প্রতারণার মামলায় হাইকোর্টে বিদিশার জামিন
রবিবার, ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২:০২ PM

প্রতারণার মামলায় হাইকোর্টে বিদিশার জামিন

জৈন্তা বার্তা ডেস্ক

প্রকাশিত: ০৬/০৯/২০২৬ ১২:৩২:৫১ PM

প্রতারণার মামলায় হাইকোর্টে বিদিশার জামিন

সংগৃহীত


প্রতারণার অভিযোগে করা মামলায় সাবেক রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের দ্বিতীয় স্ত্রী বিদিশা সিদ্দিককে জামিন দিয়েছেন হাইকোর্ট। এর ফলে তার মুক্তিতে আর আইনি বাধা নেই বলে জানিয়েছেন বিদিশার আইনজীবী।এ-সংক্রান্ত আবেদনের শুনানি নিয়ে রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) হাইকোর্টের বিচারপতি মো. খায়রুল আলম ও বিচারপতি মো. রাফিজুল ইসলামের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ এই আদেশ দেন। আদালতে বিদিশার পক্ষে শুনানি করেন অ্যাডভোকেট ফজলুর রহমান খান ও অ্যাডভোকেট মাসুদ মিয়া।প্রতারণার এ মামলায় দুই বছরের কারাদণ্ড পাওয়া বিদিশাকে গত ২৫ আগস্ট রাত সাড়ে ৮টার দিকে গুলশানের একটি রেস্তোরাঁ থেকে গ্রেফতার করে পুলিশ।

পরদিন তাকে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) আদালতে হাজির করা হয়। সেদিন ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আমিনুল ইসলাম জুনাঈদের আদালতে বিদিশার পক্ষে আপিলের শর্তে জামিন আবেদন করেন তার আইনজীবীরা। তবে আদালত আবেদনটি নাকচ করে তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।এরপর ঢাকার মহানগর দায়রা জজ আদালতে বিদিশার জামিন আবেদন করা হয়। কিন্তু গত বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) শুনানি শেষে আদালতের বিচারক শাহজাহান কবির তা নামঞ্জুর করেন। বিষয়টি নিশ্চিত করে বিদিশার আইনজীবী মনিরুজ্জামান সবুজ ওইদিন জানিয়েছিলেন, আপিল করার শর্তে জামিন চাওয়া হয়েছিল। আদালত সেই আবেদন মঞ্জুর করেননি। এ আদেশের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে যাওয়া হবে।

রাজধানীর বারিধারার প্রেসিডেন্ট পার্কের একটি ফ্ল্যাট বিক্রিকে কেন্দ্র করে প্রতারণার অভিযোগে ২০০৮ সালে গুলশান থানায় এ মামলা করেন ব্যবসায়ী মোশাররফ হোসেন সিকদার।

মামলাটি বিচার শেষে গত ২০ মে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জামসেদ আলম বিদিশাকে দুই বছরের কারাদণ্ড দেন। একই সঙ্গে তাকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও এক মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। রায় ঘোষণার সময় বিদিশা আদালতে উপস্থিত ছিলেন না। তাকে ‘পলাতক’ উল্লেখ করে সাজার পরোয়ানার পাশাপাশি গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন আদালত।

মামলার নথি অনুযায়ী, বাদী মোশাররফ হোসেন মিরপুর-১০ এলাকায় স্যানিটারি পণ্যের আমদানিকারক ও ব্যবসায়ী। তার অভিযোগ, ২০০১ সালে রাজধানীর বারিধারায় একটি ফ্ল্যাট কেনার বিষয়ে বিদিশার সঙ্গে তার যোগাযোগ হয়। পরে বারিধারার প্রেসিডেন্ট পার্কের একটি ফ্ল্যাট ৮০ লাখ টাকায় বিক্রির বিষয়ে তাদের মধ্যে চুক্তি হয়।ওই বছরের ১০ জুলাই বিদিশা তাকে বনানীর রজনীগন্ধা অফিসে ডেকে নিয়ে তার মনোনীত ব্যক্তি ও বন্ধু আব্দুল রাজ্জাকের নামে ৭৫ লাখ টাকার পে-অর্ডার দিতে বলেন। পরে স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংকের কারওয়ান বাজার শাখার মাধ্যমে ওই অর্থ পরিশোধ করেন বাদী। এ সময় উভয়ের মধ্যে বায়নানামাও সম্পাদিত হয়।

চুক্তি অনুযায়ী, রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) অনুমোদন নেওয়ার পর বাকি টাকা পরিশোধ সাপেক্ষে ফ্ল্যাটটি রেজিস্ট্রি করে দেওয়ার কথা ছিল। ২০০২ সালের ১০ জুলাইয়ের মধ্যে ফ্ল্যাট বুঝিয়ে দেওয়ার কথা থাকলেও নির্ধারিত সময় পেরিয়ে গেলেও তা বুঝিয়ে দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ করেন বাদী।পরে ফ্ল্যাট বুঝিয়ে দেওয়ার জন্য চাপ দিলে টাকা ফেরত দেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়। এর ধারাবাহিকতায় ২০০৫ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি ৭২ লাখ টাকার একটি চেক দেওয়া হয়। তবে ব্যাংকে জমা দেওয়ার পর পর্যাপ্ত অর্থ না থাকায় চেকটি ডিজঅনার হয়।

বাদীর অভিযোগ, এরপরও বিভিন্ন অজুহাতে টাকা ফেরত দেওয়া বা ফ্ল্যাট বুঝিয়ে দেওয়ার বিষয়টি এড়িয়ে যাওয়া হয়। এমনকি পাওনা টাকা বা ফ্ল্যাট ফেরত চাইলে সন্ত্রাসীদের দিয়ে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়।মামলার অভিযোগে আরও বলা হয়, বিদিশা বাদীকে জানিয়েছিলেন, সাবেক রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের কাছ থেকে টাকা আদায় না হওয়া পর্যন্ত তাকে অপেক্ষা করতে হবে।

জৈন্তাবার্তা/ সুলতানা



শীর্ষ সংবাদ: