ছবি: সংগৃহীত
সিলেট নগরীতে উন্মুক্ত নালা-নর্দমার কারণে মৃত্যুঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছেন পথচারীরা। এতে প্রায়ই দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছেন তারা। তবুও যেন নির্বিকার সিলেট সিটি করপোরেশন (সিসিক)! পাশাপাশি বাড়ছে মশার উপদ্রব। নালা-নর্দমায় জমা পানি আর আর্বজনার কারণে ডেঙ্গুর বাড়ার শঙ্কাও দেখা দিয়েছে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, নগরীর হাওলাদারপাড়া, আখালিয়া নতুনবাজার, করেরপাড়া, বাগবাড়ী, জামতলা, ব্রাহ্মণশাসন, পনিটুলা ও উপশহরসহ বিভিন্ন এলাকার মূল সড়কের পাশে থাকা নর্দমার বিভিন্ন অংশ স্ল্যাববিহীন অবস্থায় রয়েছে। এতে পথচারীদের প্রতিনিয়ত দুর্ভোগ নিয়ে পথ চলতে হচ্ছে।
সিসিক সূত্র জানায়, সিলেট সিটি করপোরেশনের ৪২ ওয়ার্ডের এলাকায় মোট ১ হাজার ১২০ কিলোমিটার নালা-নর্দমা উন্মুক্ত অবস্থায় রয়েছে। এরমধ্যে পুরোনো ২৭টি ওয়ার্ডে ৯৭০ কিলোমিটারের মধ্যে স্ল্যাব রয়েছে ৪৫০ কিলোমিটার অংশে। বাকি ৫২০ কিলোমিটার উন্মুক্ত। এ ছাড়া নতুনভাবে বর্ধিত ১৫টি ওয়ার্ডে ৬০০ কিলোমিটার নালা-নর্দমা আছে। এর কোনো অংশেই স্ল্যাব নেই।
নগরীর পনিটুলা, করেরপাড়া, বাগবাড়ী, জামতলা এলাকার বেশ কয়েকজন বাসিন্দারা জানিয়েছেন, নালা-নর্দমায় ঢাকনা না থাকায় দুর্ঘটনার আশঙ্কা বেড়েই চলছে। পর্যাপ্ত সড়কবাতি না থাকায় রাতের অন্ধকারে কিংবা জলাবদ্ধতার সময় নর্দমার খোলা অংশটা বুঝতে পারা যায় না। এতে অনেকেই নর্দমায় পড়ে আহত হন। অথচ সেদিকে কর্তৃপক্ষের নজর নেই। পাড়া- মহল্লার শিশুরা খেলাধুলা করতে গিয়ে প্রায়ই পড়ে গিয়ে ব্যথা পায়। পাশাপাশি বাড়ছে মশার উপদ্রব। নালা-নর্দমায় জমা পানি আর আর্বজনার কারণে ডেঙ্গুর বাড়ার শঙ্কাও দেখা দিয়েছে।
নতুন সীমানায় যুক্ত হওয়া ১৫টি ওয়ার্ডে এখনো নর্দমা পাকাকরণ ও স্ল্যাব বসানোর জন্য কোনো প্রকল্প নেওয়া হয়নি জানিয়ে সিলেট সিটি করপোরেশন (সিসিক) প্রধান প্রকৌশলী নূর আজিজুর রহমান সিলেটভিউকে বলেন, সিলেট সিটি এলাকার জন্য উন্মুক্ত নালা-নর্দমায় স্লাব নির্মাণের কাজ করা হচ্ছে। আমরা বর্ধিত এলাকার জন্য একটি প্রকল্পের প্রস্তাব মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। সেটা বাস্তবায়িত হলে নালা-নর্দমায় স্ল্যাব বসানোর কাজ শুরু হবে আশা করছি।
অপরদিকে চিকিৎসকরা বলছেন, সিলেটে এখন পর্যন্ত ডেঙ্গু পরিস্থিতি ভয়াবহ হয়ে উঠেনি। হঠাৎ বৃষ্টি আবার প্রখর রোদ ডেঙ্গু বাড়ার শঙ্কা বাড়িয়ে দেয়। এ কারণে ডেঙ্গু নিয়ে চিন্তিত হাবার কারণ আছে। এজন্য আগে ভাগেই স্বাস্থ্য বিভাগের পক্ষ থেকে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।
গতকাল মঙ্গলবার (১ আগস্ট) অভিযান চালিয়ে মহানগরের ৭ জায়গায় ডেঙ্গুবাহী এডিস মশার লার্ভার সন্ধান পেয়েছে সিসিক। এর মধ্যে ৩টি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, ১টি নির্মাণাধীন ভবন ও ৩টি বাসাবাড়ি। পরে এসবের মালিককে জরিমানা করেন সিসিকের ভ্রাম্যমাণ আদালত।
সিসিকের প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. মো. জাহিদুল ইসলাম জানান, সিসিকের টিম মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৯টা থেকে এডিস মশার লার্ভা অনুসন্ধান শুরু করে। অভিযান চলাকালে দুপুরেরর দিকে মহানগরের মদিনা মার্কেট, কালিবাড়ি, পল্লবী ও পাঠানটুলা এলাকার ৩টি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, ১টি নির্মাণাধীন ভবন ও ৩টি বাসাবাড়িতে লার্ভা পাওয়া যায়। পরে লার্ভাগুলো ধ্বংস করা হয় এবং ভ্রাম্যমাণ আদালত গিয়ে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও বাসাবাড়ির মালিকদের মোট ৪৪ হাজার টাকা জরিমানা করেন। এর মধ্যে ৩টি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে ১০ হাজার করে ৩০ হাজার, নির্মাণাধীন ভবনে ৫ হাজার ও ৩টি বাসাবাড়িতে ৩ হাজার টাকা করে ৯ হাজার- এই মোট ৪৪ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
সিলেট মহানগরে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে রাখতে এরকম অভিযান নিয়মিত পরিচালনা করা হবে বলে জানান ডা. মো. জাহিদুল ইসলাম।
S/N



