ছবি:সংগৃহীত
মাত্র ১২৯ রানের ছোট লক্ষ্য নিয়েও শেষ পর্যন্ত রোমাঞ্চ ছড়াল সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে। শেষ ওভারে প্রয়োজনীয় রান তুলতে গিয়ে চাপে পড়ে যায় চট্টগ্রাম রয়্যালস। শেষ বলে জয়ের জন্য দরকার ছিল ২ রান। সেই কঠিন মুহূর্তে ঠাণ্ডা মাথায় দুই প্রান্ত বদল করে ম্যাচ শেষ করেন হাসান নওয়াজ। তাঁর দৃঢ়তায় রাজশাহীকে হারিয়ে ২ উইকেটের নাটকীয় জয় তুলে নেয় চট্টগ্রাম।
শেষ ওভারে বোলিং করতে আসেন এসএম মেহেরব। ওভারের শুরুতেই হাসান নওয়াজ স্ট্রাইক ঘুরিয়ে ৪ রান আদায় করেন। তৃতীয় বলে চার মেরে ম্যাচ প্রায় হাতের মুঠোয় আনলেও পরের দুই বল ডট দিয়ে উত্তেজনা বাড়ান মেহেরব। তবে শেষ বলে লং অফের দিকে বল ঠেলে দিয়ে দ্রুত দুই রান নিয়ে জয় নিশ্চিত করেন নওয়াজ। ব্যাট হাতে অপরাজিত ৩৫ রান করার পাশাপাশি বল হাতে ১ উইকেট নিয়ে ম্যাচসেরার পুরস্কারও জেতেন তিনি।
শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) সিলেটে রাজশাহীর দেওয়া লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরুতেই ধাক্কা খায় চট্টগ্রাম। মাত্র ২৮ রানেই হারায় চার উইকেট। অ্যাডাম রসিংটন, জয়, মোহাম্মদ নাইম ও সাদমান ইসলাম দ্রুত সাজঘরে ফিরলে চাপ বাড়ে রয়্যালসের ওপর। এই পর্যায়ে রাজশাহীর হয়ে এসএম মেহেরব ও বিনুরা ফার্নান্দো সমান দুটি করে উইকেট নেন।
এরপর অধিনায়ক শেখ মাহেদি হাসান ও হাসান নওয়াজ মিলে দলকে সামাল দেওয়ার চেষ্টা করেন। তাঁদের জুটিতে কিছুটা স্বস্তি এলেও সন্দিপ লামিচানের বলে মাহেদি ২৮ রান করে বোল্ড হলে আবারও চাপে পড়ে চট্টগ্রাম। তখন দলের সংগ্রহ ছিল ৬৮ রান, উইকেট পাঁচটি।
পরবর্তী সময়ে হাসান নওয়াজ ও আসিফ আলী ৩৫ রানের একটি জুটি গড়েন। তবে ২৫ বলে ২৭ রান করা আসিফ বিনুরা ফার্নান্দোর বলে আউট হলে জয়ের পথ আরও কঠিন হয়ে ওঠে। ১০৩ রানে ৬ উইকেট হারানোর পর রাজশাহীর প্রত্যাবর্তনের আভাস দেখা যায়। এরপর দ্রুত দুই উইকেট হারালেও শেষ পর্যন্ত হাসান নওয়াজের দৃঢ়তায় জয় পায় চট্টগ্রাম।
রাজশাহীর পক্ষে বিনুরা ফার্নান্দো সর্বোচ্চ তিনটি উইকেট শিকার করেন। এসএম মেহেরব নেন দুটি, আর রিপন, তানজিম ও সন্দিপ লামিচানে নেন একটি করে উইকেট।
এর আগে টস হেরে ব্যাট করতে নেমে চট্টগ্রামের বোলারদের সামনে দাঁড়াতে পারেনি রাজশাহী। নির্ধারিত ২০ ওভারে ৯ উইকেট হারিয়ে তাদের সংগ্রহ দাঁড়ায় ১২৮ রান। শুরুতেই তানভীর ইসলামের আঘাতে ভাঙে উদ্বোধনী জুটি। এরপর নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারাতে থাকে রাজশাহী।
মাঝের দিকে মুশফিক, রায়ান বার্ল ও এসএম মেহেরব কিছুটা চেষ্টা করলেও বড় জুটি গড়তে ব্যর্থ হন। আমের জামাল তিনটি উইকেট তুলে নিয়ে রাজশাহীর ব্যাটিং লাইনআপ ভেঙে দেন। শেষদিকে তানজিম হাসান সাকিব ১৪ বলে ১৪ রান করে অপরাজিত থাকলেও দলকে বড় স্কোরে পৌঁছাতে পারেননি।
চট্টগ্রামের বোলারদের মধ্যে আমের জামাল ছিলেন সবচেয়ে সফল। তানভীর ইসলাম ও শরিফুল ইসলাম নেন দুটি করে উইকেট। একটি করে উইকেট পান শেখ মাহেদি হাসান ও হাসান নওয়াজ।
জৈন্তা বার্তা/ ওয়াদুদ




