পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ব্রিফিংয়ে মুখপাত্র ম্যাথিউ মিলার। ছবি: সংগৃহীত
নিষেধাজ্ঞার মতো পদক্ষেপ নেওয়া বা ঘোষণা করার আগে তা নিয়ে প্রকাশ্যে আলোচনা করে না যুক্তরাষ্ট্র। ফলে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে নতুন কোনো নিষেধাজ্ঞা আসছে কি না, সে বিষয়ে দেশটি কোনো আভাস দিচ্ছে না।
বুধবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাব দেন মুখপাত্র ম্যাথিউ মিলার।
একজন সাংবাদিক তাকে প্রশ্ন করেন, নির্বাচনের আগে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে কোনো নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হবে কি না, উত্তরে মিলার বলেন, আমার কাছে আজ ঘোষণা করার মতো নতুন কোনো নিষেধাজ্ঞা নেই। দীর্ঘদিনের রীতি অনুযায়ী, নিষেধাজ্ঞার মতো পদক্ষেপ নেওয়া বা ঘোষণা করার আগে আমরা সেগুলো নিয়ে (প্রকাশ্যে) আলোচনা করি না।
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তি ব্যবহার করে বাংলাদেশে ভুয়া সংবাদ প্রচারের বিষয়েও কথা বলেন ম্যাথিউ মিলার।
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তি ব্যবহার করে বাংলাদেশে ভুয়া সংবাদ এবং ভিডিও প্রচারের বিষয় তুলে ধরে প্রশ্ন করা হয়, প্রভাবশালী পত্রিকা দ্য ফিন্যান্সিয়াল টাইমসের অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আসন্ন নির্বাচনকে সামনে রেখে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে ভুয়া সংবাদ এবং ভুয়া ভিডিও বানিয়ে শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকার যুক্তরাষ্ট্র এবং বাংলাদেশের বিরোধী দলগুলোর বিরুদ্ধে পরিকল্পিত প্রচারণা চালাচ্ছে। এই রিপোর্টে সামনে আসা অভিযোগের বিষয়ে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের অবস্থান কী?
জবাবে ম্যাথিউ মিলার বলেন, আমরা বাংলাদেশে নির্বাচন-সংক্রান্ত বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানো সম্পর্কিত ওই সংবাদটি দেখেছি। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) এই ধরনের ব্যবহার বিশ্বজুড়ে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে ব্যহত এবং ক্ষতিগ্রস্ত করার উদ্বেগজনক প্রবণতার অংশ।
একই সঙ্গে তিনি গণহারে বিরোধী দলের হাজার হাজার নেতাকে গ্রেপ্তার এবং জেলে নির্যাতনের অভিযোগে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন।
এদিন ব্রিফিংয়ে মোট ৩ জন সাংবাদিক বাংলাদেশ ইস্যুতে প্রশ্ন উত্থাপন করেন।
বাংলাদেশে মৌলিক অধিকার সুরক্ষিত রাখতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার বিষয়ক ৬টি সংগঠন।
এ প্রসঙ্গে ম্যাথিউ মিলার বলেন, বিরোধী দলের হাজার হাজার নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার এবং জেলখানায় নির্যাতনের রিপোর্টে আমরা গভীরভাবে উদ্বিগ্ন। আমরা সব পক্ষকে সহিংসতা থেকে সংযত ও বিরত থাকার আহ্বান জানাই। বাংলাদেশ সরকারের প্রতি আমরা আহ্বান জানাই এমন একটি পরিবেশ সৃষ্টি করতে, সব অংশীদারের সঙ্গে কাজ করতে, যাতে সহিংসতা বা প্রতিশোধ নেয়ার ভয় ছাড়াই নির্বাচনপূর্ববর্তী এবং নির্বাচনী পরিবেশে অবাধে অংশগ্রহণ করতে পারেন সবাই। আমাদের বিশ্বাস, যখন বিভিন্ন জন এসব ইস্যুতে অবাধে কথা বলতে পারেন, সংলাপে যুক্ত হন এবং আলোচনা করেন তখন তা থেকে একটি সুস্থ গণতন্ত্র উপকৃত হয়।
জৈন্তাবার্তা/জেএ




