ছবি:সংগৃহীত
শেষ ওভারে যখন রংপুর রাইডার্সের জয়ের জন্য প্রয়োজন ১৫ রান, তখন স্ট্রাইকে ছিলেন ঝড়ো ব্যাটার খুশদিল শাহ। উত্তেজনায় ঠাসা সেই মুহূর্তে নোয়াখালী এক্সপ্রেসের হয়ে দুর্দান্ত বোলিং করেন হাসান মাহমুদ। ওভারের প্রথম বলেই খুশদিলকে ফিরিয়ে ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেন তিনি। একই ওভারে আরও দুই উইকেট তুলে নিয়ে রংপুরের আশা শেষ করে দেন এই পেসার। নাটকীয় লড়াই শেষে ৯ রানের মূল্যবান জয় তুলে নেয় নোয়াখালী এক্সপ্রেস।
সপ্তম ম্যাচে নেমে অবশেষে বিপিএলে নিজেদের প্রথম জয় পেল নোয়াখালী। অন্যদিকে চলতি আসরে এটি রংপুর রাইডার্সের দ্বিতীয় হার।
১৪৯ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে রংপুরের ব্যাটিংয়ে ধারাবাহিকতার অভাব স্পষ্ট ছিল। খুশদিল শাহ ছাড়া আর কেউই ম্যাচ নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিতে পারেননি। তাওহিদ হৃদয় ২৮ বলে ২৯ এবং ইফতিখার আহমেদ ৩১ বলে ৩৭ রান করেন। নোয়াখালীর হয়ে হাসান মাহমুদ ছিলেন সবচেয়ে সফল বোলার-২৬ রানে ৪ উইকেট শিকার করেন তিনি। জহির খান নেন দুটি উইকেট।
এর আগে ব্যাটিংয়ে নেমে নোয়াখালী এক্সপ্রেস শুরুটা করে দুর্দান্তভাবে। পাওয়ার প্লেতে এক উইকেট হারিয়ে তাদের সংগ্রহ দাঁড়ায় ৬৬ রান। বড় ইনিংসের সম্ভাবনা জাগলেও ইনিংসের শেষভাগে নাটকীয় পতনে দলটি ১৪৮ রানেই অলআউট হয়ে যায়। মূলত মৃত্যুঞ্জয় চৌধুরীর হ্যাটট্রিকেই শেষ পর্যন্ত চাপে পড়ে নোয়াখালী।
রংপুরের আমন্ত্রণে ব্যাট করতে নেমে শাহাদাত হোসেন দিপু ও সৌম্য সরকার উদ্বোধনী জুটিতে যোগ করেন ২৫ রান। দিপু ৮ বলে ১৪ রান করে মোস্তাফিজুর রহমানের বলে বোল্ড হয়ে ফেরেন। তিনটি চারে আক্রমণাত্মক শুরু করলেও ইনিংস বড় করতে পারেননি।
দিপুর বিদায়ের পর সৌম্য সরকার ও হাবিবুর রহমান সোহান ইনিংসের গতি বাড়ান। তাঁদের জুটিতেই পাওয়ার প্লে শেষে নোয়াখালীর রান দাঁড়ায় ৬৬। তবে সোহান ১৬ বলে ৩০ রান করে সুফিয়ান মুকিমের বলে আউট হলে ছন্দপতন শুরু হয়।
পরের ধাপে সৌম্য সরকার ও মোহাম্মদ নবি দুজনকেই খুশদিল শাহ ফেরান। সৌম্য ২৭ বলে ৩১ রান করেন। ৮৪ রানে চার উইকেট হারিয়ে কিছুটা ব্যাকফুটে চলে যায় নোয়াখালী। অধিনায়ক হায়দার আলী মাত্র ১ রান করে নাহিদ রানার বলে উইকেটরক্ষকের হাতে ক্যাচ দেন।
এক প্রান্তে জাকের আলী অনিক ৩৭ বলে ৩৮ রান করে টিকে থাকার চেষ্টা করলেও দ্রুত রান তুলতে না পারায় দল বড় স্কোরে যেতে পারেনি। মোস্তাফিজুর রহমানের দ্বিতীয় শিকার হয়ে তিনি আউট হলে দ্রুত আরও উইকেট হারায় নোয়াখালী।
ইনিংসের শেষ ওভারে রংপুরের পেসার মৃত্যুঞ্জয় চৌধুরী টানা তিন বলে অঙ্কন, জহির খান ও বিলালকে ফিরিয়ে হ্যাটট্রিক পূর্ণ করেন। বিপিএল ক্যারিয়ারে এটি তাঁর দ্বিতীয় হ্যাটট্রিক। এর আগে ২০২২ সালে চট্টগ্রাম চ্যালেঞ্জার্সের হয়ে সিলেট সানরাইজার্সের বিপক্ষে একই কীর্তি গড়েছিলেন তিনি।
জৈন্তা বার্তা/ ওয়াদুদ




