সংগৃহীত
দারিদ্র্যকে জয় করে এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ অর্জন করেও অর্থাভাবে কলেজে ভর্তি নিয়ে অনিশ্চয়তায় পড়েছিল মেধাবী শিক্ষার্থী ছাইমা বেগম। ঠিক সেই সময়ে তার পাশে দাঁড়িয়েছেন সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. ইসলাম উদ্দিন। ইউএনওর আর্থিক সহযোগিতায় সোমবার সিলেটের মদনমোহন কলেজে একাদশ শ্রেণিতে ভর্তি হয়েছে ছাইমা।
ছাইমা বেগম জগন্নাথপুর পৌরসভার ইসহাকপুর এলাকার দরিদ্র আব্দুর রহমানের মেয়ে।
জানা গেছে, ইসহাকপুর পাবলিক উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এবারের এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়ে জিপিএ-৫ পেয়ে কৃতিত্বের সঙ্গে উত্তীর্ণ হয় ছাইমা। ওই বিদ্যালয়ের একমাত্র জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থী সে। একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির জন্য পাঁচটি কলেজে আবেদন করে ছাইমা। এর মধ্যে সিলেটের মদনমোহন কলেজে ভর্তির সুযোগ পায়। তবে অর্থের অভাবে তার ভর্তি অনিশ্চিত হয়ে পড়ে।
ইসহাকপুর এলাকার দিনমজুর আব্দুর রহমান ও জেসমিন বেগম দম্পতির তিন সন্তানের মধ্যে সবার ছোট ছাইমা। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি ছিলেন তার বাবা। দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ থাকায় বর্তমানে সংসারের খরচ জোগাতে বড় ছেলেকে টমটম চালাতে হচ্ছে। অভাব-অনটনের পাশাপাশি বাবার চিকিৎসার ব্যয় বহন করতেও পরিবারটিকে হিমশিম খেতে হচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে ছাইমার উচ্চশিক্ষা অর্জনের স্বপ্নও ফিকে হয়ে আসছিল।
অর্থ সংকটে যখন তার লেখাপড়া বন্ধ হওয়ার উপক্রম, তখন বিষয়টি জানতে পেরে ছাইমার পাশে দাঁড়ান ইউএনও মো. ইসলাম উদ্দিন। তার শিক্ষার স্বপ্ন পূরণে একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির যাবতীয় ব্যবস্থা ও আর্থিক সহায়তা দেন তিনি। পাশাপাশি ছাইমার থাকা-খাওয়াসহ সার্বিক বিষয়ে সহযোগিতার আশ্বাসও দিয়েছেন ইউএনও।
শিক্ষার্থী ছাইমা বেগম বলেন, ‘অভাবের সংসারে কলেজে ভর্তি হওয়া অনিশ্চিত হয়ে পড়েছিল। তখন আমার এই দুর্দিনে পাশে দাঁড়িয়েছেন ইউএনও স্যার। স্যারের আর্থিক সহযোগিতায় কলেজে ভর্তি হতে পেরেছি। তাঁর এই অবদানের জন্য আমি ও আমার পরিবার চিরকৃতজ্ঞ।’
আবেগাপ্লুত ছাইমা জানায়, ‘আমি পড়াশোনা শেষ করে ডাক্তার হয়ে দেশ ও সমাজের সেবা করতে চাই।’ এ জন্য সে সবার দোয়া চেয়েছে।
ছাইমার মা জেসমিন বেগম বলেন, ‘অভাব-অনটনের সংসারে আমার মেয়ের লেখাপড়া বন্ধ হয়ে যাচ্ছিল। ভালো ফল করেও যখন কলেজে ভর্তি হতে পারছিল না, তখন ইউএনও স্যারের সহযোগিতায় সে কলেজে ভর্তি হওয়ার সুযোগ পেয়েছে। আল্লাহ স্যারকে ভালো রাখুন।’
ইসহাকপুর পাবলিক উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক তাজউদ্দিন আহমদ বিষয়টির সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ‘অর্থ সংকটের কারণে মেধাবী ছাইমার লেখাপড়া হুমকির মুখে পড়েছিল। ইউএনও স্যারের আর্থিক অনুদান ও সহযোগিতায় ছাইমার উচ্চশিক্ষা অর্জনের পথ সুগম হলো। স্যারের এই অবদান সত্যিই প্রশংসনীয়।’
জগন্নাথপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. ইসলাম উদ্দিন বলেন, ‘একজন মেধাবী শিক্ষার্থীর স্বপ্ন বাস্তবায়নে পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করেছি মাত্র। তার পড়াশোনায় আর্থিক সাহায্য ও সার্বিক সহযোগিতা থাকবে। থাকা-খাওয়াসহ আনুষঙ্গিক বিষয়গুলো নিয়ে কলেজ কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলব। আশা করি, একটা ব্যবস্থা করতে পারব।’
জৈন্তা বার্তা / ওয়াদুদ




