ছাতকে গ্রাহকের ৫ কোটি টাকা হাতিয়ে নিল সিন্ডিকেট, ৯ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট
রবিবার, ০৩ মে ২০২৬, ০৭:৫৪ PM

ছাতকে গ্রাহকের ৫ কোটি টাকা হাতিয়ে নিল সিন্ডিকেট, ৯ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট

মোঃ মোশাররফ হোসেন, ছাতক

প্রকাশিত: ১১/১০/২০২৫ ০৫:১৬:৫৯ PM

ছাতকে গ্রাহকের ৫ কোটি টাকা হাতিয়ে নিল সিন্ডিকেট, ৯ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট

ছবি:নিজস্ব


ছাতক উপজেলায় বিদ্যুৎ সংযোগ ও লাইন সংস্কারের নামে গ্রাহকদের কাছ থেকে প্রায় ৫ কোটি টাকা আত্মসাৎ করার অভিযোগে ৯ জনের বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট দাখিল করেছে পুলিশ। দীর্ঘ তদন্ত শেষে বৃহস্পতিবার মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা উপ-পরিদর্শক (এসআই) মঞ্জুল ইসলাম নয়ন আদালতে এ অভিযোগপত্র দাখিল করেন।

অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, সিলেট পিডিবি প্রকল্প কার্যালয়ের অধীনে ছাতক উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় পুরাতন এলটি (লো-টেনশন) লাইন সংস্কারের নাম করে একটি প্রভাবশালী প্রতারক চক্র কয়েক বছর ধরে গ্রাহকদের কাছ থেকে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিচ্ছিল। এই চক্রে ছিলেন ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের মালিক হাজী শহিদুল তালুকদার, তার ভাই কামাল তালুকদার, শ্যালক মাসুম চৌধুরী, ইঞ্জিনিয়ার ফজলুর রহমান ওরফে ফাহাদ, ছাতক উপজেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক ও স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান বিল্লাল আহমদ, জাউয়াবাজার ইউনিয়নের যুবলীগ নেতা ছাদ মিয়া, কৈতক গ্রামের আওয়ামী লীগ নেতা আশরাফ আলী  এবং সাবেক এমপি মুহিবুর রহমান মানিকের ঘনিষ্ঠ সহযোগী আজিজ রহমানসহ আরও কয়েকজন।

চক্রটি বিভিন্ন গ্রামে গিয়ে বিদ্যুতের খুঁটি স্থাপন, ট্রান্সফরমার বসানো ও নতুন সংযোগের আশ্বাস দিয়ে প্রতি গ্রাহকের কাছ থেকে ১০ হাজার থেকে ১ লাখ টাকা পর্যন্ত আদায় করত। এভাবে তারা প্রায় ৫ শতাধিক গ্রাহকের কাছ থেকে ৫ কোটি টাকারও বেশি অর্থ হাতিয়ে নেয়।

ঘটনার সূত্রপাত ঘটে গত ১৭ মার্চ রাতে, যখন ছাতক সেনা ক্যাম্পের তৎকালীন ক্যাপ্টেন শোয়েব বিন আহমেদের নেতৃত্বে সেনাবাহিনীর টহল দল জাউয়াবাজার ইউনিয়নের দেওকাপন গ্রামে অভিযান চালিয়ে দু’জন প্রতারককে হাতে নাতে আটক করে। তারা বিদ্যুৎ সংযোগের নামে স্থানীয়দের কাছ থেকে ১৭ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করছিলেন। আটকরা হলেন- টাঙ্গাইলের বাসাইল উপজেলার মাসুম চৌধুরী ও কালিহাতি উপজেলার ফজলুর রহমান ওরফে ফাহাদ। এরপর দেওকাপন গ্রামের সাইদুল হক বাদী হয়ে ছাতক থানায় প্রতারণা ও চাঁদাবাজির অভিযোগে মামলা দায়ের করেন। মামলায় ৭ জনকে আসামি করা হয়। তদন্তে উঠে আসে, এই চক্র দীর্ঘ পাঁচ বছর ধরে বিদ্যুৎ উন্নয়নের নামে প্রতারণা চালিয়ে আসছিল।

ভুক্তভোগী গ্রাহকরা জানিয়েছেন, যাদের কারণে আমরা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছি, তারা যেন কোনোভাবেই শাস্তি থেকে রেহাই না পায় এটাই আমাদের একমাত্র দাবি।

তদন্ত কর্মকর্তা এসআই মঞ্জুা ইসলাম নয়ন বলেন, বিদ্যুৎ গ্রাহকদের কাছ থেকে প্রায় ৫ কোটি টাকারও বেশি অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার প্রমাণ পেয়েছি। তদন্ত শেষে ৯ জনের বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট দাখিল করা হয়েছে। গ্রাহকরা নিশ্চয়ই সুবিচার পাবেন।

থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শফিকুর রহমান খান বলেন, চাঁদাবাজি করতে গিয়ে সেনাবাহিনীর হাতে দু’জন আটক হয়েছিলেন। তাদের জিজ্ঞাসাবাদে একটি বৃহৎ প্রতারণা চক্রের তথ্য মেলে। আমরা পর্যাপ্ত প্রমাণ সংগ্রহ করেছি।

জৈন্তাবার্তা / সুলতানা



শীর্ষ সংবাদ:

হা*ম ও হা*মের উপসর্গে সিলেটসহ দেশে ২৪ ঘণ্টায় ১০ শিশুর মৃ*ত্যু
৪ মে প্রথম হজ ফ্লাইট, সিলেট থেকে ৭টি সরাসরি
দক্ষিণ সুরমায় ট্রাক-পিকআপ সংঘ*র্ষে নি*হত ৬ জনের পরিচয় শনাক্ত
সিলেটে সমাবেশকে কেন্দ্র করে সক্রিয় ছি*নতাইকারী চ*ক্রের ১০ সদস্য গ্রে*ফতার
দক্ষিণ সুরমায় ট্রাকের সঙ্গে পিকআপের সং-ঘর্ষ, নি-হত ৮
আজমিরীগঞ্জ-বানিয়াচং সড়কে সংস্কার শেষ না হতেই ফা-টল
গোয়াইনঘাটে ঝুলে আছে হাজারো মানুষের স্বপ্ন লালটিকির ব্রিজ
স্থানীয় সরকার নির্বাচনে একক প্রার্থী দেওয়ার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর
টানা বৃষ্টিতে সিলেট বিভাগ জুড়ে বন্যার পদধ্বনি
মেয়র থাকতেই প্রকল্প দিয়েছিলাম, বাস্তবায়ন করেনি আওয়ামী লীগ