খা লে দা জি য়া র বিদেশযাত্রা : আবহাওয়া দেখে নির্ধারণ হবে ফ্লাইট
শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬, ০২:৩০ PM

খা লে দা জি য়া র বিদেশযাত্রা : আবহাওয়া দেখে নির্ধারণ হবে ফ্লাইট

জৈন্তা বার্তা ডেস্ক

প্রকাশিত: ০৫/০১/২০২৫ ০২:২৬:৫৮ AM

খা লে দা জি য়া র বিদেশযাত্রা : আবহাওয়া দেখে নির্ধারণ হবে ফ্লাইট

ফাইল ছবি


উন্নত চিকিৎসায় বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া ৭ জানুয়ারিই লন্ডন যাচ্ছেন। এই যাত্রা মঙ্গলবার ধরেই ঢাকা ত্যাগের সব প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।

খালেদা জিয়ার সফরসঙ্গী তার একান্ত সহকারী এবিএম আব্দুস সাত্তার বলেন, আমাদের সব প্রস্তুতি ৭ জানুয়ারি ঘিরে। সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে ম্যাডাম মঙ্গলবার যেকোনো সময় লন্ডনের উদ্দেশ্যে ঢাকা ত্যাগ করবেন। কিন্তু আবহাওয়ারে কারণে ফ্লাইট এখনও ঠিক হয়নি। আবহাওয়ার পরিস্থিতি দেখে ফ্লাইট ঠিক হবে। সফরসঙ্গী হিসেবে ম্যাডামের সঙ্গে আমরা মোট ১৫জন যাচ্ছি। উনাকে প্রথমে লন্ডন তারপর যুক্তরাষ্ট্রে নেওয়া হতে পারে। সবকিছু নির্ভর করছে ম্যাডামের শারিরীক অবস্থা ও মেডিকেল বোর্ডের সিদ্ধান্তের ওপর।    

বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও তার সফরসঙ্গী ড. এনামুল হক চৌধুরীও একই তথ্য জানান। তিনি বলেন, সফরঙ্গী সবার ভিসা ও অন্য সব প্রক্রিয়া শেষ। তারপরও এখানে অনেক বিষয থাকে। চূড়ান্ত বলা যাবে যেদিন যাবে তার আগের দিন।  

খালেদা জিয়ার মেডিকেল বোর্ডের একজন সদস্য জানান, মঙ্গলবার যাচ্ছেন এটা প্রায় নিশ্চিত। তবে শতভাগ বলা যাবে না।

কী কারণে তারিখ পরিবর্তন হচ্ছে? জবাবে এই চিকিৎসক বলেন, এটা ঠিক আমার পক্ষে বলা সম্ভব নয়। এখানে নানা কারণ থাকতে পারে। এটা দল ও পরিবার বলতে পারবে। মেডিকেল বোর্ড এখন খালেদা জিয়াকে ফিট মনে করছে বিদেশগমনে । 

তিনি জানান, ইতোমধ্যে সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। সবমিলিয়ে আমাদের ১৫-১৬জনের একটি টিম লন্ডনে যাওয়ার কথা। তাদের পাসপোর্টসহ সব প্রস্তুতি সম্পন্ন। 

তিনি আরও জানান, উন্নত চিকিৎসার জন্য খালেদা জিয়াকে তিনটি দেশে নেওয়ার প্রয়োজন হতে পারে। প্রথমে লন্ডন পরে যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডায় যেতে হতে পারে। এছাড়াও সৌদি আরবে ওমরাহ পালন করবেন খালেদা জিয়া। সবমিলিয়ে প্রায় এক মাস বিদেশ অবস্থান করবেন তিনি। এজন্য যাবতীয় প্রক্রিয়া শেষ করা হয়েছে। বড় ছেলে তারেক রহমান ও তার পরিবার খালেদা জিয়ার সঙ্গে ওমরাহ করতে পারেব বলে জানা গেছে। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান তার মায়ের সঙ্গে দেশে ফিরতে পারেন বলেও শোনা যাচ্ছে। যদিও বিষয়টি পুরোপুরি নিশ্চিত করতে পারেননি এই চিকিৎসক। 

বর্তমানে এভারকেয়ার হাসপাতালের হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক শাহাবুদ্দিন তালুকদারের নেতৃত্বে একটি মেডিকেল বোর্ডের তত্ত্বাবধানে খালেদা জিয়ার চিকিৎসা চলছে। মেডিকেল বোর্ডের সিদ্ধান্তে উন্নত চিকিৎসার জন্য মাল্টি ডিসিপ্লানারি সেন্টারে চিকিৎসার পরামর্শ দিয়েছে।

গত ২৭ নভেম্বর খালেদা জিয়া আমেরিকার ভিসার জন্য দেশটির ঢাকার দূতাবাসে যান। সেখানে ভিসার জন্য ফিঙ্গার প্রিন্ট দিয়ে আসেন সাবেক এই প্রধানমন্ত্রী। ২০১৭ সালের ১৬ জুলাই সর্বশেষ যুক্তরাজ্যে যান খালেদা জিয়া। ওই বছরের ১৮ অক্টোবর দেশে ফেরেন তিনি। সেই সময় খালেদা জিয়া যুক্তরাজ্যের ডা. হ্যাডলি ব্যারির চিকিৎসা গ্রহণ করেন।

