আনোয়ারুজ্জামানকে টেক্কা দেয়ার মতো প্রতিদ্বন্দ্বী নেই
সোমবার, ২৫ মে ২০২৬, ০৪:৩৮ PM

বিপুল ব্যবধান থাকবে নৌকা-লাঙ্গলে

আনোয়ারুজ্জামানকে টেক্কা দেয়ার মতো প্রতিদ্বন্দ্বী নেই

জৈন্তা বার্তা ডেস্ক

প্রকাশিত: ২০/০৬/২০২৩ ০৭:০৪:১১ AM

আনোয়ারুজ্জামানকে টেক্কা দেয়ার মতো প্রতিদ্বন্দ্বী নেই

আনোয়ারুজ্জামান


এক্কেবারে দোরগোড়ায় সিসিক নির্বাচন। প্রচার-প্রচারণা অনুষ্ঠানিকভাবে শেষ। আগামীকাল সিলেট সিটি কর্পোরেশন ভোট। গতকাল সোমবার বৃষ্টিতে ভিজে ভিজে সভা, সমাবেশ, মিছিল, মিটিং, গণসংযোগ ও প্রচারণার ইতি ঘটিয়েছেন সিসিক নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী মেয়র ও কাউন্সিলর পদপ্রার্থীরা।

এবারে সিলেট সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে  ৮জন মেয়র প্রার্থীর বৈধতা থাকলেও ইতোমধ্যে নির্বাচন বর্জন করেছেন ইসলামি আন্দোলন বাংলাদেশ মনোনীত হাতপাখা প্রতীকের মাওলানা মাহমুদুল হাসান। এখন প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রয়েছেন ৭ মেয়র প্রার্থী এবং ৩৬০ কাউন্সিলর পদপ্রার্থী। সিলেট সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে  মেয়র পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী ৭ প্রার্থী হলেন- আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী মো. আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরী, জাতীয় পার্টির মনোনীত প্রার্থী নজরুল ইসলাম বাবুল, জাকের পার্টির মনোনীত প্রার্থী মো. জহিরুল আলম, স্বতন্ত্র প্রার্থী মোহাম্মদ আবদুল হানিফ কুটু, স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. ছালাহ উদ্দিন রিমন এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. শাহজাহান মিয়া। আর কাউন্সিলর পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী প্রার্থী হচ্ছেন ৩৬০ জন। যাঁদের মধ্যে সাধারণ ওয়ার্ডে ২৭৩ জন এবং সংরক্ষিত ওয়ার্ডে (মহিলা কাউন্সিলর) ৮৭ জন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

গেলবার নির্বাচনে ২৭টি ওয়ার্ড নিয়ে সিলেট সিটি করপোরেশন থাকলেও বর্ধিত ১৫টি ওয়ার্ড নিয়ে এবার সিসিকে মোট ওয়ার্ড সংখ্যা ৪২টি। ৭৯ দশমিক ৫০ বর্গকিলোমিটার আয়তনের সিলেট মহানগরীতে ভোটার সংখ্যা ৪ লাখ ৮৬ হাজার ৬০৫ জন। এরমধ্যে পুরুষ দুই লাখ ৫৩ হাজার ৭৬৩ জন এবং মহিলা দুই লাখ ৩২ হাজার ৮৪২ এবং হিজড়া ৬ জন।

নগরীর বিভিন্ন ওয়ার্ড ঘুরে ভোটারদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, নৌকার মাঝি  আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরীর প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী লাঙ্গলের নজরুল ইসলাম বাবুলকে তেমন গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে না ভোটাররা। তাই বিশাল ব্যবধানে জয়ের স্বপ্ন দেখছে আওয়ামী লীগ। বিপুল ভোটের ব্যবধানে নৌকা বিজয়ী হয়ে সারাদেশে সরকারের উন্নয়ন-অর্জনের পক্ষে গণজোয়ার তুলতে গতকাল শেষমুহূর্তে জনগণের দুয়ারে দুয়ারে ছুটাছুটি করছিলেন আওয়ামী লীগ ও দলের বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মীরা।

এদিকে নির্বাচনের মাঠে নানান আওয়াজে কিছুটা ভোটের আমেজ তৈরি হলেও মানুষের স্বতঃস্ফূর্ততা নিতান্তই কম উল্লেখ করে হাউজিং এস্টেট এলাকার বিশিষ্ট মুরব্বি একরামুল হক এ প্রতিবেদককে বলেন, চিরাচরিতভাবে দেশে নির্বাচন যেভাবে জমে ওঠার কথা, সেভাবে জমে উঠেনি এবারের সিটি নির্বাচন। নির্বাচনী আবহ যেমন মুটামুটি আছে, তেমনি নির্বাচনে মানুষের আগ্রহ এক্কেবারে নেই বলা যাবে না। মানুষ তার রায় দিতে বা সমর্থন জানাতে নির্বাচন চায়, কিন্তু সুষ্ঠু নির্বাচনের পরিবেশ কতোটুকু আছে তা বিবেচ্যবিষয় ।

