ঢাকার ভূমিকায় ক্ষুব্ধ লন্ডন।
দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের বাকি আর মাত্র চারদিন। এই নির্বাচনকে প্রহসনের নির্বাচন দাবি করে নির্বাচন রুখতে কর্মসূচি পালন করছে মাঠের প্রধান বিরোধী দল বিএনপি। এ লক্ষ্য দলটি অসহযোগ আন্দোলনের ডাক দিয়েছে। পাশাপাশি নির্বাচন রুখতে আন্দোলনের অংশ হিসেবে এখন ভোটবিরোধী লিফলেট বিতরণ করছে দলগুলো। এর মাধ্যমে ভোটারদের ভোটকেন্দ্রে যেতে নিরুৎসাহিত করছে দলটি। শুধু তাই নয়, ১ জানুয়ারি থেকে কঠোর কর্মসূচিতে ঘোষণার কথাও ছিল দলটির। কিন্তু এখন পর্যন্ত এ ধরনের কোনো কর্মসূচি ঘোষণা করেনি দলটি। লিফলেট বিরতণ কর্মসূচির মধ্যেই সীমাবদ্ধ রয়েছে। অসহযোগ আন্দোলনেরও কোনো প্রভাব মাঠে নেই। বরং কোথাও কোথাও দলটির নেতাকর্মীরা বিভিন্নভাবে নির্বাচনী প্রচারে অংশ নিচ্ছেন। গত কয়েক দিনে দেশের বিভিন্ন জায়গার এ রকম প্রায় অর্ধশতাধিক নেতাকর্মীকে বহিষ্কার করেছে বিএনপি।
জানা গেছে, গত রোববার কর্মসূচি নিয়ে বৈঠক করে দলটির হাইকমান্ড। সেখানে নানান বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। বৈঠকে নেতারা শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি পালনে জোর দিয়েছেন বলে জানা গেছে। গতকাল সোমবারও দলটির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীর সঙ্গে স্কাইপি বৈঠক করেছেন। বৈঠকে ঢাকার ভূমিকা নিয়ে এ সময় নিজেরে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানান দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। ঢাকায় অসহযোগ আন্দোলনের কার্যকর না হওয়াকে ঢাকার ব্যর্থতা বলে মন্তব্য করেছেন তিনি। এ সময় নেতাকর্মীরা গ্রেপ্তারের আশঙ্কার কথা জানান এবং কূটনৈতিক তৎপরতার ওপর গুরুত্ব দেন।
নাম প্রকাশ না শর্তে বিএনপির একজন নেতা বলেন, ২৮ অক্টোবরের পর বিএনপি সাংগঠনিকভাবে ভেঙ্গে পড়েছে। এখনকার বাস্তবতায় মাঠে আন্দোলন গড়ে তোলা দলটির জন্য কষ্টসাধ্য। তবে তারা চেষ্টা করছেন। তিনি জানান, এ মুহুর্তে তারা মাঠের আন্দোলনের চেয়ে কূটনৈতিক তৎপরতার ওপর গুরুত্ব দিতে চান। আর এ রকম ভাবনা থেকেই ইতোমধ্যে বিএনপির পক্ষ থেকে গত ৩১ ডিসেম্বর দলটি জাতিসংঘ থেকে শুরু করে বিভিন্ন দূতাবাসে চিঠি দিয়েছে। এতে নির্বাচন বন্ধে হস্তক্ষেপ কামনা করা হয়েছে। এই নির্বাচন আওয়ামী লীগের পাতানো খেলা উল্লেখ করে দলটি কূটনীতিকদের বার্তাও দিচ্ছে।
বিএনপির একাধিক সূত্র বলছে, এর আগেও তফসিল ঘোষণার পর থেকেই একতরফা নির্বাচনের বিষয়ে বাংলাদেশে অবস্থিত বিদেশি কূটনৈতিক মিশনগুলোকে অবহিত করেছে দলটি।
জৈন্তাবার্তা/জেএ




