ছবি:সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে স্বাক্ষরিত বাণিজ্যচুক্তি নিয়ে অতিরিক্ত উদ্বেগের কিছু নেই বলে জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির। তিনি বলেন, কোনো আন্তর্জাতিক চুক্তিই একেবারে চূড়ান্ত নয়; প্রয়োজন হলে আলোচনার মাধ্যমে ভবিষ্যতে সংশোধন ও পরিবর্তনের সুযোগ থাকে।
আজ বুধবার সকালে সচিবালয়ে নিজ কার্যালয়ে সফররত মার্কিন সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী পল কাপুর-এর সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন তিনি।
বাণিজ্যমন্ত্রী জানান, চুক্তি নিয়ে আলাদা কোনো নতুন আলোচনা হয়নি। এটি ইতোমধ্যে দুই দেশের মধ্যে রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে স্বাক্ষরিত হয়েছে। ফলে নতুন করে সিদ্ধান্ত নেওয়ার বিষয় নেই। তবে ভবিষ্যতে প্রয়োজন হলে আলোচনা করে পরিবর্তন আনা সম্ভব।
চুক্তিটি বাংলাদেশের স্বার্থের বিরুদ্ধে কি না-এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক চুক্তিতে দুই পক্ষেরই কিছু দাবি থাকে। কিছু ধারা এক পক্ষের অনুকূলে, আবার কিছু অন্য পক্ষের জন্য সুবিধাজনক হয়। আলোচনার মাধ্যমে একটি ‘উইন-উইন’ পরিস্থিতি তৈরির চেষ্টা করা হয়। তাই চুক্তিটিকে এখনই পুরোপুরি ইতিবাচক বা নেতিবাচক হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।
তিনি আরও জানান, গত ৯ ফেব্রুয়ারি মার্কিন পাল্টা শুল্ক ইস্যুতে বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে বাণিজ্যচুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। যুক্তরাষ্ট্রের উচ্চ আদালতের ট্যারিফসংক্রান্ত রায়ের পর পরিস্থিতি সরকার পর্যবেক্ষণ করছে এবং বিষয়টি এখনো বিকাশমান।
বৈঠকে দুই দেশের মধ্যকার বিদ্যমান বাণিজ্য সম্পর্ক জোরদার করা, নতুন খাতে বিনিয়োগের সম্ভাবনা, ডিজিটাল অবকাঠামো উন্নয়নসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়। তবে নির্দিষ্টভাবে চুক্তির কোনো ধারা নিয়ে আলাদা আলোচনা হয়নি বলে জানান মন্ত্রী।
মার্কিন প্রেসিডেন্টের পাঠানো অভিনন্দন বার্তায় বাণিজ্য ও সামরিক বিষয় উল্লেখ থাকলেও বৈঠকে সামরিক প্রসঙ্গ ওঠেনি। বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, সামরিক বিষয় বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের আওতাভুক্ত নয়।
ভিসা বন্ড প্রসঙ্গে তিনি জানান, বিষয়টি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় দেখবে। সরকার চায় দুই দেশের ব্যবসায়ী ও বিনিয়োগকারীরা যেন নির্বিঘ্নে যাতায়াত করতে পারেন।
বাণিজ্যমন্ত্রী আরও বলেন, নতুন সরকারের সঙ্গে কাজ চালিয়ে যাওয়ার বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে ইতিবাচক আশ্বাস পাওয়া গেছে। কিছু নন-ট্যারিফ বাধা দূর করা গেলে বাংলাদেশে মার্কিন বিনিয়োগ আরও বাড়বে এবং দেশটি বিদেশি বিনিয়োগের জন্য আরও আকর্ষণীয় হয়ে উঠবে।
বৈঠকে বাণিজ্য প্রতিমন্ত্রী মো. শরীফুল আলম, বাংলাদেশে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি ক্রিস্টেনসেন, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব মাহবুবুর রহমানসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
জৈন্তা বার্তা/ ওয়াদুদ




