আখতারুজ্জামানের জামিন শুনানিকে ঘিরে আদালতে বিএনপি-জামায়াতপন্থী আইনজীবীদের হা/তাহাতি
রবিবার, ০৪ অক্টোবর ২০২৬, ১০:০৬ PM

আখতারুজ্জামানের জামিন শুনানিকে ঘিরে আদালতে বিএনপি-জামায়াতপন্থী আইনজীবীদের হা/তাহাতি

জৈন্তা বার্তা ডেস্ক

প্রকাশিত: ০৪/১০/২০২৬ ০৯:০৭:০২ PM

আখতারুজ্জামানের জামিন শুনানিকে ঘিরে আদালতে বিএনপি-জামায়াতপন্থী আইনজীবীদের হা/তাহাতি

সংগৃহিত


মেজর (অব.) আখতারুজ্জামানের জামিন আবেদনের শুনানিকে কেন্দ্র করে ঢাকার আদালতে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীপন্থী আইনজীবীদের মধ্যে হট্টগোল, তর্কাতর্কি ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটেছে।

রোববার (৪ অক্টোবর) দুপুরে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জামসেদ আলমের আদালতে এ ঘটনা ঘটে। আইনজীবীদের দুই পক্ষের উত্তেজনার মধ্যে বিচারক একবার এজলাসে এসে পরিস্থিতি দেখে খাসকামরায় ফিরে যান। পরে পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত হলে আবার এজলাসে এসে শুনানি করেন। এ সময়ও দুই পক্ষের আইনজীবীদের মধ্যে তর্কাতর্কি ও পোশাক টানাটানির ঘটনা ঘটে।

শুনানি শেষে আখতারুজ্জামানকে আদালত ভবনের নিচে নামানোর সময়ও দুই পক্ষের আইনজীবীরা হাতাহাতিতে জড়িয়ে পড়েন। পরে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে লাগেজ ও ট্রলি সংকটকে কেন্দ্র করে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি, সরকারি কাজে বাধা এবং একজন কর্মকর্তাকে লাঞ্ছিত করার অভিযোগে করা মামলায় গত শুক্রবার মেজর (অব.) আখতারুজ্জামানকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এক দিনের রিমান্ড শেষে রোববার দুপুরে তাঁকে আদালতে হাজির করে কারাগারে পাঠানোর আবেদন করা হয়। অন্যদিকে তাঁর আইনজীবীরা জামিনের আবেদন করেন।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে গত বছরের ডিসেম্বরে জামায়াতে ইসলামীতে যোগ দেন বিএনপি থেকে দুবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত আখতারুজ্জামান। রোববার তাঁর পক্ষে আদালতে জামায়াতপন্থী একদল আইনজীবী উপস্থিত ছিলেন।

বিচারক এজলাসে আসার আগে আদালতকক্ষে দাঁড়ানোর জায়গা নিয়ে বিএনপিপন্থী আইনজীবীদের সঙ্গে তাঁদের বিরোধ শুরু হয়। একপর্যায়ে দুই পক্ষের আইনজীবীরা হট্টগোল ও ধাক্কাধাক্কিতে জড়িয়ে পড়েন।

এর মধ্যেই বেলা ২টা ৪১ মিনিটে বিচারক এজলাসে আসেন। তবে আইনজীবীদের হট্টগোল অব্যাহত থাকায় তিনি এজলাস ছেড়ে খাসকামরায় চলে যান। পরে পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত হলে বেলা ২টা ৪৫ মিনিটে আবার এজলাসে আসেন।

এ সময় কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে আখতারুজ্জামান বিচারকের অনুমতি নিয়ে বলেন, তাঁর পক্ষে ১০ জন আইনজীবী শুনানি করবেন। তিনি ১০ জন আইনজীবীকেই শুনানির অনুমতি দেওয়ার আবেদন জানান।

শুনানিতে আসামিপক্ষের আইনজীবী আবদুর রাজ্জাক বলেন, আখতারুজ্জামান কয়েকবারের সংসদ সদস্য ও সাবেক মেজর জেনারেল। তাঁর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ মিথ্যা। বিমানবন্দরের ঘটনায় তিনি কোনো অপরাধ করেননি; বরং একজন সচেতন নাগরিক হিসেবে প্রতিবাদ করেছেন।

তিনি বলেন, বিমানবন্দরে আখতারুজ্জামানের সঙ্গে অন্যায় আচরণ করা হয়েছে। শুধু তিনি নন, আরও অনেকে সেখানে ভোগান্তির শিকার হয়েছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত কয়েকটি ভিডিওতেও এর প্রমাণ রয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

আবদুর রাজ্জাক আরও বলেন, ‘অন্যায়-অনিয়মের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করাই কি একজন সচেতন নাগরিক ও মুক্তিযোদ্ধার অপরাধ?’