বন্দরবাজারের ফুটপাতে চা-বিক্রেতা মাসুমের সাথে কথা বললে তিনি জানান, আমার এ সামিয়ানায় কতো ধরণের মানুষই বসে। তাদেও আড্ডা বা আলাপে বুঝা গেছে, সিলেট সিটিতে এবারই ইভিএমে প্রথম ভোট দেবে নাগরিকরা। কিছুটা শঙ্কা থাকলেও এতে মানুষ উৎসুক। ভোটে তীব্র প্রতিযোগিতা নেই- এটি সত্যি; তবে আওয়ামী লীগ মনোনীত ও ১৪ দলীয়জোট সমর্থিত প্রার্থী আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরীর সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার মতো শক্তিশালী কোনো প্রার্থী নেই। ফলে নির্বাচনে তুমুল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে না। তবে রূপ পাল্টে যেতো যদি বিএনপির কোনো প্রার্থী থাকতো। রাজনৈতিক কারণে বিএনপির বর্তমান মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলে হিসেব কঠিন হয়ে ওঠতো। তিনি থাকলে নিঃসন্দেহে প্রতিদ্বন্দ্বিতা ও প্রতিযোগিতা আরো তীব্র হতো।

নির্বাচনের উত্তাপ নিয়ে আলাপ হয় কয়েকজন ব্যবসায়ীর সাথে। তাঁরা এ প্রতিবেদককে বলেন, গত কয়েক বছর ধরে প্রকটভাবে দেখা দিয়েছে নবর্িাচন এলে ভোটার প্রভাবিত হয় না। এবারের নির্বাচনে মানুষের আগ্রহ নেই। নির্বাচন অংশগ্রহণমূলক না হওয়ায় বিশেষ করে মেয়র পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা না থাকায় নির্বাচনটা উত্তাপ ছড়াচ্ছে বলে মনে হচ্ছে না। যা ভোট হচ্ছে, তা কাউন্সিলর পদে। সিলেটের ব্যবসায়ারী আরো বলে, ইসির (নির্বাচন কমিশন) উচিত ছিল, ইভিএমে ভোট নেয়ার আগে সিলেটের জনগণের মতামত নেয়া, তা হয়নি। কারণ যে কোনো নতুন প্রযুক্তি ব্যবহার করতে হলে ভোটারদের মতামত নিতে হয়। কিন্তু এখানে ওপর থেকে চাপিয়ে দেয়া হয়েছে। এতেও ভোটাররা আগ্রহ হারিয়েছেন।

বিভিন্ন দলের সিলেট জেলা ও মহানগরের একাধিক রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের সাথে কথা হয় দৈনিক জৈন্তা বার্তার পক্ষ থেকে। তাঁরা এ প্রতিবেদককে বলেন, সিসিক নির্বাচনে মেয়র পদে আওয়ামী লীগের অতীতে তিক্ত অভিজ্ঞতা আছে। স্থানীয়দের মতে, ২০১৮ সালের সিটি নির্বাচনের সময় কে জিতবে, কে হারবে- এমন মন্তব্য প্রকাশ্যে করতে দেখা যায়নি। এবার ব্যতিক্রম। ভীতির সঞ্চার হতে পারে, তেমন পরিস্থিতি এখন পর্যন্ত তৈরি হয়নি। যারা ভীতি তৈরি করতে পারে, তাদের এবার সেভাবে মাঠে দেখাও যাচ্ছে না। ভোটের দিনের পরিবেশ নিয়ে খুব একটা শঙ্কার কথাও শোনা যাচ্ছে না।

এদিকে, সিলেট সিটি করপোরেশন নির্বাচন বর্জন করেছে বিএনপি। তবে কাউন্সিলর পদে বিএনপির প্রায় অর্ধশত নেতাকর্মী প্রার্থী হয়েছেন। তাদেরকে ভোট দিতে ভোটাররা কেন্দ্রে আসবেন বলে ধারণা করা যায়। জামায়াতের নেতাকর্মীরাও কেন্দ্রে আসবেন। সিলেট জেলা বিএনপির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের কাছে আওয়ামী লীগ প্রার্থীর পক্ষে প্রচারপত্র বিলি করছেন কর্মীরা। এই ভোটারদের পক্ষে টানার ছক কষছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। আর অন্য মেয়র প্রার্থীরা ‘আওয়ামী বিরোধী’ এই ভোট নিজেদের পক্ষে আনার চেষ্টা চালাচ্ছেন। তবে বিএনপি নেতারা বলছেন, ভোটে প্রার্থী হওয়া বিএনপি নেতাদের ইতোমধ্যে দল থেকে আজীবন বহিষ্কার করা হয়েছে। দলীয় নেতাকর্মীদের ভোটকেন্দ্রে যেতেও নিরুৎসাহিত করা হচ্ছে। ফলে বিএনপির বেশিরভাগ নেতাকর্মীই ভোট দিতে কেন্দ্রে যাবেন না।

উল্লেখ্য, ২০১৮ সালে সিটি নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী ছিলেন তৎকালীন জনপ্রিয় মেয়র বদরউদ্দিন আহমেদ কামরান। জনপ্রিয়তার দিক থেকে তিনি এগিয়ে ছিলেন বলেই মনে করা হতো। জনতার সেই কামরানকে ৬ হাজার ১৯৬ ভোটের ব্যবধানে হারিয়ে দেন তখনকার বিএনপির মেয়র প্রার্থী আরিফুল হক চৌধুরী। অবশ্য ওই সময় এমন অভিযোগও উঠেছিল, দলে কামরানের দাপট কমাতে আওয়ামী লীগেরই একটা অংশ ভেতরে ভেতরে বিরোধী শিবিরকে সহায়তা করেছে। বিএনপি প্রার্থী পেয়েছিলেন ৯২ হাজার ৫৮৮ ভোট। আর নৌকার প্রার্থী পেয়েছিলেন ৮৬ হাজার ৩৯২ ভোট। 

জৈন্তা বার্তা/ শাহিদ হাতিমী