বিএনপির ভারত বিরোধিতা: জাতির সঙ্গে নতুন প্রতারণা
শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬, ০২:২৫ PM

বিএনপির ভারত বিরোধিতা: জাতির সঙ্গে নতুন প্রতারণা

জৈন্তা বার্তা ডেস্ক

প্রকাশিত: ২৫/০৩/২০২৪ ১২:৪০:৪৫ PM

বিএনপির ভারত বিরোধিতা: জাতির সঙ্গে নতুন প্রতারণা

ছবি: সংগৃহীত


অতি সম্প্রতি বিএনপি সব ধরনের ভারতীয় পণ্য বর্জনের যে ঘোষণা দিয়েছে, তা জাতির সাথে এক নতুন প্রতারণা। অবৈধ রাজনৈতিক দল বিএনপি জন্মের পর থেকে আর তার জন্মদাতা অবৈধ ক্ষমতা দখলকারী জিয়া ক্ষমতা দখলের পর থেকে জাতীয় স্বার্থ জলাঞ্জলি দিয়ে বাংলাদেশকে কেবল ভারতীয় পণ্যের বাজারে পরিণত করেছিল। 

দেশকে স্বাবলম্বী এবং অর্থনৈতিকভাবে শক্তিশালী করার লক্ষ্যে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু দেশে শিল্পায়ন এবং এর বিকাশে যে সব জাতীয়তাবাদী উদ্যোগ গ্রহণ করেছিলেন, সেগুলো বাতিল করে জিয়া দেশকে সম্পূর্ণরূপে বিদেশনির্ভর একটি বাজারে রূপান্তরিত করে দেশের শিল্পায়ন ও অর্থনৈতিক উন্নয়ন থামিয়ে দিয়েছিল। এর ফলে জিয়ার শাসনামলে দেশের মাথাপিছু আয় বঙ্গবন্ধুর অর্জিত মাথাপিছু আয় থেকে অনেক কমে গিয়েছিল। এই ধারা অবৈধ ক্ষমতা দখলকারী ও তাদের লিগ্যাসি শাসনামলে দৃশ্যমান ছিল।

জিয়া ক্ষমতায় আসার পর ভারতের সবধরনের পণ্য বাংলাদেশের বাজারে আসার সুযোগ করে দিয়েছিল।  ভারতের পণ্য বর্জনের ঘোষণা যারা দিয়েছে, তারা যেন রোজার সময় চিনি, চিনির তৈরি মিষ্টি, গম, গম থেকে তৈরি করা আটা-ময়দার কোন খাদ্য, পেঁয়াজ, গরম মসলা, জিরা, বাসমতি চাল- এগুলোসহ যে সব পণ্য ভারত থেকে বাংলাদেশে আমদানি করা হয়, সেগুলো যেন ভারতের পণ্য বলে বর্জনকারীরা না খায় কিংবা ব্যবহার না করে। ভারতীয় পণ্য বর্জনকারীদের কাছে প্রশ্ন তাদের স্ত্রীদের কাছে যত ভারতীয় শাড়ি-কাপড় রয়েছে, তারা কি সেগুলো পুড়িয়ে দেবেন? ভারতীয় পণ্য বর্জনের কথা বলে বিএনপির নেতারা দোকান থেকে চাদর কিনে সেগুলো পুড়িয়েছে। সে হিসেবে তাদের নেতাকর্মীদের ঘরে ঘরে যত ভারতীয় শাড়ি, গরম কাপড় কিংবা অন্যান্য ভারতীয় পণ্য রয়েছে, নৈতিক কারণে এগুলো সবই তাদের পুড়িয়ে ফেলা উচিত নয় কি?

বিএনপির অনেক নেতাদের স্ত্রী-সন্তানেরা বিভিন্ন অনুষ্ঠানের আগে বাংলাদেশের বাজার থেকে শাড়ি-কাপড়, গহনা না কিনে ভারতে গিয়ে বিভিন্ন শপিং মল থেকে লাখ লাখ টাকার বিলাসবহুল শাড়ি-কাপড়, গহনা কিনে আনেন।

গাধার গায়ে ঘোড়া লিখে রাখলেই যেমন গাধা ঘোড়া হয়ে যায় না, তেমনি অবৈধ ক্ষমতা দখলকারীর পকেটে সৃষ্ট বিএনপির মতো সুবিধাবাদী প্ল্যাটফর্ম জাতীয়তাবাদী নাম ধারণ করলেই প্রকৃত জাতীয়তাবাদী দল হয় না। সামান্য উচ্ছিষ্ট পাওয়ার লোভে দেশের স্বার্থ জলাঞ্জলি দিয়ে দেশকে সম্পূর্ণরূপে বিদেশিদের হাতে তুলে দিতে যে গোষ্ঠী নিরন্তর ষড়যন্ত্র-চক্রান্ত করে আসছে, তারাই বিএনপি সৃষ্টি করেছে এবং এটিকে বাঁচিয়ে রেখেছে।

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু দেশকে একটি আত্মনির্ভরশীল এবং শক্তিশালী অর্থনীতির দেশে রূপান্তরিত করার উদ্যোগ নিয়েছিলেন। এ লক্ষ্যে মাত্র সাড়ে তিন বছরের মাথায় তিনি বাংলাদেশকে মাথাপিছু আয় হিসাবে দক্ষিণ এশিয়ার সবচেয়ে শক্তিশালী অর্থনীতির দেশে রূপান্তরিত করেছিলেন। অন্যদিকে তার কন্যা রাষ্ট্রনায়ক শেখ হাসিনা পিতার মতো বাংলাদেশকে আবার দক্ষিণ এশিয়ার শ্রেষ্ঠ অর্থনীতিতে রূপান্তরিত করেছেন। বঙ্গবন্ধু ও তার কন্যা শেখ হাসিনার প্রকৃত জাতীয়তাবাদী-দেশপ্রেম নির্ভর রাষ্ট্রদর্শনের বিপরীতে বিদেশি ষড়যন্ত্র নির্ভর উচ্ছিষ্ট ভোগী বিএনপির রাজনীতির পরাজয় অবশ্যম্ভাবী ছিল। ইতিহাস তার চূড়ান্ত বিচার করেছে। 

এম সি



শীর্ষ সংবাদ: