ছবি:সংগৃহীত
ভারত সরকারের ইন্ডিয়ান কাউন্সিল ফর কালচারাল রিলেশনস (আইসিসিআর) স্কলারশিপ ২০২৬-২৭-এর আওতায় নির্বাচিত শিক্ষার্থীদের নিয়ে সিলেটে ওরিয়েন্টেশন প্রোগ্রাম অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার সন্ধ্যায় সিলেট নগরীর একটি অভিজাত হোটেলে সিলেটস্থ ভারতীয় সহকারী হাই কমিশনের আয়োজনে অনুষ্ঠিত এ অনুষ্ঠানে স্কলারশিপপ্রাপ্ত শিক্ষার্থী, শিক্ষাবিদ, বিশিষ্টজন ও ভারতীয় সহকারী হাই কমিশনের কর্মকর্তারা অংশ নেন।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে সিলেট-৬ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট এমরান আহমদ চৌধুরী বলেন, শিক্ষা বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে বন্ধুত্ব, পারস্পরিক আস্থা এবং সহযোগিতার সম্পর্ককে আরও সুদৃঢ় করার অন্যতম শক্তিশালী মাধ্যম। তিনি আইসিসিআর স্কলারশিপ কর্মসূচির ভূয়সী প্রশংসা করে এ উদ্যোগ গ্রহণের জন্য ভারত সরকারকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানান।
তিনি বলেন, এ ধরনের আন্তর্জাতিক শিক্ষা কর্মসূচি শিক্ষার্থীদের জ্ঞান, দক্ষতা ও বৈশ্বিক দৃষ্টিভঙ্গি বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। উচ্চশিক্ষা শেষে তারা অর্জিত অভিজ্ঞতা দেশের উন্নয়ন ও মানবসম্পদ গঠনে কাজে লাগাবে বলেও তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
অনুষ্ঠানের শুরুতে স্বাগত বক্তব্য দেন ভারতীয় সহকারী হাই কমিশন, সিলেটের দ্বিতীয় সচিব রাজেশ ভাটিয়া। তিনি আইসিসিআর স্কলারশিপের উদ্দেশ্য ও তাৎপর্য তুলে ধরে শিক্ষার্থীদের আত্মবিশ্বাস, শৃঙ্খলা ও নিষ্ঠার সঙ্গে নতুন শিক্ষাজীবন শুরু করার আহ্বান জানান।
ভারতীয় সহকারী হাই কমিশনার অনিরুদ্ধ দাস স্কলারশিপপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, শিক্ষা বিনিময় কর্মসূচি দুই দেশের জনগণের মধ্যে বন্ধুত্ব, পারস্পরিক বোঝাপড়া ও সহযোগিতার সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। তিনি শিক্ষার্থীদের সততা, অধ্যবসায় ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে শিক্ষাজীবন সম্পন্ন করে অর্জিত জ্ঞান দেশের উন্নয়নে কাজে লাগানোর আহ্বান জানান।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে মেট্রোপলিটন ইউনিভার্সিটির উপাচার্য প্রফেসর ডা. মোহাম্মদ জহিরুল হক বলেন, ভারত বাংলাদেশের অকৃত্রিম বন্ধু। ভারতে উচ্চশিক্ষার সুযোগ পাওয়া গর্বের বিষয়। তিনি শিক্ষার্থীদের সেখানে বাংলাদেশের যোগ্য প্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান।
সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিন প্রফেসর ডা. এ. এস. এম. মাহবুব বলেন, ভারতীয় জ্ঞান, বিজ্ঞান ও গবেষণার সঙ্গে সম্পৃক্ত হয়ে অর্জিত অভিজ্ঞতা বাংলাদেশের উন্নয়ন ও সমৃদ্ধিতে কাজে লাগাতে হবে।
শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের অধ্যাপক জাফির সেতু বলেন, ভারতে অধ্যয়ন শুধু ডিগ্রি অর্জনের সুযোগ নয়, বরং একটি বহুমাত্রিক সমাজ, সংস্কৃতি ও জ্ঞানচর্চার সঙ্গে পরিচিত হওয়ার অনন্য সুযোগ।
এ বছর সিলেট অঞ্চল থেকে বেশ কয়েকজন মেধাবী শিক্ষার্থী আইসিসিআর স্কলারশিপের আওতায় ভারতের বিভিন্ন স্বনামধন্য বিশ্ববিদ্যালয় ও প্রকৌশল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর পর্যায়ে অধ্যয়নের জন্য নির্বাচিত হয়েছেন। তারা আইআইটি মাদ্রাজ, এনআইটি শিলচর, এনআইটি চণ্ডীগড়, দিল্লি টেকনোলজিক্যাল ইউনিভার্সিটি, দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়, মুম্বাই বিশ্ববিদ্যালয়, পাঞ্জাব বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পড়াশোনার সুযোগ পেয়েছেন।
অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের অভিনন্দন জানিয়ে ভারতে উচ্চশিক্ষা, শিক্ষাজীবনের প্রস্তুতি এবং বিভিন্ন প্রয়োজনীয় বিষয়ে দিকনির্দেশনা প্রদান করা হয়। শেষে আইসিসিআর স্কলারশিপপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের পরিবেশনায় এক মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।
জৈন্তা বার্তা/ ওয়াদুদ




