দোয়ারাবাজারে হ/ত্যা মা/মলায় ষ/ড়যন্ত্র করে ফাঁ/সানোর অভিযোগ
শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:৪০ অপরাহ্ন

ন্যায়বিচার চান আমজাদ হোসেন

দোয়ারাবাজারে হ/ত্যা মা/মলায় ষ/ড়যন্ত্র করে ফাঁ/সানোর অভিযোগ

জৈন্তা বার্তা ডেস্ক

প্রকাশিত: ২৪/১০/২০২৬ ০৪:৪৪:৫১ অপরাহ্ন

দোয়ারাবাজারে হ/ত্যা মা/মলায় ষ/ড়যন্ত্র করে ফাঁ/সানোর অভিযোগ

ছবি:সংগৃহীত


সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজারে ২০০৮ সালের একটি হত্যা মামলায় ষড়যন্ত্রমূলকভাবে আসামি করার অভিযোগ তুলে ন্যায়বিচার চেয়েছেন মো. আমজাদ হোসেন ওরফে আমজদ আলী (৫২)। মামলায় বিভিন্ন সময়ে ১৯ মাস ১৩ দিন কারাভোগসহ দীর্ঘদিন ধরে সামাজিক, আর্থিক ও মানসিক ক্ষতির শিকার হয়েছেন বলে দাবি করেছেন তিনি।

শনিবার (২৪ অক্টোবর) সিলেট প্রেসক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ তুলে মামলার প্রকৃত ঘটনা উদ্‌ঘাটন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওর সত্যতা যাচাই এবং বিচারাধীন মামলাটির দ্রুত নিষ্পত্তির দাবি জানান তিনি। আমজাদ হোসেন সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজার উপজেলার নতুন কৃষ্ণনগর গ্রামের বাসিন্দা।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে আমজাদ হোসেন জানান, স্নাতক পর্যন্ত পড়াশোনা শেষে তিনি নিজ এলাকায় শিক্ষা, সামাজিক উন্নয়ন ও জনসচেতনতামূলক কর্মকাণ্ডে যুক্ত হন। তিনি আদর্শ ছাত্র পরিষদ, পান্ডারগাঁওয়ের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি এবং শ্রীপুর সরকারি খাদিজাতুল কুবরা (রহ.) মহিলা মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। এ ছাড়া শ্রীপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষানুরাগী সভাপতি, দাতা সদস্য ও সহসভাপতি এবং হাজী কনু মিয়া উচ্চবিদ্যালয়ে শিক্ষানুরাগী সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন বলে উল্লেখ করেন।

তিনি বলেন, প্রবাসে যাওয়া কিংবা শহরে চাকরি করার সুযোগ থাকলেও এলাকার মানুষের পাশে থাকার জন্য গ্রামেই থেকে কাজ করেছেন। কিন্তু একটি পক্ষের প্রভাব ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত কর্মকাণ্ডের কারণে তাঁকে হত্যা মামলায় জড়ানো হয়েছে বলে অভিযোগ তাঁর।

২০০৮ সালের সংঘর্ষ ও হত্যা মামলা

লিখিত বক্তব্যে আমজাদ হোসেন জানান, ২০০৮ সালের ১৬ এপ্রিল সন্ধ্যার পর দোয়ারাবাজার উপজেলার নতুন কৃষ্ণনগর গ্রামের ইনাইখালির পশ্চিমে সেলিম মিয়া ও ভোরহান উদ্দিন গংদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষের পর সেলিম মিয়া বাড়ি ফিরে যান। পরে অসুস্থ হয়ে পড়লে তাঁকে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে রাত আনুমানিক ৩টার দিকে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।

এ ঘটনায় ২০০৮ সালের ১৮ এপ্রিল সেলিম মিয়ার ভাগনে শুকুর আলী বাদী হয়ে আমজাদ হোসেনকে এক নম্বর আসামি করে ১৮ জনের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করেন। মামলাটি এখনো নিষ্পত্তি হয়নি জানিয়ে আমজাদ হোসেন বলেন, বর্তমানে তিনি জামিনে রয়েছেন।

