৭ নভেম্বর বাংলাদেশের ভাগ্য পরিবর্তনের দিন: খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির
শনিবার, ০৭ নভেম্বর ২০২৬, ১০:০৫ অপরাহ্ন

দেশে যখনই গণতন্ত্র বাধাগ্রস্ত হয়েছে, জিয়া পরিবার ত্রাণকর্তা হিসেবে অধিষ্ঠিত হয়েছে: সিসিক প্রশাসক

৭ নভেম্বর বাংলাদেশের ভাগ্য পরিবর্তনের দিন: খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ০৭/১১/২০২৬ ০৬:৫৯:১২ অপরাহ্ন

৭ নভেম্বর বাংলাদেশের ভাগ্য পরিবর্তনের দিন: খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির

ছবি:সংগৃহীত


জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে সিলেটে আয়োজিত আলোচনা সভায় শিল্প, বাণিজ্য, বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেছেন, ৭ নভেম্বর বাংলাদেশের ইতিহাসে ভাগ্য পরিবর্তনের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিন। ১৯৭৫ সালের ৩ নভেম্বরের অভ্যুত্থানের পর দেশ আবারও ১৫ আগস্টের আগের অন্ধকার সময়ে ফিরে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল। কিন্তু দেশের মানুষ স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও জাতীয় মর্যাদা অক্ষুণ্ন রাখতে চেয়েছিল। সেই আকাঙ্ক্ষা থেকেই সিপাহি-জনতার ঐতিহাসিক বিপ্লব সংঘটিত হয়।

শনিবার (৭ নভেম্বর) দুপুরে সিলেট জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে আয়োজিত আলোচনা সভা, পুরস্কার বিতরণ ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সিলেটের জেলা প্রশাসক আব্দুল্লাহ আল মামুন।

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ১৯৭৫ সালের আগের বছরগুলোতে দেশের অর্থনীতি ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বিপর্যস্ত ছিল। লাভজনক শিল্পকারখানা জাতীয়করণের ফলে অনেক প্রতিষ্ঠান দুর্বল হয়ে পড়ে। রক্ষীবাহিনীসহ বিভিন্ন বাহিনীর কর্মকাণ্ড নিয়ে জনমনে অসন্তোষ তৈরি হয়েছিল। রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সংকটের মধ্যে ১৫ আগস্টের পর ৩ নভেম্বরের অভ্যুত্থান দেশের মানুষের উদ্বেগ আরও বাড়িয়ে দেয়। পরবর্তী চার দিন ছিল চরম অনিশ্চয়তার সময়।

তিনি বলেন, সে সময় যোগাযোগব্যবস্থা ছিল সীমিত। মোবাইল ফোন কিংবা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ছিল না। তারপরও ক্যান্টনমেন্টের সিপাহি এবং বাইরের সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা এক জায়গায় মিলেছিল। দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও জাতীয় মর্যাদা রক্ষার আকাঙ্ক্ষা মানুষকে ঐক্যবদ্ধ করেছিল। এর মধ্য দিয়েই ৭ নভেম্বরের ঐতিহাসিক ঘটনা সংঘটিত হয়।

খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, ৭ নভেম্বরের পর শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব নিয়ে অল্প সময়ের মধ্যে মানুষের মধ্যে নতুন আত্মবিশ্বাস ও জাতীয়তাবোধ সৃষ্টি করতে সক্ষম হয়েছিলেন। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশকে অবমূল্যায়ন করা হতো। কিন্তু তাঁর নেতৃত্বে বাংলাদেশ বিশ্বপরিসরে মর্যাদাপূর্ণ অবস্থান তৈরির সুযোগ পায়।

তিনি বলেন, জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের অস্থায়ী সদস্য নির্বাচনে জাপানকে পরাজিত করে বাংলাদেশের বিজয় ছিল আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেশের সক্ষমতার একটি উল্লেখযোগ্য দৃষ্টান্ত। মুসলিম বিশ্বের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগেও জিয়াউর রহমান ভূমিকা পালন করেছিলেন। জেরুজালেম ও আল-কুদস ইস্যু এবং ইরান-ইরাক যুদ্ধ বন্ধের উদ্যোগে তাঁর সম্পৃক্ততা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের অবস্থানকে আরও তাৎপর্যপূর্ণ করে তোলে।

মন্ত্রী আরও বলেন, জিয়াউর রহমানের সততা, কর্মনিষ্ঠা, স্বজনপ্রীতিমুক্ত জীবনযাপন ও নেতৃত্বের আদর্শ আজও মানুষের কাছে সমাদৃত। তাঁর প্রতিষ্ঠিত রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীদের কাছ থেকেও মানুষ একই ধরনের সততা ও দায়িত্বশীলতা প্রত্যাশা করে। এই আদর্শ থেকে সামান্য বিচ্যুতিও মানুষ সহজভাবে গ্রহণ করে না।

আগামীর চ্যালেঞ্জ তুলে ধরে তিনি বলেন, জিয়াউর রহমান যেমন একটি বিপর্যস্ত অবস্থা থেকে দেশকে এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন, তেমনি বর্তমান সরকারকেও দুর্বল অর্থনীতি পুনরুদ্ধার করতে হবে। ব্যাংকিং খাতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা, বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা এবং রাষ্ট্রের প্রতিটি পর্যায়ে জনসেবার মান বাড়াতে হবে। সরকারকে এমন জনবান্ধব প্রতিষ্ঠানে পরিণত করতে হবে, যেখানে মানুষ প্রকৃত সেবা পাবে।

