মহালয়ার মধ্য দিয়ে শুরু দুর্গোৎসবের ক্ষণগণনা, ১৬ অক্টোবর মহাষষ্ঠী
শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬, ০৪:৫৭ অপরাহ্ন

মহালয়ার মধ্য দিয়ে শুরু দুর্গোৎসবের ক্ষণগণনা, ১৬ অক্টোবর মহাষষ্ঠী

জৈন্তা বার্তা ডেস্ক

প্রকাশিত: ১০/১০/২০২৬ ১২:২৩:০৬ অপরাহ্ন

মহালয়ার মধ্য দিয়ে শুরু দুর্গোৎসবের ক্ষণগণনা, ১৬ অক্টোবর মহাষষ্ঠী

সংগৃহীত


বাঙালি সনাতন ধর্মাবলম্বীদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজার পুণ্য লগ্ন শুভ মহালয়া আজ। পক্ষকালব্যাপী পিতৃপক্ষের অবসান ঘটিয়ে দেবীপক্ষের সূচনার মধ্য দিয়েই আনুষ্ঠানিকভাবে বেজে উঠল দেবী দুর্গার মর্ত্যে আগমনী বার্তা ও দুর্গাপূজার ক্ষণগণনা।আজ শনিবার ভোরের আলো ফোটার সঙ্গে সঙ্গেই রাজধানী ঢাকাসহ সারাদেশের মন্দির ও পূজামণ্ডপগুলোতে চণ্ডীপাঠের মাধ্যমে মর্ত্যলোকে আমন্ত্রণ জানানো হবে দেবী দুর্গাকে। একই সঙ্গে ভক্তরা পিতৃপুরুষের আত্মার শান্তি কামনায় অঞ্জলি, তর্পণ ও জলদান করে তাঁদের স্মরণ করবেন। শাস্ত্রীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, এই মহালয়া তিথিতেই দেবতাদের তেজোরাশি থেকে দশভুজা মহাশক্তি মহামায়ারূপে আবির্ভূত হন এবং দেবতাদের দেওয়া ১০টি অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে ৯ দিনব্যাপী যুদ্ধে মহিষাসুর বধের দায়িত্ব পান।

আগামী ১৬ অক্টোবর মহাষষ্ঠী পূজার মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে পাঁচ দিনব্যাপী শারদীয় দুর্গোৎসব শুরু হবে এবং ২১ অক্টোবর বিজয়া দশমীতে প্রতিমা বিসর্জনের মাধ্যমে এর সমাপ্তি ঘটবে।শুভ মহালয়া উপলক্ষে আজ ভোর থেকেই রাজধানীর কেন্দ্রীয় ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দির, রমনা কালী মন্দির, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জগন্নাথ হল, রামকৃষ্ণ মঠ ও রামকৃষ্ণ মিশন, সিদ্ধেশ্বরী কালী মন্দির, স্বামীবাগে লোকনাথ ব্রহ্মচারী আশ্রম ও বরদেশ্বরী কালীমাতা মন্দিরসহ বিভিন্ন স্থানে চণ্ডীপাঠ, মহালয়ার ঘট স্থাপন ও বিশেষ পূজা অনুষ্ঠিত হচ্ছে।মহানগর সর্বজনীন পূজা কমিটির সাধারণ সম্পাদক সুবাশীষ কুমার বিশ্বাস সাধন জানান, ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দিরে মহালয়ার বিশেষ ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে ঢাকায় নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনারের উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে। অন্যদিকে রমনা কালীমন্দিরেও ভোর থেকে ভক্তদের ঢল নামবে বলে জানান মন্দির পরিচালনা কমিটির যুগ্ম সম্পাদক মিন্টু বসু।

জগন্নাথ হল উপাসনালয়ের প্রধান পুরোহিত সাধন চক্রবর্তী জানান, শাস্ত্রীয় গণনা অনুযায়ী এ বছর দেবী দুর্গার মর্ত্যে আগমন ঘটবে ঘোটকে (ঘোড়ায়) চড়ে এবং তিনি কৈলাসে প্রস্থান করবেন নৌকায় চড়ে।বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি বাসুদেব ধর জানিয়েছেন, এ বছর সারাদেশে মোট ৩৩ হাজার ৮৫১টি পূজামণ্ডপে শারদীয় দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে।

এদিকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশনায় এ বছর পূজামণ্ডপগুলোর জন্য সরকারি অনুদান ৪ কোটি টাকা থেকে বাড়িয়ে ৫ কোটি টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। পাশাপাশি সনাতন ধর্মাবলম্বীদের দীর্ঘদিনের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে সরকার নির্বাহী আদেশে পূজার ছুটি তিন দিন পর্যন্ত বৃদ্ধি করেছে। এর ফলে সাপ্তাহিক ছুটি (শুক্র ও শনিবার) যুক্ত হয়ে ২০ থেকে ২৪ অক্টোবর পর্যন্ত টানা পাঁচ দিনের সরকারি ছুটি উপভোগ করতে পারবেন নাগরিকরা। সরকারের এই ইতিবাচক সিদ্ধান্তের জন্য প্রধানমন্ত্রীর প্রতি ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছে পূজা উদযাপন পরিষদ।উৎসবকে নির্বিঘ্ন ও আনন্দমুখর করতে সারাদেশের মণ্ডপগুলোতে প্রতিমা তৈরি, আকর্ষণীয় প্যান্ডেল নির্মাণ, আলোকসজ্জা এবং নিরাপত্তামূলক সব ধরনের প্রস্তুতি পুরোদমে এগিয়ে চলছে।

জৈন্তাবার্তা/সুলতানা



শীর্ষ সংবাদ: