ছবি : সংগৃহীত
বিএনপির আগামী ১৬ ডিসেম্বর পর্যন্ত কোনো কর্মসূচি নেই। শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস উপলক্ষে বিএনপি কোনো কর্মসূচি রাখেনি। ১৫ ডিসেম্বর সরকারি ছুটির দিন, ১৬ ডিসেম্বর বিজয় দিবস। ওই দিন তারা রাজধানীতে গণমিছিল করতে চায়। ১৭ই ডিসেম্বর বাদ দিয়ে ১৮ ডিসেম্বর অর্থাৎ যে দিন থেকে নির্বাচনী প্রচারণা শুরু, সেদিন থেকে বিএনপি টানা কর্মসূচি দিতে চায়। এই কর্মসূচি কি হবে তা চূড়ান্ত করতে আজ বিএনপির বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে।
বিএনপির একাধিক সূত্র বলছে, আজ শুক্রবার১৫ ডিসেম্বর ২০২৩ হয়তো তারা তাদের কর্মসূচি চূড়ান্ত করবে। বিএনপির একাধিক সূত্রগুলো বলছে, গত ১ মাস ধরে তারা ভেঙ্গে ভেঙ্গে কর্মসূচি দিচ্ছিল। অর্থাৎ তারা ২দিন অবরোধ ডেকে ১দিন বিরতি, আবার ২দিন অবরোধ রাখছিল। শুক্র ও শনিবার বন্ধ রাখছিল। এই কর্মসূচির ধারা থেকে তারা বেরিয়ে আসতে চায়। বৈচিত্র্যময় কর্মসূচি দিতে চায়। বিএনপির কর্মসূচি নিয়ে ইতোমধ্যেই একটি খসড়া চূড়ান্ত করা হয়েছে। বিএনপির নেতারা শরিকদের সঙ্গেও কর্মসূচি নিয়ে আলাপ আলোচনা করেছে। শরিকরা আক্রমণাত্মক কর্মসূচি দিতে চায়।
১৮ ডিসেম্বর থেকে বিএনপি হরতাল, রেলপথ, রাজপথ অবরোধ, নির্বাচন কমিশন ঘেরাও, যারা নির্বাচনে মনোনয়ন পেয়েছেন সেই সমস্ত প্রার্থীদের ঘেরাও কর্মসূচির মধ্যে প্রবেশ করতে চায়। এই সমস্ত কর্মসূচি দিয়ে তারা মূলত নির্বাচন প্রতিরোধ করতে চায়। তবে বিএনপির কোন কোন নেতা বলছেন, নির্বাচন প্রতিরোধ নয়, ভোটাররা যেন নির্বাচনে অংশগ্রহণ না করে, ভোট দিতে না যায়, সেটি তাদের আন্দোলনের প্রধান লক্ষ্য।
বিএনপি বলছে, এখন আর নির্দলীয় নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবি না, আমরা প্রমাণ করতে চাই যে এই নির্বাচন একটি প্রহসন, এই নির্বাচন অর্থহীন এবং এই নির্বাচনের সঙ্গে জনগণের সম্পৃক্ততা নাই। কাজেই তাদের প্রধান লক্ষ্য হল নির্বাচনে যেন জনগণ ভোট দিতে না যায়, ভোটার উপস্থিতি কম হয়, সেটি প্রমাণ করা। বিএনপির ১৮ ডিসেম্বর থেকে ৭ জানুয়ারির নির্বাচন পর্যন্ত সময়ের কর্মসূচিকে তিন ভাগে বিভক্ত করেছে।
প্রথমত, রাজপথে সরব উপস্থিতি। বিভিন্ন ধরনের কর্মসূচির মাধ্যমে তারা রাজপথে তাদের আন্দোলনের বার্তাটি পৌঁছে দিতে চায়। এই কর্মসূচির মধ্যে তারা হরতাল-অবরোধ, নির্বাচন কমিশন ঘেরাও, জেলা নির্বাচন কমিশন ঘেরাও, প্রার্থীদের বাড়িতে বাড়িতে ঘেরাও অভিযান পরিচালনা করতে চায়।
দ্বিতীয়ত, জনসংযোগমূলক কর্মসূচি। এর মধ্যে তারা গণস্বাক্ষর গ্রহণ করতে চায়। নির্বাচন বাতিলের দাবিতে তারা বিভিন্ন জায়গায় নির্বাচন নিয়ে নানা রকম লিফলেট বিতরণ করতে চায়।
আর তৃতীয়ত, বিএনপির কর্মসূচি হল আন্তর্জাতিক অঙ্গনে এই নির্বাচনের বিরুদ্ধে প্রচারণা শুরু করা। এই নির্বাচন যেন হতে দেওয়া না হয় বা নির্বাচনকে যেন আন্তর্জাতিক মহল স্বীকৃতি দিতে না পারে সে জন্যই এই ধরনের কর্মসূচিগুলো দেওয়া হচ্ছে। সে কারণেই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ বিভিন্ন দেশে বিএনপির নেতারা ধর্ণা দিবেন। তারা বিভিন্ন রকমের তথ্য উপাত্ত সরবরাহ করবেন।
পাশাপাশি আন্তর্জাতিক মানবাধিকার বিভিন্ন সংগঠনগুলো যেমন, অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল, হিউম্যান রাইটস ওয়াচসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কাছে তাদের ভাষায় বিএনপির ওপর যে দমন পীড়ন-নিপীড়ন হচ্ছে সে ব্যাপারে বার্তা দেবেন। এইসব করে তারা নির্বাচনের আগে একটি আবহ তৈরি করতে চান যাতে এই নির্বাচন গ্রহণযোগ্য না হয়।
জৈন্তাবার্তা/জেএ