রাজনৈতিক কারণে আখতারুজ্জামানকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে দাবি করে তিনি বলেন, তাঁর মক্কেল অসুস্থ এবং নানা রোগে আক্রান্ত। মামলায় যে ধারাগুলো দেওয়া হয়েছে, সেগুলো জামিনযোগ্য। তাই যেকোনো শর্তে তাঁর জামিন মঞ্জুরের আবেদন করা হচ্ছে।

আসামিপক্ষের আরেক আইনজীবী সাইফুর রহমানও তাঁর জামিনের আবেদন করেন।

অন্যদিকে জামিনের বিরোধিতা করে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ওমর ফারুক ফারুকী বলেন, বিমানবন্দরের ঘটনার একটি ভিডিওতে আখতারুজ্জামানকে মালামাল ছুড়ে মারতে দেখা গেছে। তাঁর ভাষ্য, প্রতিবাদ অপরাধ নয়, তবে প্রতিবাদের ভাষা ও ধরন থাকতে হবে। একজনকে গায়ে হাত দিয়ে আঘাত করা প্রতিবাদের ভাষা হতে পারে না।

তিনি আরও বলেন, এ ধরনের আচরণের পেছনে কোনো শক্তি বা মদদ আছে কি না, তা তদন্তের স্বার্থে জানা প্রয়োজন। আসামি জামিনে মুক্ত হলে মামলার তদন্ত বিঘ্নিত হতে পারে।

এ সময় রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীর বক্তব্যে জামায়াতপন্থী আইনজীবীরা উত্তেজিত হয়ে প্রতিবাদ জানান। পরে আসামিপক্ষের আইনজীবী আবদুর রাজ্জাকও রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীর বক্তব্যের প্রতিবাদ করেন।

শুনানির একপর্যায়ে বেলা ৩টা ৮ মিনিটের দিকে বিএনপি ও জামায়াতপন্থী আইনজীবীরা আবারও হইচই শুরু করেন। তখন বিচারক তাঁদের শান্ত হওয়ার নির্দেশ দেন।

পরে আসামিপক্ষের আইনজীবী আখতারুজ্জামানের বয়স, শারীরিক অবস্থা ও অসুস্থতা বিবেচনায় জামিনের আবেদন করেন। রাষ্ট্রপক্ষ এর বিরোধিতা করে।

উভয় পক্ষের শুনানি শেষে আদালত আখতারুজ্জামানের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে তাঁকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

আদালতের আদেশের পর পুলিশ কঠোর নিরাপত্তায় আখতারুজ্জামানকে সিঁড়ি দিয়ে নিচে নামিয়ে আনছিল। একতলা নামার পর আদালত ভবনের নিচে বিএনপি ও জামায়াতপন্থী আইনজীবীদের মধ্যে হাতাহাতি ও হট্টগোলের খবর পেয়ে পুলিশ তাঁকে কিছুক্ষণ সেখানে দাঁড় করিয়ে রাখে।

এ সময় আদালত ভবনের নিচে জড়ো হওয়া জামায়াতপন্থী আইনজীবী ও তাঁদের সমর্থকদের সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেন বিএনপিপন্থী আইনজীবীরা। একপর্যায়ে দুই পক্ষ ধাক্কাধাক্কি ও হাতাহাতিতে জড়িয়ে পড়েন। পরে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার পর আখতারুজ্জামানকে আদালত ভবন থেকে বের করে নিয়ে যায়।

পরে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ওমর ফারুক ফারুকী অভিযোগ করেন, জামায়াত আদালতসহ বিভিন্ন জায়গায় ‘মব’ সৃষ্টি করতে চাইছে। তাঁর দাবি, সকাল থেকেই জামায়াতপন্থী আইনজীবী ও তাঁদের সমর্থকেরা আদালতে জড়ো হয়েছিলেন।

অন্যদিকে আসামিপক্ষের আইনজীবী আবদুর রাজ্জাক রাষ্ট্রপক্ষের এ অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, তাঁরা কোনো বাইরের লোক আনেননি। আইনজীবীদের প্রত্যেকেরই মক্কেল রয়েছে এবং সে কারণেই আদালতে তাঁদের উপস্থিতি ছিল।


জৈন্তা বর্তা / ওয়াদুদ



শীর্ষ সংবাদ:

আখতারুজ্জামানের জামিন শুনানিকে ঘিরে আদালতে বিএনপি-জামায়াতপন্থী আইনজীবীদের হা/তাহাতি
সিলেটি নারী ও ভাষা নিয়ে শাবি শিক্ষার্থীর মন্তব্য, সমালোচনার ঝড়
সরকার আইনের শাসনে বিশ্বাসী: এমপি এস এম ফয়সল
পানি নেই, তবুও পাথর আর সবুজের টানে মায়াবী ঝর্ণায় পর্যটকদের ভিড়
সিলেট জেলা ক্রীড়া সংস্থার এ্যাডহক কমিটির প্রথম সভা অনুষ্ঠিত
মালয়েশিয়ার শ্রমবাজারে যাচ্ছে ১০ হাজার বাংলাদেশি কর্মী
প্রবাসীদের জন্য বিশেষ কার্ড করছে সরকার: প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রী
সিলেটে প্রায় ১৩ লাখ টাকার চো'রাচা'লানের পণ্য জ'ব্দ
সিলেটে হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে আরও শতাধিক
সেপ্টেম্বরে সিলেটের সড়কে ঝ'রেছে ২১ জনের প্রা'ণ