ছবি: শাবিপ্রবি প্রতিনিধি
শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সৈয়দ মুজতবা আলী হলের দুই শিক্ষার্থীকে পিটিয়ে হল থেকে বের করে দেওয়ার অভিযোগ ওঠেছে ছাত্রলীগের একাংশের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে।
বুধবার মধ্যরাতে এ ঘটনা ঘটে বলে জানান হল প্রাধ্যক্ষ আবু সাঈদ আরফিন খাঁন ।
এ ঘটনায় প্রভোস্ট বরাবর লিখিত অভিযোগ দেন ভুক্তভোগী পেট্রোলিয়াম অ্যান্ড মাইনিং ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী সৈকত রায়।
ঘটনার আরেক ভুক্তভোগী একই বিভাগের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী মেহেদী হাসান বলেন, গত মঙ্গলবার শোক দিবসের অনুষ্ঠানের পর বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের আলোচনা সভা হয়। সেখানে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের ব্যক্তিবর্গ, শিক্ষক ও ছাত্রলীগ নেতারা বক্তব্য দেন। এসময় এক স্যার বক্তব্যে বলেন, 'আমাদের আমেরিকা যাওয়ার দরকার নেই। পশ্চিমরা আমাদের শত্রু। আমরা দেশেই থাকতে পারব।'
কিন্তু এ বক্তব্য দেওয়া স্যারের ছেলেই বর্তমানে আমেরিকায় আছেন। পরে এটা নিয়ে মজার ছলে ফেইসবুকে কাউকে মেনশন না করে পোস্ট দেই। পোস্ট দেওয়ার কিছুক্ষণের মধ্যে আমার গ্রুপের ভাইদের নজরে এলে আমাদের গ্রুপ লিডার সীমান্ত ভাই পোস্টটি ডিলিট করে দিতে বলে। তার কথা মত সাথে সাথেই আমি পোস্টটা ডিলিট করে দিই।
এরপর গত বুধবার রাত বারোটার দিকে গ্রুপের সহপাঠী ও জুনিয়ররা এসে বলে- "সিনিয়র ভাইয়েরা বলছে, তোর সবকিছু নিয়ে হল ছেড়ে চলে যেতে। প্রশাসনও নাকি বলছে, ঘাড় ধাক্কা দিয়ে আমাকে হল থেকে নামিয়ে দিতে।" আমি বললাম, 'প্রশাসন বললে তো নোটিশ দেবে।'
মেহেদী হাসান বলেন, ' আমি তাদের বলছি, হল থেকে যদি বের হতে হয় তবে সকালে কোনো এক স্যারের সঙ্গে আলাপ করে বের হবো। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে তারা আমাকে মারধর শুরু করে এবং হল থেকে বের করে দেয়। তখন এ বিষয়টি প্রভোস্টবডিকে জানালে তারা আমাকে হলের ১২১ নম্বর কক্ষে থাকতে বলে এবং সকালে বিষয়টি মীমাংসা করে দিবে বলে আশ্বাস দেয়।
এ ঘটনায় সৈকত রায় জানান, তিনি সৈয়দ মুজতবা আলী হলের ৪২০ নম্বর কক্ষের বৈধ ছাত্র ।
প্রভোস্ট বরাবর লিখিত অভিযোগে সৈকত বলেন," বুধবার রাত আনুমানিক ১২টার দিকে আজিজুল ইসলাম সীমান্তের ১২-১৫ জন অনুসারী তার কক্ষে এসে একজনের সঙ্গে তর্কে জড়ায় এবং তাকে মারধর করে।"
এক পর্যায়ে মারধরকারীরা ভেতর থেকে দরজা লাগিয়ে দিতে চায়, আমি বাধা দিলে কয়েকজন আমাকেও মারধর করে। পরে বিষয়টি প্রভোস্ট স্যারকে মোবাইলে জানাতে চতুর্থতলা থেকে তৃতীয় তলায় আসতেই সীমান্তের সঙ্গে দেখা হয়। তখন সীমান্ত ভাই আমাকে পেয়ে জানতে চায়- আমি কোথায় যাই? কাকে কল দিচ্ছি?
“আমি প্রভোস্ট স্যারকে ফোন দিচ্ছি জানালে সীমান্ত ভাই জোর করে ফোন কেড়ে নেয় এবং আমাকে টেনে ৪২০ নম্বর রুমে নিয়ে গিয়ে মারধর করে, রুম অবরুদ্ধ করার চেষ্টা করে।”
লিখিত অভিযোগে তিনি আরো বলেন, “রাত আনুমানিক আড়াইটার দিকে ফোনে ফ্লাশ দিয়ে সকল ডাটা এবং ডকুমেন্ট নষ্ট করে ফোন ফেরত দেয় আমাকে।
এ সময় সীমান্ত হুমকি দিয়ে বলে- 'তোর ভাগ্য ভালো যে তোকে জানে মারিনি। আর এসব যদি প্রশাসনের কানে যায়, তাহলে তোকে জানে মেরে ফেলব।'
তবে একই ঘটনায় মেহেদী ও সৈকতের বিরুদ্ধে ‘র্যাগিংয়ের’ পাল্টা অভিযোগ তুলেছেন সীমান্তের অনুসারীরা।
এ সম্পর্কে হল প্রাধ্যক্ষ আবু সাইদ আরফিন খাঁন বলেন, ঘটনা তদন্তে তিন সদস্যের কমিটি করা হয়েছে। তদন্ত কমিটির রিপোর্ট অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
তদন্ত কমিটিতে তিনি ছাড়া বাকি দুই সদস্য হলেন সহকারী প্রভোস্ট আব্দুল্লা আল ইসলাম ও সৈয়দ মুজতবা আলী হলের সহকারী প্রভোস্ট ওয়াছেক মিয়া।
এস.ডি