তিনি শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার রুহের মাগফিরাত কামনা করেন এবং তাঁদের স্বপ্নের উন্নত বাংলাদেশ গড়তে সবাইকে নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান।

সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী বলেন, ৭ নভেম্বর সিপাহি-জনতার বিপ্লবের মধ্য দিয়ে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বন্দিদশা থেকে মুক্তি পেয়েছিলেন। সে সময় দেশে রাজনৈতিক অস্থিরতা ও সশস্ত্র বাহিনীতে বিশৃঙ্খলা বিরাজ করছিল। এমন সংকটময় পরিস্থিতিতে এ বিপ্লব জাতিকে নতুন দিকনির্দেশনা দিয়েছিল।

তিনি বলেন, মুক্তির পর জিয়াউর রহমান সশস্ত্র বাহিনীতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নেন এবং জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করার কাজ শুরু করেন। পরবর্তী সময়ে তিনি দেশে বহুদলীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করেন এবং বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদের দর্শন তুলে ধরেন।

সিসিক প্রশাসক বলেন, পরবর্তী সময়ে বেগম খালেদা জিয়া দেশে সংসদীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করেন। আর দীর্ঘ ১৭ বছরের আন্দোলন-সংগ্রামের মধ্য দিয়ে মানুষের ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠা করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। দেশে যখনই গণতন্ত্র বাধাগ্রস্ত হয়েছে, তখনই জিয়া পরিবার ত্রাণকর্তা হিসেবে অধিষ্ঠিত হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসের তাৎপর্য নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতে হবে। গণতন্ত্র, জাতীয় ঐক্য এবং স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্বের চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে দেশ গঠনে সবাইকে ভূমিকা রাখতে হবে।

অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন জাতীয় সংসদ সদস্য এমএ মালিক, এমরান আহমদ ও তাহসিনা রুশদীর লুনা।

এ ছাড়া বক্তব্য দেন সিলেটের বিভাগীয় কমিশনার মশিউর রহমান, পুলিশের সিলেট রেঞ্জের ডিআইজি মো. জাহাঙ্গীর হোসেন, সিলেট মহানগর পুলিশের কমিশনার সারওয়ার মুর্শেদ শামীম, সিলেট ওয়াসার চেয়ারম্যান মিফতাহ সিদ্দিকী, সিলেট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রেজাউল হাসান কয়েস লোদী, সিলেট জেলা পরিষদের প্রশাসক আবুল কাহের চৌধুরী শামীম, পুলিশ সুপার ড. চৌধুরী মো. জাবের সাদেক এবং সিলেট মহানগর বিএনপির সভাপতি নাসিম হোসেইন ও সাধারণ সম্পাদক ইমদাদ হোসেন।

সম্পাদনা পরামর্শ: প্রকাশের আগে দুটি বিষয় যাচাই করা জরুরি:

1. সংসদীয় গণতন্ত্র, ভোটাধিকার ও জিয়া পরিবারের ভূমিকা নিয়ে বক্তাদের বক্তব্য যথাযথভাবে তাঁদের নামে উদ্ধৃত রাখা হয়েছে; এগুলোকে প্রতিবেদকের নিজস্ব ঐতিহাসিক মূল্যায়ন হিসেবে উপস্থাপন করা হয়নি।

2. জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের নির্বাচনে জাপানকে পরাজিত করার বক্তব্যটি মন্ত্রীর বক্তব্য হিসেবে রাখা হয়েছে। প্রয়োজনে ঐতিহাসিক তথ্যটি আলাদাভাবে যাচাই করা যেতে পারে।

জৈন্তা বার্তা/ ওয়াদুদ



শীর্ষ সংবাদ:

৭ নভেম্বর বাংলাদেশের ভাগ্য পরিবর্তনের দিন: খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির
জামালগঞ্জে বিএনপির দুই পক্ষের সংঘ/র্ষ, আহ/ত অন্তত ৫
কোম্পানীগঞ্জে মাদ্রাসাছাত্রকে ব/লা/ৎকারের অভিযোগ ইমামের বিরুদ্ধে
সিলেট সীমান্তে ভা/রতীয় পণ্য ও ম/দসহ ১৬ লাখ টাকার মা/লামাল জ/ব্দ
জিয়াউর রহমান দেশে বহুদলীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করেছিলেন: সিসিক প্রশাসক
সিলেট টেস্ট: হৃদয়ের সেঞ্চুরির পরেও মহাবিপদে বাংলাদেশ
ক্যান্সারের উন্নত চিকিৎসায় অনন্য অবদান রাখছে নর্থ ইস্ট মেডিকেল কলেজ
সিলেটবাসীর প্রত্যাশা পূরণে নগরীর যোগাযোগব্যবস্থা আরও আধুনিক করা হবে- বাণিজ্যমন্ত্রী
রবীন্দ্রনাথের সিলেট সফর ছিল ঐতিহাসিক: সিসিক প্রশাসক
মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরীকে দেখতে গেলেন মন্ত্রী মুক্তাদির ও সিটি প্রশাসক কাইয়ুম