ছবি:সংগৃহীত
হবিগঞ্জের আজমিরীগঞ্জে কুশিয়ারা নদীর দীর্ঘদিনের ভাঙন রোধে কোটি টাকা ব্যয়ে নদীর তীর রক্ষা প্রকল্পের কাজ চলছে। তবে অভিযোগ উঠেছে, সেই তীর রক্ষা প্রকল্পের পাশ থেকেই রাতের আঁধারে প্রভাবশালীদের ছত্রছায়ায় অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, উপজেলার ২ নম্বর বদলপুর ইউনিয়নের পিরোজপুর ও সাতগাঁও উচ্চ বিদ্যালয়ের পার্শ্ববর্তী কুশিয়ারা-কালনী নদীর তলদেশ থেকে ড্রেজার মেশিন বসিয়ে রাতের আঁধারে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। স্থানীয়দের দাবি, প্রতিরাতে প্রায় ৩ থেকে ৪ লাখ টাকার বালু উত্তোলন করে বিভিন্ন স্থানে বিক্রি করা হচ্ছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, বেশ কিছুদিন ধরে একটি অসাধু চক্র রাতের আঁধারে ড্রেজার মেশিন দিয়ে কুশিয়ারা নদী থেকে বালু উত্তোলন করে অন্য নৌকায় লোড করে বিভিন্ন এলাকায় নিয়ে বিক্রি করছে। দিনের বেলায় ড্রেজারটি বন্ধ থাকলেও রাত হলেই তা চালু করা হয়।
তাদের অভিযোগ, প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতাদের ভয়ে এ বিষয়ে কেউ প্রকাশ্যে কথা বলতে রাজি হচ্ছেন না। স্থানীয়রা বাধা দেওয়ার চেষ্টা করলে তাদের বিভিন্ন ধরনের মামলা ও হামলার ভয় দেখানো হয় বলেও অভিযোগ রয়েছে।
এ বিষয়ে ড্রেজার মালিক ও চালক সোহেলের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, “ভাই, ফোনে রেকর্ড কইরেন না, পরে বেকায়দায় পড়ে যাব। ড্রেজারটি বিএনপি নেতা এবং মির্জাকান্দার যুবলীগ নেতা কাজলসহ আরও কয়েকজনের মাধ্যমে রাতে চলে।”
নদী ভাঙন রোধে চলমান তীর রক্ষা কাজের মিডিয়া সুপারভাইজার কামরুজ্জামানের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, এ বিষয়ে খোঁজ নিয়ে জানাবেন।
এ বিষয়ে আজমিরীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) মো. জসিম উদ্দিন চৌধুরীর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, “বদলপুর ও সৌলরী—দুই জায়গায় ব্লক নির্মাণের কাজ চলছে। তারা অন্যান্য জায়গা থেকে মাটি এনে এখানে আনলোড করছে। কুশিয়ারা নদী থেকে বালু উত্তোলনের বিষয়ে আমার জানা নেই। পানি উন্নয়ন বোর্ডের দায়িত্বপ্রাপ্তদের কাছ থেকে জেনে নিন।”
হবিগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের প্রকৌশলী সায়েদুর রহমানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, “আমরা বালু উত্তোলনের অনুমোদন দিতে পারি না। অনুমোদন দেওয়া হয়েছে কি না, সেটিও জানা নেই। ইউএনও অফিস বা জেলা অফিস থেকে জেনে নিয়ে বলতে হবে।”
স্থানীয়দের অভিযোগ, নদী ভাঙন রোধে সরকারের বড় ধরনের বিনিয়োগে যখন তীর রক্ষা প্রকল্পের কাজ চলছে, তখন প্রকল্প এলাকার কাছ থেকেই বালু উত্তোলন করা হলে নদীর তীর ও প্রকল্পের স্থায়িত্ব হুমকির মুখে পড়তে পারে।
সুশীল সমাজ ও স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, তীর রক্ষা বাঁধের গোড়া থেকে এভাবে বালু উত্তোলন অব্যাহত থাকলে নদীভাঙনের ঝুঁকি আরও বাড়তে পারে। এতে নদী তীরবর্তী মানুষের বসতভিটা ও কৃষিজমি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
তারা সরকারের বড় এই প্রকল্প সফলভাবে বাস্তবায়নের স্বার্থে অবৈধভাবে নদী থেকে ড্রেজিং বন্ধ, বালু উত্তোলনের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা এবং দ্রুত প্রশাসনিক হস্তক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন।
জৈন্তা বার্তা/ ওয়াদুদ




