ছবি: সংগৃহীত
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় (জাবি) শাখার অন্যতম সমন্বয়ক আরিফ সোহেলের ছোট বোন ও বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা বিভাগের ৫০তম ব্যাচের শিক্ষার্থী উম্মে খায়ের ঈদি বলেছেন, ‘ন্যায়ের একটি অধিকারের জন্য অন্যায়ভাবে আমার ভাইকে যেন আটকে রাখা না হয়।’
রোববার (২৮ জুলাই) বিকালে আরিফ সোহেলের মুক্তির দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল পরবর্তী সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন। এর আগে, বিশ্ববিদ্যালয়ের পুরাতন পরিবহন চত্বর এলাকা থেকে বিক্ষোভ মিছিল বের করেন শিক্ষার্থীরা। মিছিলটি ক্যাম্পাসের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে শহিদ মিনার চত্বরে গিয়ে সংক্ষিপ্ত সমাবেশের মধ্য দিয়ে শেষ হয়।
উম্মে খায়ের ঈদি বলেন, ‘গতকাল দিবাগত রাতে সাদা পোশাকে কিছু লোক জোর করে বাসায় ঢুকে আমার ভাইকে তুলে নিয়ে যান। আমি ও আমার পরিবার এ ঘটনায় মানসিকভাবে বিপর্যস্ত। আমার ভাইকে দ্রুত সময়ের মধ্যে ছেড়ে দেওয়ার দাবি জানাচ্ছি।’
সমাবেশে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন জাবি শাখার সমন্বয়ক আব্দুর রশিদ জিতু বলেন, ‘বিভিন্ন জায়গায় খোঁজ করেও আরিফ সোহেল কোথায় এবং কিভাবে আছে জানতে পারিনি। আইনশৃঙ্খলাবাহিনী ও ক্ষমতাসীন আওয়ামী পন্থী লোকজন প্রতিনিয়তই আমাদেরকে হামলা মামলার ভয় দেখাচ্ছে। এমনকি সকল সমন্বয়কদের গ্রামের বাড়িতে গিয়েও পুলিশ হয়রানি করছে। আমরা নিরাপত্তাহীনতায় ভূগছি, তাই বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে দ্রুত হল খুলে দেওয়ার অনুরোধ জানাচ্ছি। পাশাপাশি যেসকল সমন্বয়ককে ধরে নিয়ে যাওয়া হয়েছে, তাদের নিঃশর্তভাবে মুক্তির দাবি জানাচ্ছি। হামলা মামলার ভয় দেখিয়ে আমাদের যৌক্তিক আন্দোলন দমানো যাবে না।’
এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের দর্শন বিভাগের ৫১তম ব্যাচের শিক্ষার্থী সজীব আহমেদ জেনিচের সঞ্চালনায় বক্তব্য দেন, নাটক ও নাট্যতত্ত্ব বিভাগের ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষের (৪৭তম ব্যাচ) শিক্ষার্থী শরণ এহসান এবং প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের একই বর্ষের শিক্ষার্থী অমর্ত্য রায় প্রমুখ।
এর আগে, গতকাল শনিবার দিবাগত রাত চারটার দিকে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন জাবি শাখার অন্যতম সমন্বয়ক আরিফ সোহেলকে ডিবি পরিচয়ে তুলে নেওয়ার অভিযোগ উঠে। বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন আমবাগান এলাকার ভাড়া বাসা থেকে তাকে তুলে নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেছে পরিবার।
জৈন্তাবার্তা / মনোয়ার