ঘটনাস্থলে ছিলেন না বলে দাবি

আমজাদ হোসেনের দাবি, সংঘর্ষের সময় তিনি শ্রীপুর বাজারে নুরুলের চায়ের দোকানে অবস্থান করছিলেন। সেখানে ইউনিয়নের একাধিকবার নির্বাচিত চেয়ারম্যান শফিকুল হকের নেতৃত্বে ফুটবল খেলার আয়োজন নিয়ে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের আলোচনা চলছিল। তিনি ওই আলোচনায় উপস্থিত ছিলেন।

এ বিষয়ে আদালতে সাফাই সাক্ষীরাও তাঁর অবস্থানের পক্ষে সাক্ষ্য দিয়েছেন বলে দাবি করেন আমজাদ হোসেন। তাঁর অভিযোগ, প্রকৃত ঘটনা বিবেচনায় না নিয়ে তাঁকে মামলায় আসামি করা হয়েছে।

১৯ মাস ১৩ দিন কারাভোগের দাবি

দীর্ঘদিন ধরে মামলা চলায় তাঁর ব্যক্তিগত ও পারিবারিক জীবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে সংবাদ সম্মেলনে উল্লেখ করেন আমজাদ হোসেন। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, ২০০৮, ২০০৯ ও ২০১০ সালে বিভিন্ন সময়ে তাঁকে মোট ১৯ মাস ১৩ দিন কারাগারে থাকতে হয়েছে।

তিনি বলেন, মামলা পরিচালনার আর্থিক চাপ, সামাজিক মর্যাদার ওপর প্রভাব এবং দীর্ঘদিনের মানসিক যন্ত্রণার কারণে তিনি ও তাঁর পরিবার নানা সমস্যার সম্মুখীন হয়েছেন। এ মামলায় তাঁর জীবনের মূল্যবান সময় নষ্ট হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ভিডিও যাচাইয়ের দাবি

সংবাদ সম্মেলনে মামলার বাদী শুকুর আলীকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওর বিষয়েও সাংবাদিকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন আমজাদ হোসেন।

তাঁর দাবি, ২০২৬ সালের ১৪ সেপ্টেম্বর বিভিন্ন ফেসবুক আইডি থেকে প্রকাশিত ভিডিওটিতে ২০২৫ সালের ২৫ মে সুনামগঞ্জ আদালত প্রাঙ্গণে শুকুর আলীকে কয়েকজনের সঙ্গে কথা বলতে দেখা যায়। ভিডিওতে বাদীকে বলতে শোনা যায়, তিনি আমজাদ হোসেনকে মামলার আসামি করতে চাননি; তবে এলাকার একটি গোষ্ঠীর চাপে তাঁকে আসামি করতে বাধ্য হয়েছেন।

ভিডিওটির মূল কপি, বক্তব্যের পূর্ণতা ও প্রেক্ষাপট যাচাইয়ের দাবি জানিয়ে আমজাদ হোসেন বলেন, ভিডিওতে থাকা বক্তব্যের সত্যতা মামলার নথি ও অন্যান্য তথ্য-প্রমাণের সঙ্গে মিলিয়ে দেখা প্রয়োজন।

প্রকৃত ঘটনা উদ্‌ঘাটন ও দ্রুত বিচার চান

আমজাদ হোসেন বলেন, তিনি কারও প্রতি প্রতিশোধ নিতে চান না; বরং নিরপেক্ষ তদন্ত ও ন্যায়বিচার প্রত্যাশা করেন। এ জন্য মামলার নথি ও সাক্ষ্য পর্যালোচনা, সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর বক্তব্য গ্রহণ এবং সব তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে প্রকৃত ঘটনা উদ্‌ঘাটনের আহ্বান জানান তিনি।

একই সঙ্গে বিচারাধীন মামলাটির আইনসম্মত ও দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেন আমজাদ হোসেন।

তবে সংবাদ সম্মেলনে উত্থাপিত অভিযোগ, ভিডিওর বক্তব্য এবং মামলার বিষয়ে সংশ্লিষ্ট বাদী ও অন্য পক্ষের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। অভিযোগগুলোর সত্যতা নির্ধারণে মামলার নথি, সাক্ষ্য-প্রমাণ এবং সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর বক্তব্য যাচাই করা প্রয়োজন।

জৈন্তা বার্তা/ ওয়াদুদ