ছবি : দৈনিক জৈন্তা বার্তা পত্রিকা
কানাডায় এখন আবাসনের রমরমা বাণিজ্য চলছে। এতে সব থেকে বেশী ফায়দা নিচ্ছেন দেশটিতে পুরাতন বসবাসকারীরা। এতে তারা অল্প দিনে হচ্ছেন কোটি টাকার মালিক। আর ভুক্তভোগী হচ্ছেন ছাত্র ভিসা কিংবা ভিজিট ভিসায় আসা নতুনরা।
সরেজমিনে কানাডার টরেন্টো শহরের বাঙ্গালী অধ্যুষিত এলাকা ডেনফোর্থ যেটি বাংলা টাউন নামে পরিচিত সেখানে ঘুরে বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়, যারা পুরাতন বসবাসকারী কিংবা পিআর হোল্ডার তারা বিভিন্ন বাসা বা এপার্টমেন্টের ম্যানেজমেন্টের সাথে কথা বলে একটি বাসা লিজ নেন। দুটি বেডরুম আর একটি লিভিং রুম সর্বোচ্চ ১৯০০ থেকে ২০০০ ডলার দিয়ে ভাড়া নেন। এর পর সেই বাসায় নতুন যারা আসছেন তাদেরকে সাবলিজ দিচ্ছেন। এতে এক রুমে একজন যেখানে থাকার কথা সেখানে থাকছেন দুজন একই সাথে লিভিং রুম খালি থাকার কথা থাকলেও সেখানেও রাখা হচ্ছে দুজন। এতে নতুন যারা আসেন তাদের দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে সাবলিজ দিয়ে একটি বাসা থেকে তুলছেন ৩ হাজার থেকে ৩৫০০ ডলার। নতুন বাসা ভাড়া কোথাও না পেয়ে বাধ্য হয়ে অনেক শর্ত মেনেই থাকতে হচ্ছে ভুক্তভোগীদের।
নামপ্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজনের সাথে কথা বলে জানা যায়, গেল কয়েক মাস থেকে প্রচুর মানুষ কানাডা শহরে আসার কারণে ইতিমধ্যে দেখা দিয়েছে আবাসন সংকট। এরই মধ্যে যেই বাসা গুলো ফাকা ছিল পুরাতন বসবাসকারীরা ভাড়া নিয়ে রেখে দিয়েছেন। যার কারণে তাদের কাছ থেকে বাসা বাড়া না নিয়ে থাকার আর উপায়া নেই। তাই বাধ্য হয়ে তাদের কাছ থেকে বাসা ভাড়া নিয়ে থাকতে হচ্ছে।
এদিকে খুঁজ নিয়ে জানা যায়, টরেন্টো শহরে গেল ৭ বছর ধরে আছেন একজন পিআর হোল্ডার। গেল ৭ বছরে যত ডলার ইনকাম করেছেন তার থেকে বেশী ইনকাম করেছেন নতুনদের দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে আবাসন ব্যবসার মাধ্যমে। এমন অবস্থার মাধ্যমে কানাডায় নতুন যারা আসছেন তারা পড়ছেন সব থেকে বেশী বিড়ম্বনায়।
গেল প্রায় এক যুগ ধরে কানাডায় বসবাস করেন কানাডা আওয়ামী লীগ নেতা জামাল উদ্দিন। তিনি জানান, বর্তমানে যারা নতুনদের দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে আবাসন বাণিজ্য করছে এটা আসলে হওয়া উচিত না। কারণ কানাডা হচ্ছে একটি সভ্য দেশ। এখানে মানুষ শান্তিতে বসবাস করে। কানাডায় যখন নিজের দেশের মানুষ আসেন তখন এখানে পুরাতন বসবাসকারীদের উচিত তাদের সব ধরনের সহযোগিতা করা। তা না করে তাদের মাধ্যমে ফায়দা নেয়াটা অন্যায়। এটি অসুস্থ মন-মানসিকতার পরিচয়।
JA