জানা গেছে, খালেদা জিয়ার সঙ্গে ৭ চিকিৎসকসহ ১৫ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল লন্ডন যাবেন। সফর সঙ্গীদের মধ্যে রয়েছেন খালেদা জিয়ার প্রয়াত ছোট ছেলে আরাফাত রহমান কোকোর স্ত্রী সৈয়দা শর্মিলা রহমান, বিএনপির চেয়ারপারসনের ব্যক্তিগত চিকিৎসক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন, ডা. মো. এনামুল হক চৌধুরী, তাবিথ আ্উয়াল, ফখরুদ্দীন মোহাম্মদ সিদ্দিক, মো. শাহাবুদ্দিন তালুকদার, নুর উদ্দিন আহমদ, মো. জাকির ইকবাল, মোহাম্মদ আল মামুন, শরিফা করিম স্বর্ণা, চেয়ারপারসনের একান্ত সহকারী এবিএম আব্দুস সাত্তার, সহকারী ব্যক্তিগত কর্মকর্তা মো. মাসুদুর রহমান ও নিরাপত্তা কর্মকর্তা এসএম পারভেজ, গৃহপরিচারিকা ফাতেমা বেগম এবং রুপা শিকদার।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আসন্ন তার এই সফরকে নির্বিঘ্ন করতে প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নিয়েছে। এই সফরে ভিআইপি প্রটোকল পাবেন খালেদা জিয়া। ইতোমধ্যে বিএনপির তরফ থাকে বাড়তি নিরাপত্তা চাওয়া হয়েছে খালেদা জিয়ার জন্য। দলের হয়ে যারা নেত্রীর নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন করবেন তাদের জন্য ওয়ারলেস সেট কেনা এবং সেগুলি ব্যবহারের জন্য পৃথক বেতার তরঙ্গ বরাদ্দের দাবি জানিয়ে সরকারকে চিঠি দিয়েছে বিএনপি। চেয়ারপারসনের প্রেস উইংয়ের সদস্য শায়রুল কবির জানান, নিরাপত্তার এ বিষয়গুলো গতানুগতিক।  

দুর্নীতি মামলায় দণ্ডিত খালেদা জিয়া ২০২০ সালের ২৫ মার্চ থেকে সরকারের নির্বাহী আদেশে সাময়িক মুক্ত থাকলেও এবার সরকার পতনের একদিন পর সাজা থেকে পুরোপুরি মুক্তি পান। রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন সংবিধানের ৪৯ অনুচ্ছেদের ক্ষমতাবলে সাবেক এই প্রধানমন্ত্রীর দণ্ড মওকুফ করেন। ২০১৮ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতির মামলায় পাঁচ বছরের সাজা দিয়ে কারাগারে পাঠানো হয় সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াকে। তিনি তখন পুরান ঢাকার নাজিমউদ্দিন সড়কের কারাগারে ছিলেন। দেশে করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের পর পরিবারের আবেদনে ২০২০ সালে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার নির্বাহী ক্ষমতায় খালেদার দণ্ড ছয় মাসের জন্য স্থগিত করেন। ওই বছরের ২৫ মার্চ সাময়িক মুক্তি পেয়ে গুলশানের বাসা ফিরোজায় ফেরেন খালেদা জিয়া। তখন থেকে তিনি সেখানেই আছেন। এরপর থেকে পরিবারের আবেদনে প্রতি ছয় মাস পরপর বিএনপি নেত্রীর মুক্তির মেয়াদ বাড়িয়ে আসছিল শেখ হাসিনার সরকার। প্রতিবারই তাকে দুটি শর্ত দেওয়া হচ্ছিল। তাকে বাসায় থেকে চিকিৎসা নিতে হবে এবং তিনি বিদেশ যেতে পারবেন না। তাকে বিদেশে পাঠানোর জন্য পরিবারের তরফ থেকে বেশ কয়েকবার আবেদন করা হলেও ওই শর্তের যুক্তি দিয়েই বার বার তা প্রত্যাখ্যান করেছে শেখ হাসিনার সরকার।

জৈন্তা বার্তা/আরআর



শীর্ষ সংবাদ:

গেজেট প্রকাশ: জৈন্তাপুরে পৌরসভা গঠনের পথে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি
সিলেটে হামের উপসর্গে আরও ৩ শিশুর মৃ'ত্যু
বুরুঙ্গা বাজার সড়কের প্রস্থ কমানোর অ*ভিযোগ, বাড়ছে দু*র্ঘটনার ঝুঁ*কি
নৈতিকতায় সমৃদ্ধ তরুণরাই আগামীর বাংলাদেশ গড়বে: হুমায়ুন কবির
‘আমার সাফল্যের ভিত্তি গড়ে দিয়েছে এমসি কলেজ’ : এমপি এমরান চৌধুরী
কালনী নদীতে কুমিরের আবির্ভাব, জেলে-মাঝিদের মধ্যে চরম আ*তঙ্ক
অনলাইন জু*য়াড়িসহ ৬ জন গ্রে*প্তার, অ*পহৃত কিশোরী উ*দ্ধার
সিলেটের উন্নয়নে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে: আরিফুল হক চৌধুরীর
সুনামগঞ্জে কমেছে পানির স্তর, নেই বন্যার শ'ঙ্কা
আফগানিস্তানে জাতিসংঘের বিশেষ প্রতিনিধি মাধবপুরের রাবাব ফাতিমা