ছবি: নিজস্ব
রাতে ঈদের বাজার করার মজাই অন্য রকমের। স্বামীর আজ বেতন হয়েছে। তাই সন্তানদের জন্য কিছু পোশাক কিনেছি। দামও সাধ্যের মধ্যে। এমন মন্তব্য করেন ঈদের কেনাকাটা করতে আসা গৃহিণী রেশমা নাহার।
নতুন বিয়ে করেছেন সৈয়দ রাসেল। থাকেন সিলেট শহরে। স্ত্রী ও স্ত্রীর ভাই-বোনদের নিয়ে এসেছেন শেষ মুহূর্তের ঈদ বাজারে। তিনি বলেন, শ্বশুরবাড়ির সবাই রাতে কেনাকাটা করতে পছন্দ করেন। এবার আমিও তাদের সঙ্গে বেরিয়ে পড়লাম, ভালোই লাগছে।
রেশমা নাহার ও সৈয়দ রাসেলের মতো অনেকেই রাতের বেলায় ঈদের কেনাকাটা করতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন।
মৌলভীবাজারের ঈদ বাজারে চলছে শেষ মুহূর্তের কেনাকাটা। সন্ধ্যার পর হতে মধ্যরাত পর্যন্ত অভিজাত শপিংমল, ছোট-বড় মার্কেটসহ ফুটপাতের দোকানগুলোতে দেখা যায় নানা বয়সী ক্রেতাদের উপচেপড়া ভিড়।
বৃহস্পতিবার (২৭ মার্চ) রাত ৯টার পর জেলা শহরের পশ্চিমবাজার, কুসুমবাগ, কোর্ট রোডসহ সেন্ট্রাল রোড এলাকায় বেশ কয়েকটি মার্কেট ঘুরে দেখা যায় মধ্যরাত পর্যন্ত প্রতিটা দোকানে ক্রেতাদের কেনাকাটা করতে।
এ সময় দেখা গেছে, উজ্জ্বল আলোয় আলোকিত এই শহরের প্রায় প্রতিটি শপিংমল আর মার্কেটের আঙিনা সাজানো হয়েছে লাল-সবুজ-নীল-হলুদ আলোয়। বড় বড় শপিংমল ছাড়াও বিভিন্ন এলাকার ছোট-বড় দোকানেও রয়েছে ক্রেতার চাপ। দাম আর মান দেখে ক্রেতারা কিনছেন তাদের পছন্দসই পণ্য।
ক্রেতারা জানান, সারাদিন রোজা রেখে কেনাকাটা করা বেশ কষ্টসাধ্য। এ ছাড়া ব্যক্তিগত কাজ, ব্যস্ততা ও গরমের কারণে দিনের বেলায় শপিং করা সম্ভব হয়ে ওঠে না। তাই সন্ধ্যার পর থেকে শুরু হয় কেনাকাটার ধুম, যা মধ্যরাত পর্যন্ত অব্যাহত থাকে।
শহরের চাঁদনীঘাট এলাকার শিক্ষার্থী জাহিদ রহমান বলেন, 'রাতে শহরের মার্কেটগুলো অনেক সুন্দর দেখায়। চারপাশের আলোকসজ্জা দেখতেও ভালো লাগে। যান্ত্রিক কোলাহল কম থাকায় বন্ধুদের নিয়ে এখন কেনাকাটা করতে আসলাম।'
শহরের সেন্ট্রাল রোড কথা হয় সৈয়ারপুর এলাকার নাইমুল ইসলামের সঙ্গে। তিনি বলেন, পরিবার নিয়ে কেনাকাটার সময় পাইনি। আজ স্ত্রী ও সন্তানকে নিয়ে এসেছি। প্রতি বছরেই ঈদের কেনাকাটার জন্য পরিবারের ছোট-বড় সবাইকে নিয়ে রাতেই বের হই।
কোর্ট রোড এলাকার জুতাবাজারের ব্যবসায়ী নান্টু দেব বলেন, 'দিনে ক্রেতারা কম আসছেন। তবে সন্ধ্যার পর থেকে পুরো মার্কেটে ক্রেতাদের ভিড় লেগে থাকে। রাত ২টা পর্যন্ত ব্যবসা চলে।'
পশ্চিমবাজার এলাকার একটি ফ্যাশন হাউসের স্বত্বাধিকারী মাহি উদ্দিন বলেন, 'এবার আনরেডি দেশি থ্রি-পিস, হাতের কারুকাজ করা পোশাক প্রাধান্য পাচ্ছে বাজারে। সেই সঙ্গে নারীদের পছন্দের শীর্ষে দেশি কাতান ও জামদানি শাড়ি। দিনে প্রচণ্ড গরম। তার পরও ক্রেতা সমাগম হয়। তবে তুলনামূলকভাবে রাতে ক্রেতাদের ভিড় বেশি।
আলাপকালে কয়েকজন ব্যবসায়ী জানান, দিনে ভিড় বেশি হলেও কেনাকাটা খুব বেশি হয় না। সেই তুলনায় রাতে বিক্রি ভালো হয়। রাতে যারা আসেন তাদের বেশিরভাগই পছন্দের পোশাক কিনেই বাড়ি ফেরেন। শেষ মুহূর্তে বেচাকেনা ভালো হচ্ছে। ক্রেতা সমাগমও সন্তোষজনক।
নতুন পোশাকে ঈদ উদযাপনের কেনাকাটায় জমে উঠেছে মৌলভীবাজারের ঈদ বাজার।
জৈন্তাবার্তা / সুলতানা




