সংগৃহিত
বই পড়ে মেধা যাচাইয়ের প্রতিযোগিতায় সাফল্য অর্জন করে ল্যাপটপ জিতেছে আট শিক্ষার্থী। মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে তিন মাসব্যাপী আয়োজিত ‘শ্রীমঙ্গল বইপড়া উৎসব ২০২৬’-এর সমাপনী ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে বিজয়ীদের হাতে ল্যাপটপসহ বিভিন্ন পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া চূড়ান্ত পর্বে অংশ নেওয়া ৭৪০ জন শিক্ষার্থীকে বই ও সনদ দেওয়া হয়।
শনিবার (১০ অক্টোবর) আয়োজিত এ অনুষ্ঠানের প্রতিপাদ্য ছিল ‘বই পড়ি, মন গড়ি’। শিক্ষার্থীদের মধ্যে বই পড়ার অভ্যাস গড়ে তোলা, জ্ঞানচর্চা বৃদ্ধি এবং সৃজনশীল চিন্তার বিকাশ ঘটানোই ছিল এ আয়োজনের মূল লক্ষ্য।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন মৌলভীবাজার-৪ (শ্রীমঙ্গল-কমলগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য মুজিবুর রহমান চৌধুরী। বিশেষ অতিথি ছিলেন মৌলভীবাজারের জেলা প্রশাসক তৌহিদুজ্জামান পাভেল ও শ্রীমঙ্গল সরকারি কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মুজিবুর রহমান। সভাপতিত্ব ও স্বাগত বক্তব্য দেন শ্রীমঙ্গল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জিয়াউর রহমান। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন উৎসবের প্রধান সমন্বয়ক দেবাশীষ দাশ। পরে বিভিন্ন বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশিত হয়।
উৎসবের আটটি ক্যাটাগরিতে প্রথম স্থান অর্জন করে ল্যাপটপ পেয়েছে ফাতেমা জাহান, রাজশ্রী হালদার, অদ্রিজা পাল, আসাদুজ্জামান শিহাব, উম্মে কুলসুম মীম, তাসনুভা সুহা, উম্মে নাফিসা মাইমুনাহ ও ফাতেমা সুলতানা। প্রতিটি ক্যাটাগরিতে প্রথম স্থান অধিকারী ছাড়াও আরও নয়জন করে শিক্ষার্থী সনদ, ক্রেস্ট ও বই পেয়েছে।
আয়োজকদের তথ্য অনুযায়ী, শ্রীমঙ্গলের ৪৮টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ২৫ হাজারের বেশি শিক্ষার্থী এবং উন্মুক্ত ক্যাটাগরির বইপ্রেমীরা এ উৎসবে অংশ নেয়। তিনটি পর্বে শিক্ষার্থীদের প্রায় ৩৮টি বই পড়ানো হয়। পরে বইগুলোর বিষয়বস্তুর ওপর ভিত্তি করে মেধা যাচাইয়ের প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়।
সভাপতির বক্তব্যে ইউএনও জিয়াউর রহমান বলেন, শিক্ষার্থীদের মেধা ও মনন সমৃদ্ধ করার লক্ষ্যেই এ উৎসবের আয়োজন করা হয়েছে। বই পড়ার অভ্যাস শিক্ষার্থীদের অজানাকে জানার আগ্রহ বাড়ায়, চিন্তাশক্তির বিকাশ ঘটায় এবং দেশ গঠনে ভূমিকা রাখতে সহায়তা করে।
তিনি আরও বলেন, এ উৎসবের মাধ্যমে বিদ্যালয়গুলোর গ্রন্থাগারকেন্দ্রিক চর্চাও নতুন করে সচল হয়েছে। শিক্ষার্থী, শিক্ষক, অভিভাবক, গণমাধ্যমকর্মী ও প্রশাসনের সম্মিলিত উদ্যোগে শ্রীমঙ্গলে বই পড়ার সংস্কৃতি আরও বিস্তৃত হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা মনে করেন, এ ধরনের আয়োজন শিক্ষার্থীদের পাঠ্যবইয়ের বাইরের জগৎ সম্পর্কে জানতে উৎসাহিত করবে। পাশাপাশি বই পড়ার প্রতি আগ্রহ বাড়িয়ে ভবিষ্যতে জ্ঞানভিত্তিক ও সৃজনশীল প্রজন্ম গড়ে তুলতেও ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।
জৈন্তা বর্তা / ওয়াদুদ




