সিন্ডিকেট ভাঙায় রাজস্ব বাড়ল ৩৮ লাখ টাকা
শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:০৩ AM

হাকালুকির ‘হাওরখাল’ বিল পুনঃনিলামে

সিন্ডিকেট ভাঙায় রাজস্ব বাড়ল ৩৮ লাখ টাকা

মোহাম্মদ মোস্তফা উদ্দিন, বড়লেখা প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ২৪/০৯/২০২৬ ০৮:১৪:৩০ PM

সিন্ডিকেট ভাঙায়  রাজস্ব বাড়ল ৩৮ লাখ টাকা

ছবি:সংগৃহীত


মৌলভীবাজারের বড়লেখা অংশে হাকালুকি হাওরের সর্ববৃহৎ সরকারি জলমহাল ‘গোটাউরা হাওরখাল বদ্ধ’ বিলের পুনঃনিলামে আগের তুলনায় ৩৮ লাখ টাকা বেশি দর উঠেছে। প্রথম দফার নিলামে কাঙ্ক্ষিত দর না ওঠায় প্রশাসন নিলাম স্থগিত করে পুনঃনিলামের আয়োজন করলে বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) উন্মুক্ত নিলামে জলমহালটির সর্বোচ্চ দর ওঠে ৮০ লাখ টাকা।

জানা গেছে, উচ্চ আদালতে মামলা সংক্রান্ত জটিলতার কারণে এক বছরের জন্য ‘গোটাউরা হাওরখাল বদ্ধ’ বিলটি উন্মুক্ত নিলামের মাধ্যমে ইজারা দেওয়ার উদ্যোগ নেয় উপজেলা প্রশাসন। গত ২২ সেপ্টেম্বর হাকালুকি ইউনিয়ন ভূমি অফিস প্রাঙ্গণে প্রথম দফার নিলাম অনুষ্ঠিত হয়। এতে ২২টি নিবন্ধিত মৎস্যজীবী সমবায় সমিতি অংশ নেয়।

প্রথম দফার নিলামে সর্বোচ্চ দর ওঠে ৫০ লাখ ৫০ হাজার টাকা। তবে প্রশাসনের বিবেচনায় এই দর কাঙ্ক্ষিত না হওয়ায় নিলাম কার্যক্রম স্থগিত করা হয়। সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে গোপন সমঝোতার কারণে জলমহালটির কাঙ্ক্ষিত দর ওঠেনি।

এদিকে নিলাম স্থগিতের পর উপজেলা ও জেলা জলমহাল ব্যবস্থাপনা কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বৃহস্পতিবার পুনরায় উন্মুক্ত নিলামের আয়োজন করা হয়। এতে আগের ২২টির পরিবর্তে ৬৬টি মৎস্যজীবী সমবায় সমিতি অংশ নেয়। প্রতিযোগিতামূলক নিলামে সর্বোচ্চ ৮০ লাখ টাকা দর দেন ভোলাকান্দি মৎস্যজীবী সমবায় সমিতির প্রতিনিধি ছায়াদ আহমদ। তাকে চূড়ান্ত দরদাতা হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। ভ্যাট ও আয়করসহ মোট রাজস্বের পরিমাণ এক কোটি টাকার বেশি হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

প্রথম দফার সর্বোচ্চ দর ৫০ লাখ ৫০ হাজার টাকার তুলনায় দ্বিতীয় দফার নিলামে দর বেড়েছে ২৯ লাখ ৫০ হাজার টাকা। তবে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, অন্যান্য সরকারি রাজস্বসহ হিসাব করলে সরকারের মোট আয় আরও বেশি হবে।

স্থানীয় সূত্র জানায়, গত বছর জলমহালটি প্রায় দুই কোটি টাকায় ইজারা দেওয়া হয়েছিল। এবার প্রথম দফায় তুলনামূলক কম দর ওঠায় বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়ভাবে আলোচনা ও সমালোচনা শুরু হয়। নিলাম স্থগিতের পর পুনরায় উন্মুক্ত নিলামের সিদ্ধান্ত নেওয়া হলে অধিকসংখ্যক মৎস্যজীবী সমবায় সমিতি এতে অংশ নেয়।

বড়লেখা উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) নাঈমা নাদিয়া বলেন, “প্রথম দিনের উন্মুক্ত নিলামে দর ওঠে ৫০ লাখ ৫০ হাজার টাকা। তা কাঙ্ক্ষিত না হওয়ায় সরকারি স্বার্থ বিবেচনায় নিলাম স্থগিত করা হয়। পরে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনায় বৃহস্পতিবার দুপুরে উন্মুক্ত পুনঃনিলাম অনুষ্ঠিত হয়। এতে ৬৬টি মৎস্যজীবী সমিতি অংশগ্রহণ করে। সর্বোচ্চ দরদাতা নির্বাচিত হয়েছে ভোলাকান্দি মৎস্যজীবী সমবায় সমিতি।”

প্রশাসনের এই সিদ্ধান্তের ফলে প্রথম দফার তুলনায় পুনঃনিলামে জলমহালটির দর উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।


জৈন্তা বার্তা/ ওয়াদুদ