ছবি:সংগৃহীত
হযরত শাহজালাল (রহ.)-এর মাজারের সার্বিক ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে মাজারের জমি, দান-অনুদান ও পরিচালনাব্যবস্থা জেলা প্রশাসনের নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার দাবি জানিয়েছে ‘একতাবদ্ধ সিলেটবাসী’। এ দাবিসহ ১৩ দফা প্রস্তাব তুলে ধরে সংগঠনটি আগামী ৫ নভেম্বর প্রতিবাদ সভা এবং ২৩ নভেম্বর সংবাদ সম্মেলনের কর্মসূচি ঘোষণা করেছে।
শনিবার (২৪ অক্টোবর) বেলা ২টায় সিলেট নগরের মধুবন সুপার মার্কেটস্থ সংগঠনটির অস্থায়ী কার্যালয়ে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় এসব দাবি ও কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়।
বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ ও ‘একতাবদ্ধ সিলেটবাসী’র মুখপাত্র মাওলানা রেজাউল করিম জালালীর সভাপতিত্বে সভা পরিচালনা করেন সিলেট ফাউন্ডেশন বাংলাদেশের চেয়ারম্যান ও সংগঠনটির সদস্য মইনুল ইসলাম আশরাফী।
সভায় বক্তব্য দেন সিলেট কল্যাণ সংস্থার সভাপতি ও ‘একতাবদ্ধ সিলেটবাসী’র সদস্য মো. এহছানুল হক তাহের, মানবাধিকার তথ্য পর্যবেক্ষণ সোসাইটির সভাপতি মুখতার আহমদ তালুকদার, তাহিরপুর সমিতির সদস্য মো. মুজিবুর রহমান, মীর মো. নাজিম উদ্দিন, মুহতামিম ঐক্য পরিষদ সিলেটের সাধারণ সম্পাদক মাওলানা শিব্বির আহমদ, মাসুক আহমদ, জুলাই যোদ্ধা আব্দুশ শহীদ খান, সিলেটি পঞ্চায়েত কমিটির সদস্য শামসুল হক, সিলেট সোসাইটির সাধারণ সম্পাদক মাওলানা আব্দুল করিম শিকদার, মাজার সুরক্ষা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সাধারণ সম্পাদক টিপু চৌধুরী, মো. কামাল মিয়া, গণদাবি পরিষদ কেন্দ্রীয় কমিটির ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মো. নুরুল আমিন চৌধুরী, মো. সেলিম আহমদ ও স্বপন মালাকার শিবাসহ বিভিন্ন সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।
সভায় উত্থাপিত ১৩ দফা প্রস্তাব
মাজার পরিচালনায় স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও সুশৃঙ্খল ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে সভায় ১৩ দফা প্রস্তাব তুলে ধরা হয়। প্রস্তাবগুলো হলো-
১. মাজারের সম্পূর্ণ জমি ও ব্যবস্থাপনা জেলা প্রশাসনের আওতায় এনে একটি দৃষ্টিনন্দন কমপ্লেক্স গড়ে তোলা।
২. দানের অর্থের ভাগ-বাটোয়ারা বন্ধ করে তা প্রশাসনের মাধ্যমে ব্যাংকে জমা রাখার ব্যবস্থা করা।
৩. যাবতীয় দান ও অনুদান রসিদের মাধ্যমে গ্রহণ করা।
৪. সপ্তাহে এক দিন প্রকাশ্যে দানের অর্থ গণনা করে হিসাব সম্পন্ন করা।
৫. প্রতি তিন মাস পরপর প্রকাশ্যে আয়-ব্যয়ের হিসাব প্রকাশ করা।
৬. প্রতিবছর চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্ট (সিএ) ফার্মের মাধ্যমে নিরীক্ষা করে পূর্ণাঙ্গ হিসাব সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে প্রকাশ করা।
৭. মুসাফিরখানা চালু করা এবং মানতের পশু দিয়ে দিনে দুই বেলা শিরণি বিতরণের ব্যবস্থা করা।
৮. নগদ অর্থ, স্বর্ণ, পবিত্র কোরআন শরিফ ও মানতের পশুসহ সব ধরনের দান রসিদের মাধ্যমে গ্রহণ করা।
৯. সিঁড়ি, কবর, ঝরনা ও পুকুরপাড়সহ মাজারের প্রতিটি দানকেন্দ্রকে প্রশাসনিক হিসাবের আওতায় আনা।
১০. শৌচাগার, গোসলখানা, জুতা রাখার স্থান ও বিশ্রামাগার প্রশাসনের নিয়ন্ত্রণে পরিচালনা করা।
১১. হযরত শাহজালাল (রহ.)-এর নামে মাজার প্রাঙ্গণে একটি গ্রন্থাগার ও গবেষণাকেন্দ্র প্রতিষ্ঠা করা।
১২. হযরত শাহজালাল (রহ.)-এর ব্যবহৃত স্মৃতিসামগ্রী প্রদর্শনের জন্য পৃথক কক্ষ স্থাপন করা।
১৩. মাজার পরিচালনার জন্য প্রশাসনিক জনবল ও কর্মচারী নিয়োগ জেলা প্রশাসনের মাধ্যমে সম্পন্ন করা।
সভায় বক্তারা মাজারের সার্বিক ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। উত্থাপিত দাবিগুলো বাস্তবায়নের লক্ষ্যে কর্মসূচি অব্যাহত রাখার কথাও জানান তাঁরা।
মাজারের ব্যবস্থাপনা নিয়ে নিজেদের দাবির পক্ষে জনমত গড়ে তোলা এবং দাবি আদায়ের লক্ষ্যে আগামী ৫ নভেম্বর প্রতিবাদ সভা ও ২৩ নভেম্বর সংবাদ সম্মেলন করবে ‘একতাবদ্ধ সিলেটবাসী’। পরবর্তী কর্মসূচির নির্দিষ্ট সময় ও স্থান সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে জানানো হবে বলে আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
জৈন্তা বার্তা/ ওয়াদুদ




