ছবি:সংগৃহীত
দেশের শ্রমশক্তির একটি বড় অংশ এখনো অনানুষ্ঠানিক (ইনফরমাল) খাতে রয়ে গেছে বলে উল্লেখ করেছেন বাণিজ্য, শিল্প, বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। তিনি বলেছেন, দেশকে টেকসই ও ভারসাম্যপূর্ণ অবস্থানে নিতে হলে সব খাতকে ধীরে ধীরে আনুষ্ঠানিক কাঠামোর আওতায় আনতে হবে।
মঙ্গলবার (৩ মার্চ) রাজধানীর সিরডাপ ইন্টারন্যাশনাল সেন্টার-এ আয়োজিত ত্রিপক্ষীয় পরামর্শ পরিষদ (টিসিসি) এবং আরএমজি টিটিসি’র পৃথক দুটি সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
নিম্নআয়ের মানুষের জন্য সরকারের গৃহীত উদ্যোগের কথা তুলে ধরে মন্ত্রী জানান, নির্বাচনী ইশতেহার অনুযায়ী ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচির প্রস্তুতি দ্রুত এগোচ্ছে। তিনি বলেন, প্রতিটি পরিবার একটি করে কার্ড পাবে এবং এর মাধ্যমে মাসে ২ হাজার ৫০০ টাকা মূল্যের সহায়তা প্রদান করা হবে। সরাসরি রেশন ব্যবস্থা না হলেও এটি রেশনের উদ্দেশ্য অনেকাংশে পূরণ করবে।
শিল্প ও শ্রম খাতের সমস্যা সমাধানে নিয়মিত আলোচনার ওপর গুরুত্বারোপ করে বাণিজ্যমন্ত্রী শ্রম সচিবকে টিসিসি সভা নিয়মিত আয়োজনের নির্দেশনা দেন। তিনি বলেন, আলোচনায় তর্ক-বিতর্ক বা উত্তপ্ত বাক্য বিনিময় হতে পারে-যা গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার অংশ। এতে আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই; বরং সংলাপের মাধ্যমেই টেকসই সমাধান সম্ভব।
তিনি আরও সতর্ক করে বলেন, শ্রম খাতকে আনুষ্ঠানিক করা না গেলে আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী কমপ্লায়েন্স নিশ্চিত করা এবং শ্রমিকদের ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠা করা কঠিন হবে।
শ্রম ও কর্মসংস্থান এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী-এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় আসন্ন পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে কল-কারখানার শ্রমিকদের বেতন-ভাতা সময়মতো পরিশোধ ও ছুটি মঞ্জুরের বিষয়টি গুরুত্বসহকারে আলোচনা হয়। বিশেষ করে আরএমজি খাতে যাতে কোনো শ্রম অসন্তোষ তৈরি না হয়, সে বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়।
সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শ্রম ও প্রবাসী কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী মো. নূরুল হক এবং প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিন। এছাড়া বাংলাদেশ এমপ্লয়ার্স ফেডারেশন-এর ফজলে হাসান শামিম ও টিসিসি’র সহ-সভাপতি মো. আনোয়ার হোসেন বক্তব্য রাখেন। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন শ্রম সচিব মো. আব্দুর রহমান তরফদার। সভায় মালিক ও শ্রমিক-উভয় পক্ষের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
জৈন্তা বার্তা/ ওয়াদুদ




