ফাইল ছবি
দীর্ঘদিন হাসপাতাল থেকে ফিরোজায় যাওয়ার পর বেগম খালেদা জিয়া আস্তে আস্তে তৎপর হতে শুরু করেছেন। গত দুইদিনে তিনি বিএনপির একাধিক নেতার সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলেছেন। তাদের সঙ্গে খুব শীঘ্রই বসারও আগ্রহ জানিয়েছেন। এছাড়া তার ব্যক্তিগত স্টাফ এবং যারা ড্যাবের চিকিৎসক তাদের সঙ্গেও রাজনৈতিক বিষয় নিয়ে পরামর্শ করছেন। ২৮ অক্টোবর থেকে নির্বাচন পর্যন্ত সময়ে বিএনপি কি কি ভুল করেছে সেই ভুলগুলো ব্যাপারেও তিনি বিভিন্ন নেতার মতামত নিচ্ছেন এবং সামনের দিনগুলোতে করণীয় কি সে সম্পর্কেও তিনি খোঁজ খবর নিচ্ছেন। বিএনপির একাধিক দায়িত্বশীল সূত্র এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, বেগম খালেদা জিয়ার সঙ্গে যারা ঘনিষ্ঠ ছিলেন তারা আবার তৎপর হচ্ছেন এবং তাদের সাথে বেগম খালেদা জিয়া টেলিফোনে যোগাযোগ করেছেন।
বিএনপির একাধিক নেতা স্বীকার করেছেন, বেগম খালেদা জিয়ার ব্যক্তিগত কর্মকর্তা শিমুল বিশ্বাস, নজরুল ইসলাম খান, আবদুল্লাহ আল নোমান সহ অন্তত ১০ জন নেতার সাথে বেগম খালেদা জিয়া গত দুইদিনে যোগাযোগ করেছেন। তবে যাদের সঙ্গে যোগাযোগ হয়েছে তাদের অন্তত দুইজন বাংলা ইনসাইডারকে বলেছেন, বেগম খালেদা জিয়া আসলে তাদের সাথে কুশল বিনিময় করছেন। তার শারীরিক অবস্থার কথা জানিয়েছেন।
বেগম জিয়ার একজন ঘনিষ্ঠ বিএনপি নেতা বলছেন, তিনি নিজেই কয়েক দফা ফোন করেছিলেন এবং শামীম ইস্কান্দারের কাছেও বেগম খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থার খবরাখবর জানতে চেয়েছিলেন। এই কারণেই শামীম ইস্কান্দারের মাধ্যমে বেগম জিয়া তার সাথে যোগাযোগ করেন এবং তার পরিবারের খবর নেন। তাদের সাথে কোন রাজনৈতিক বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়নি বলে জানিয়েছেন ওই নেতা। তবে বিভিন্ন সূত্রগুলো বলছে, বেগম জিয়া তার ব্যক্তিগত চিকিৎসক যারা ড্যাবের সঙ্গে যুক্ত, তার ভাই শামীম ইস্কান্দার এবং আরও দু-একজন নেতাকে বলেছেন, বিএনপির কিছু কিছু ভুল সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে এবং এই সিদ্ধান্তগুলো কেন নেওয়া হল এই বিষয়টি খতিয়ে দেখা দরকার।
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, বেগম খালেদা জিয়া নতুন করে আন্দোলন শুরু করার আগে সংগঠন গোছানোর বিষয় মনোযোগী হওয়ার জন্য আহ্বান জানাচ্ছেন। বিশেষ করে কেন্দ্রীয় কমিটি পূর্ণাঙ্গ করা, দল পুনর্গঠন করার ওপর তিনি সবচেয়ে বেশি জোর দিচ্ছেন।
সূত্র মতে, বেগম জিয়া একজন নেতাকে বলেছেন, সংগঠন যদি শক্তিশালী না হয় তাহলে আন্দোলন শক্তিশালী হবে না। আর এ কারণে এই সংগঠনকে কিভাবে শক্তিশালী করা যায় সে ব্যাপারে গত কিছুদিন ধরে তিনি বিভিন্ন নেতার বক্তব্য শুনছেন। তবে বিভিন্ন সূত্র বলছে, নানা বাস্তবতায় বেগম খালেদা জিয়ার এই মুহূর্তে সক্রিয় রাজনীতিতে যোগদান অসম্ভব ব্যাপার। প্রথমত, তিনি আইনি বাধ্যবাধকতার মধ্যে আছেন। তার প্রধান সমস্যা হল তিনি সরকারের অনুকম্পায় মুচলেকা দিয়ে জামিনে আছেন। তাকে দুই শর্তে সরকারের নির্বাহী আদেশে জামিন দেওয়া হয়েছে। এই দুই শর্তের মধ্যে একটি হল, তিনি বাসায় থেকে চিকিৎসা গ্রহণ করবেন। অন্য কোনো কাজ করার এখতিয়ার তার নেই। আর এই কারণেই বেগম খালেদা জিয়ার সরাসরি রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত হওয়ার সম্ভাবনা খুবই কম যদি সরকার না চায়।
দ্বিতীয়ত, খালেদা জিয়ার নিয়ন্ত্রণে দলও নেই, কারণ তার পূত্র তারেক জিয়া এখন তার নিজস্ব লোকজনকে সবগুলো নীতিনির্ধারণের জায়গায় বসিয়েছেন। ফলে তারা বেগম খালেদা জিয়াকে কতটুকু মানবেন বা আদৌ মানবেন কিনা তা নিয়ে সংশয় রয়েছে।
তৃতীয়ত, বেগম খালেদায় জিয়ার শারীরিক অবস্থাও ভাল নয়। তিনি অসুস্থ্য অবস্থাতেই এভারকেয়ার হাসপাতালে তার বাড়িতে গিয়ে চিকিৎসা নিচ্ছেন। তার শারীরিক অবস্থান এখনো সমস্যা রয়েছে। এ অবস্থায় রাজনীতিতে যুক্ত থাকার মত মানসিক এবং শারীরিক অবস্থা তার নেই। তবে বেগম খালেদা জিয়া এটাও বোঝেন, বিএনপি না থাকলে তার অস্তিত্ব বিলীন হয়ে যাবে। এ কারণেই রাজনীতিতে বেগম খালেদা জিয়া আস্তে আস্তে কিছু নির্দেশনা দিচ্ছেন বলেও জানা গেছে।
জৈন্তাবার্তা/জেএ




