৮ ঘণ্টাতেই বর্জ্যমুক্ত সিলেট, নগরবাসীকে ধন্যবাদ জানালেন সিসিক প্রশাসক
শনিবার, ৩০ মে ২০২৬, ১১:৫৬ PM

৮ ঘণ্টাতেই বর্জ্যমুক্ত সিলেট, নগরবাসীকে ধন্যবাদ জানালেন সিসিক প্রশাসক

জৈন্তা বার্তা ডেস্ক

প্রকাশিত: ৩০/০৫/২০২৬ ১১:০৫:০৩ PM

৮ ঘণ্টাতেই বর্জ্যমুক্ত সিলেট, নগরবাসীকে ধন্যবাদ জানালেন সিসিক প্রশাসক

ছবি:সংগৃহীত


পূর্বঘোষিত প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী কোরবানির বর্জ্য অপসারণ করে মাত্র ৮ ঘণ্টার মধ্যেই সিলেট নগরীকে পরিচ্ছন্ন করেছে সিলেট সিটি করপোরেশন (সিসিক)। ঈদের দিন বিকেল ৬টার মধ্যেই নগরের সব ওয়ার্ড থেকে কোরবানির বর্জ্য অপসারণ সম্পন্ন করে পরিচ্ছন্ন পরিবেশ ফিরিয়ে আনা হয়।

শনিবার (৩০ মে) এ উপলক্ষে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় সিসিক প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী বর্জ্য ব্যবস্থাপনার সার্বিক চিত্র তুলে ধরেন এবং এ কাজে সহযোগিতার জন্য নগরবাসী, সাংবাদিক, কর্মকর্তা-কর্মচারী ও পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের ধন্যবাদ জানান।

সভায় তিনি জানান, ঈদ ও ঈদের পরদিন মিলিয়ে সিলেট নগরীতে প্রায় ২৫ হাজার পশু কোরবানি হয়েছে। কোরবানির বর্জ্যের পাশাপাশি নগরের একটি স্থায়ী ও পাঁচটি অস্থায়ী অনুমোদিত পশুর হাট এবং বিভিন্ন স্থানে বসানো অবৈধ পশুর হাটের বর্জ্যও অপসারণ করতে হয়েছে। সব মিলিয়ে প্রায় ১ হাজার ৩০০ টন বর্জ্য রেকর্ড সময়ে অপসারণ করা হয়েছে।

বর্জ্য ব্যবস্থাপনাকে সুশৃঙ্খল ও পরিবেশবান্ধব করতে সিসিক এবার ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করে। প্রশাসক জানান, কোরবানিদাতাদের মধ্যে প্রায় ৩০ হাজার পরিবেশবান্ধব পলিব্যাগ এবং ৫ হাজার কেজি ব্লিচিং পাউডার ও তরল জীবাণুনাশক বিনামূল্যে বিতরণ করা হয়েছে। এছাড়া নাগরিকদের সেবায় বিশেষ হটলাইনও সার্বক্ষণিক চালু রাখা হয়।

তিনি বলেন, ঈদের আগের রাত থেকেই বিভিন্ন পশুর হাটের বর্জ্য পরিষ্কারের কাজ শুরু হয়। ঈদের দিন মূল বর্জ্য অপসারণ কার্যক্রমে সহস্রাধিক পরিচ্ছন্নতাকর্মী অংশ নেন। বর্জ্য পরিবহনে সিসিকের নিজস্ব ৬০টি ট্রাকের পাশাপাশি ভাড়ায় চালিত আরও ৫৫টি ট্রাক ও ডাম্পার ব্যবহার করা হয়।

সিসিক প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী বলেন, ‘১২ ঘণ্টার মধ্যে বর্জ্য অপসারণের নির্দেশনা থাকলেও আমরা চ্যালেঞ্জ নিয়ে ৮ ঘণ্টার মধ্যে কাজ শেষ করার লক্ষ্য নির্ধারণ করি। পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের নিরলস পরিশ্রম এবং সচেতন নাগরিকদের সহযোগিতায় তা সম্ভব হয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘নির্ধারিত স্থানে কোরবানি দেওয়া এবং বর্জ্য নির্ধারিত ব্যাগে সংরক্ষণ করে পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের হাতে তুলে দেওয়ার মাধ্যমে নগরবাসী দায়িত্বশীলতার পরিচয় দিয়েছেন। তাদের এই সহযোগিতা প্রশংসার দাবিদার।’

ঈদের আনন্দ ত্যাগ করে দায়িত্ব পালনকারী সিসিকের কর্মকর্তা, কর্মচারী ও পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের প্রতিও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন প্রশাসক। তিনি বলেন, ‘তাদের নিষ্ঠা ও ত্যাগ সিসিক পরিবার সবসময় স্মরণ রাখবে।’

ভবিষ্যতে আরও উন্নত নাগরিক সেবা প্রদানের প্রত্যয় ব্যক্ত করে তিনি বলেন, ‘এই সফলতা আমাদের আত্মবিশ্বাস বাড়িয়েছে। যেকোনো উৎসব বা দুর্যোগে আরও দ্রুত ও আধুনিক সেবা নিশ্চিত করতে আমরা প্রস্তুত। সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় সিলেটকে পরিচ্ছন্ন, সুন্দর ও আদর্শ গ্রিন সিটিতে রূপান্তর করা সম্ভব।’

মতবিনিময় সভায় সিসিকের প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা বিশ্বজিৎ দেব, প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা লে. কর্নেল (অব.) একলিম আবদীনসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এবং বিভিন্ন প্রিন্ট, ইলেকট্রনিক ও অনলাইন গণমাধ্যমের সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।

জৈন্তা বার্তা/ ওয়াদুদ