিকারই ভারতীয় বোলারদের ওপর কিছুটা চাপ তৈরি করতে পেরেছিলেন। তবে শ্রী চরণী তাকে ১৪ বলে ১৪ রানে এলবিডব্লিউ করে ফেরান। এরপর পাকিস্তানের ব্যাটিংয়ে নামে ধস।নিজেদের ২০০তম টি-টোয়েন্টি আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলতে নেমেছিল পাকিস্তান। একসময় তাদের সংগ্রহ ছিল বিনা উইকেটে ২৭ রান। সেখান থেকে মাত্র ৩৫ রানে ৬ উইকেট হারায় তারা, আর তখনও ইনিংসের অর্ধেক ওভার শেষ হয়নি।ঝুঁকিমুক্তভাবে রান করার কোনো পথই খুঁজে পাচ্ছিল না পাকিস্তান। দীর্ঘ সময় ধরে বল ছেড়ে দিতে হয়েছে, আর সেই চাপ থেকে বের হতে গিয়ে কম সম্ভাবনার শট খেলেছে ব্যাটাররা। দুবাইয়ের উইকেটে বল বেশ ভালোভাবে ঘুরছিল। কিন্তু ব্যাটাররা অনেক সময় বলের ঘূর্ণির বিপরীতে শট খেলেছেন।
দুই উদ্বোধনী ব্যাটার ছাড়া আর কেউ দুই অঙ্কের রান করতে পারেননি। একমাত্র জুলফিকারই বলপ্রতি প্রায় এক রান করে খেলতে পেরেছেন।প্রেমা রাওয়াত ৪ ওভারে মাত্র ৯ রান দিয়ে ৩ উইকেট নিয়েছেন। তার করা ২৪ বলের ১৯টিই ছিল ডট বল।লেগ স্পিনার হিসেবে তার এই বোলিং আরও উল্লেখযোগ্য। সাধারণত লেগ স্পিনাররা প্রায় খাড়া অবস্থান থেকে বল ছাড়েন। শেন ওয়ার্নের ক্ষেত্রেও এমনটাই দেখা যেত। এরপর কবজির মোচড়ে বলকে ঘোরানো হয়, আর তাতে কখনো দুর্দান্ত ফল আসে, কখনো একেবারেই আসে না।রাওয়াতের বল ছাড়ার ধরন রশিদ খানের মতো প্রায় পুরোপুরি খাড়া। তবে তিনি কবজি খুব বেশি ঘোরান না। বেশির ভাগ সময় হাতের সামনের অংশ থেকে শুধু বলটিকে ছুড়ে দেন। এতে বল বেশি ঘোরে না ঠিকই, কিন্তু নিয়ন্ত্রণ অনেক বেড়ে যায়। টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে এই সমঝোতা যথেষ্ট কার্যকর।রাওয়াতের নিয়ন্ত্রিত লাইন ও লেংথের বিপক্ষে পাকিস্তানের কেউই স্বচ্ছন্দে রান করতে পারেনি। সদাফ শামাস আক্রমণাত্মক শট খেলতে গিয়ে নিজের প্যাডে বল লাগিয়ে বোল্ড হয়ে ফেরেন।
ম্যাচের আগে দীপ্তি শর্মা বলেছিলেন, ভারত পাকিস্তানের চেয়ে এক ধাপ এগিয়ে আছে। মাঠের খেলাতেও তার প্রতিফলন দেখা গেছে।প্রতিকা রাওয়াল দুটি ক্যাচ ফেলেছিলেন। তাতেও ভারতের জয় আটকায়নি। এমনকি দীপ্তি শর্মা একটি রানআউটের সুযোগ প্রায় নষ্ট করে ফেলেছিলেন। তবে এয়মান ফাতিমা ও উম্মে-হানির মধ্যে ভুল বোঝাবুঝি এতটাই বড় ছিল যে বল তুলে স্টাম্প ভেঙে উইকেট নিশ্চিত করার জন্য যথেষ্ট সময় পেয়েছিল ভারত।পাকিস্তানের জন্য স্বস্তির বিষয়, তারা এখনো সেমিফাইনালে ওঠার দৌড়ে রয়েছে। পরের ম্যাচে হংকংকে হারাতে পারলেই তাদের সম্ভাবনা টিকে থাকবে। তবে ব্যাটিংয়ের এই দুর্বলতা অব্যাহত থাকলে নকআউট পর্বে বড় সমস্যায় পড়তে পারে দলটি।ভারতও রান তাড়ায় শুরুতে কিছুটা চাপে পড়ে। দ্বিতীয় ওভারেই ফাতিমা সানা দুটি উইকেট তুলে নেন। তার শিকার হন শেফালি ভার্মা, যিনি টি-টোয়েন্টি আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ৩ হাজার রান পূর্ণ করেন।এরপর কিছুটা বিতর্কিত এলবিডব্লিউ সিদ্ধান্তে ফাতিমা সানার বলে আউট হন স্মৃতি মান্ধানা। উইকেটের ওপর দিয়ে করা বলটি লেগ স্টাম্পের সামান্য বাইরে পড়েছিল বলে মনে হচ্ছিল। কিন্তু এই প্রতিযোগিতায় সিদ্ধান্ত পর্যালোচনার প্রযুক্তি ব্যবহার না হওয়ায় বলটি আসলে কোথায় পড়েছিল, তা নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি।তবে শেষ পর্যন্ত কোনো বিপদ হয়নি। হরমনপ্রীত কৌর ও দীপ্তি শর্মা মিলে ভারতকে জয় এনে দেন। হাতে ছিল ৭ উইকেট, আর বাকি ছিল ৬৮ বল।
জৈন্তাবার্তা/সুলতানা




