সংগৃহিত
সিলেটের গোয়াইনঘাটে সবজি ও তরমুজের ক্ষেতের প্লাস্টিকের নেটের বেড়া কাটতে বাধা দেওয়ায় আব্দুল মতিন নামে এক কৃষককে মারধর ও তাঁর ছাপড়িঘর ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় কয়েকজনের বিরুদ্ধে। পরে স্বজনেরা জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ ফোন দিলে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। পরে পরিবারের সদস্যরা তাঁকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করেন।
সোমবার (১২ অক্টোবর) দিবাগত রাত ১টার দিকে উপজেলার পশ্চিম আলীরগাঁও ইউনিয়নের নয়ানগর গ্রামের উত্তর কান্দিতে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী আব্দুল মতিন বাদী হয়ে সাতজনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও চার-পাঁচজনকে আসামি করে গোয়াইনঘাট থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, আব্দুল মতিন ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা গত দুই-তিন মাস ধরে বাড়ির উত্তর দিকে কান্দি এলাকায় প্রায় ২০ বিঘা জমিতে সবজি ও তরমুজ চাষের প্রস্তুতি নিয়ে সেখানে একটি ছাপড়িঘর নির্মাণ করে রাতযাপন করে আসছেন। অভিযোগে বলা হয়, তাজ উদ্দীন, সাহাব উদ্দিন, আব্বাস উদ্দিন, জসিম উদ্দিন, রকিব আহমদ, আতা মিয়া ও ইন্তাজ উদ্দিনসহ কয়েকজন বিভিন্নভাবে তাঁর ও তাঁর সবজিখেতের ক্ষতি করার চেষ্টা করে আসছিলেন।
অভিযোগে আরও বলা হয়, সোমবার দিবাগত রাত পৌনে ১টার দিকে আব্দুল মতিন টর্চলাইট জ্বালিয়ে দেখতে পান, সাহাব উদ্দিন ধারালো দা দিয়ে জমির চারপাশের নেটের বেড়া কাটছেন। এ সময় তিনি ও সাক্ষী সাইদুর রহমান সাহিন বাধা দিলে সাহাব উদ্দিন মুঠোফোনে অন্যদের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। পরে রাত ১টার দিকে অজ্ঞাতনামা চার-পাঁচজনসহ অভিযুক্ত ব্যক্তিরা দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সেখানে জড়ো হন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
একপর্যায়ে সাক্ষী সাইদুর রহমান সাহিন ভয়ে দৌড়ে পালিয়ে যান। পরে অভিযুক্ত ব্যক্তিরা দলবদ্ধভাবে সবজিখেতের ক্ষতিসাধন, গাছের চারা উপড়ে ফেলা, সীমানার নেটের বেড়া খুলে নেওয়া এবং ছাপড়িঘরে হামলা চালিয়ে আব্দুল মতিনকে মারধর করেন বলে অভিযোগে বলা হয়েছে। এ সময় তাঁর প্রায় ৬০ হাজার টাকার সবজি ও চারার ক্ষতি এবং নগদ টাকা নিয়ে যাওয়ার অভিযোগও করা হয়েছে।
ভুক্তভোগী আব্দুল মতিন অভিযোগ করে বলেন, তাঁকে মারধরের পর বস্তাবন্দী করার চেষ্টা করা হয়। পরে তাঁর আত্মীয়স্বজন ৯৯৯-এ ফোন দিলে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। এরপর পরিবারের সদস্যরা তাঁকে উদ্ধার করে গোয়াইনঘাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে ভর্তি করেন। বর্তমানে তিনি সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
আব্দুল মতিন আরও বলেন, অভিযুক্ত ব্যক্তিদের কর্মকাণ্ডে তিনি ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। এ ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়ে তিনি থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন।
অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত তাজ উদ্দীন বলেন, আব্দুল মতিনকে বস্তাবন্দী করার কোনো ঘটনা ঘটেনি। তাঁর দাবি, মতিন তাঁর ভাইকে মারার চেষ্টা করেছিলেন। খবর পেয়ে তাঁরা দৌড়ে গিয়ে ভাইকে রক্ষা করেন এবং পরে মতিনকে ধরে নিয়ে আসেন। বিষয়টি গ্রাম্য সালিশের মাধ্যমে সমাধানের পথে রয়েছে বলেও জানান তিনি।
গোয়াইনঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ওমর ফারুক বলেন, সোমবার রাতে ৯৯৯-এ ফোন পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। অভিযোগের ভিত্তিতে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
জৈন্তা বর্তা / ওয়াদুদ




