ছবি: জৈন্তা বার্তা
সিলেটের অন্যতম আকর্ষণীয় পর্যটনকেন্দ্র জাফলংয়ের ‘মায়াবী ঝর্ণা’ বা সংগ্রামপুঞ্জি ঝর্ণা। বর্ষায় পাহাড়ের গা বেয়ে নেমে আসা শুভ্র জলধারা পর্যটকদের মুগ্ধ করে। তবে এখন ঝর্ণাটিতে নেই তেমন কোনো পানির প্রবাহ। তারপরও কমেনি পর্যটকদের আনাগোনা। জলের কলতান না থাকলেও বিশাল পাথরখণ্ড, সবুজ পাহাড় আর নৈসর্গিক সৌন্দর্যের টানে প্রতিদিন এখানে ভিড় করছেন দর্শনার্থীরা।
সরেজমিনে দেখা যায়, ভারতের মেঘালয় পাহাড়ের কোল ঘেঁষে অবস্থিত মায়াবী ঝর্ণার বুক এখন অনেকটাই পানিশূন্য। একসময় যেখানে জলপ্রপাতের তীব্র শব্দে চারপাশ মুখরিত থাকত, সেখানে এখন ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রয়েছে বিশাল আকারের পাথরখণ্ড। তবে ঝর্ণার এই শুষ্ক রূপও প্রকৃতির ভিন্ন এক সৌন্দর্য তুলে ধরেছে।
পাথরের খাঁজে খাঁজে হেঁটে পাহাড়ের কাছাকাছি যাওয়ার রোমাঞ্চ উপভোগ করছেন পর্যটকরা। কেউ পাথরের ওপর দাঁড়িয়ে ছবি তুলছেন, আবার কেউ সবুজ পাহাড় ও পাথুরে প্রকৃতির সৌন্দর্য ক্যামেরায় বন্দী করছেন।
ঢাকা থেকে পরিবার নিয়ে ঘুরতে আসা পর্যটক শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘ভেবেছিলাম ঝর্ণার পানিতে গা ভেজাব। কিন্তু এসে দেখি পানি নেই। প্রথমে কিছুটা মন খারাপ হলেও এখানকার সবুজ পাহাড়, পিয়াইন নদীর শান্ত রূপ আর বিশাল পাথরখণ্ডের সৌন্দর্য আমাদের হতাশ করেনি। পানি না থাকলেও জাফলংয়ের প্রাকৃতিক রূপ সত্যিই মুগ্ধ করার মতো।’
বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী নুসরাত জাহান বলেন, ‘পানি থাকলে হয়তো অন্যরকম সৌন্দর্য পেতাম। তবে এখন পাথরের ওপর দিয়ে ট্রেকিং করে ওপরে ওঠার যে অ্যাডভেঞ্চার, সেটাও বেশ উপভোগ করছি।’
স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জানান, সাধারণত বর্ষা মৌসুমে মায়াবী ঝর্ণা পূর্ণ যৌবন ফিরে পায়। কিন্তু বৃষ্টিপাত কমে যাওয়ায় এবং শুষ্ক মৌসুমের প্রভাবে ঝর্ণাটির পানিপ্রবাহ এখন অনেকটাই ক্ষীণ। তবুও পর্যটকদের আগমন থেমে নেই। বিশেষ করে সাপ্তাহিক ছুটির দিনগুলোতে এখানে পর্যটকদের উপচে পড়া ভিড় দেখা যায়।
পর্যটকদের ঘিরে ব্যস্ততা বেড়েছে স্থানীয় ব্যবসায়ীদেরও। রেস্তোরাঁ, বিভিন্ন পণ্যের দোকান, ফটোগ্রাফার ও নৌকার মাঝিদের ব্যস্ততা চোখে পড়ার মতো। পর্যটকদের উপস্থিতিকে কেন্দ্র করে স্থানীয় অর্থনীতিতেও এর ইতিবাচক প্রভাব পড়ছে বলে জানান ব্যবসায়ীরা।
এ বিষয়ে ট্যুরিস্ট পুলিশের এক কর্মকর্তা বলেন, ‘ঝর্ণায় পানি না থাকলেও পর্যটকদের নিরাপত্তায় আমাদের নিয়মিত টহল অব্যাহত রয়েছে। বিশেষ করে শুষ্ক পাথরের ওপর দিয়ে ওপরে ওঠার সময় কেউ যেন পা পিছলে দুর্ঘটনার শিকার না হন, সেদিকে পর্যটকদের সতর্ক করা হচ্ছে।’
পানি না থাকায় মায়াবী ঝর্ণার চিরচেনা রূপ বদলে গেলেও প্রকৃতির টানে পর্যটকদের আগ্রহে ভাটা পড়েনি। বরং বিশাল পাথর, পাহাড়ি সবুজ আর পিয়াইন নদীর মেলবন্ধনে শুষ্ক মৌসুমেও নতুন এক সৌন্দর্যের আবহ তৈরি হয়েছে জাফলংয়ের এই পর্যটনকেন্দ্রে।
জৈন্তা বার্তা/ ওয়াদুদ




