ছবি:সংগৃহীত
বিদেশে বাংলাদেশের শ্রমবাজার সম্প্রসারণ কার্যক্রমের অগ্রগতি এখন থেকে প্রতি সপ্তাহে হালনাগাদ আকারে উপস্থাপনের নির্দেশ দিয়েছেন প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী। তিনি স্পষ্টভাবে বলেছেন, এ কাজে কোনো ধরনের শৈথিল্য বা বিলম্ব বরদাশত করা হবে না।
বুধবার রাজধানী ঢাকায় প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে বৈদেশিক কর্মসংস্থান বৃদ্ধি ও প্রবাসীকল্যাণে গঠিত কমিটির প্রথম সভায় সভাপতির বক্তব্যে মন্ত্রী এ নির্দেশনা দেন। পরে মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি জানানো হয়।
জাপানকে সম্ভাবনাময় শ্রমবাজার হিসেবে গুরুত্ব
মন্ত্রী বলেন, বিদেশি কর্মীদের জন্য নিরাপদ কর্মপরিবেশ, শতভাগ শ্রম অধিকার নিশ্চিতকরণ এবং তুলনামূলক উচ্চ বেতনের কারণে জাপান বাংলাদেশের জন্য অত্যন্ত সম্ভাবনাময় শ্রমবাজার। জাপানে কর্মসংস্থান বৃদ্ধির লক্ষ্যে একটি সমন্বিত কর্মপরিকল্পনা প্রণয়নের কাজ ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে।
সভায় জানানো হয়, জাপান চারটি প্রধান ভিসা ক্যাটাগরিতে বিদেশি কর্মী নিয়োগ করে-
১. এমপ্লয়মেন্ট ফর স্কিল ডেভেলপমেন্ট (ইএসডি)
২. স্পেসিফায়েড স্কিলড ওয়ার্কার (এসএসডব্লিউ)
৩. ইঞ্জিনিয়ার্স/স্পেশালিস্ট ইন হিউম্যানিটিজ/ইন্টারন্যাশনাল সার্ভিসেস
৪. স্টুডেন্ট ভিসা
জাপান টাইমসের এক প্রতিবেদনের তথ্য তুলে ধরে জানানো হয়, শুধু ইএসডি ও এসএসডব্লিউ ক্যাটাগরিতেই ২০২৯ সালের মধ্যে ১২ লাখের বেশি বিদেশি কর্মী নিয়োগের পরিকল্পনা রয়েছে।
অতিরিক্ত কর্মক্ষম জনগোষ্ঠীকে দক্ষ করে তোলার ওপর জোর
সভায় উপস্থাপিত তথ্যে বলা হয়, সর্বশেষ জনশুমারি অনুযায়ী দেশের অভ্যন্তরীণ শ্রমবাজারের চাহিদা পূরণের পরও প্রায় আড়াই কোটি কর্মক্ষম মানুষ অতিরিক্ত রয়েছে। এ জনশক্তিকে দক্ষ করে তুলতে পারলে তাদের একটি বড় অংশ জাপানে কর্মসংস্থানের সুযোগ পেতে পারে। এতে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের সম্ভাবনা তৈরি হবে।
যথাযথ প্রস্তুতি গ্রহণ ও জাপানি নিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে চাহিদা নিশ্চিত করা গেলে ২০৩০ সালের মধ্যে নতুন করে লক্ষাধিক কর্মী জাপানে পাঠানো সম্ভব হতে পারে বলেও সভায় আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়।
টিটিসিতে জাপানি ভাষা কোর্স চালুর প্রস্তাব
জাপানমুখী শ্রমবাজার সম্প্রসারণে ভাষাগত দক্ষতাকে অগ্রাধিকার দিয়ে দেশের সব কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র (টিটিসি)-এ পর্যায়ক্রমে জাপানি ভাষা কোর্স চালুর প্রস্তাব উত্থাপন করা হয়। স্থানীয়ভাবে প্রয়োজনীয় সংখ্যক জাপানি ভাষা প্রশিক্ষক নিয়োগের পাশাপাশি ‘ভার্চ্যুয়াল টিচিং’ প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে জাপান থেকে প্রশিক্ষক যুক্ত করার বিষয়েও আলোচনা হয়।
সভায় প্রধানমন্ত্রীর প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান এবং শ্রম ও কর্মসংস্থানবিষয়ক উপদেষ্টা মাহদী আমিন, প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী মো. নুরুল হক, মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ সচিব নেয়ামত উল্যা ভূঁইয়া, জাতীয় দক্ষতা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের নির্বাহী চেয়ারম্যান নাজনীন কাওসার চৌধুরী এবং জাপানের ঐতা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক শাকিরুল ইসলাম খান উপস্থিত ছিলেন।
জৈন্তা বার্তা/ ওয়াদুদ




