আউসের বাম্পার ফলনে খুশি কৃষক। ছবি: জৈন্তা বার্তা
গোয়াইনঘাট উপজেলায় ৩ টি ইউনিয়নে আউশ ধানের আবাদ হয়েছে। ক্ষেত থেকে ধান ঘরে তুলতে ব্যস্ত সময় পার করছেন উপজেলার কৃষকেরা। আউসের বাম্পার ফলন এবং বাজারে ধানের দাম বেশি হওয়ায় তাঁরা বেশ খুশি।
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি বর্ষা মৌসুমে উপজেলায় ৭ হাজার ১২৫ হেক্টর জমিতে আউশ ধান আবাদের লক্ষ্যমাত্রা ছিল। কিন্তু সময়মতো বৃষ্টি না হওয়ায় জমিতে পানি না থাকার কারণে বৈরী আবহাওয়ায় অন্য বছরের ন্যায় এবার আউশ আবাদের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন সম্ভব হয়নি। আবাদ হয়েছে ৯৬২ হেক্টর জমি।
কৃষি অফিস সূত্রে আরও জানা যায়, উপজেলার, পূর্ব আলীরগাঁও পশ্চিম আলীরগাঁও ও ফতেপুর ইউনিয়নে আউসের আবাদ বেশি হয়ে থাকে। তবে এ বছর আউশের লক্ষ্যমাত্রা পূরণ না হলেও সেইসব জমি আমন আবাদের আওতায় চলে আসছে এবং আউস ধানকাটা প্রায় শেষ পর্যায়ে চলে এসেছে। বেশি ব্রি-৪৮ ব্রি-৮৩ ও স্হানীয় জাতের আউস ধান আবাদ হয় থাকে।
উপজেলার ফতেপুর ইউনিয়নের পঞ্চম খন্ড গ্রামের একজন আদর্শ কৃষক আলহাজ্ব বিলাল নুরুল। তিনি প্রতি বছরের ন্যায় এবারও সাত বিঘা জমিতে আউসের আবাদ করেছেন। ফলন অত্যন্ত ভালো হয়েছে তাতে তিনি খুশি। জমি থেকে আউস ধান কেটে ঘরে তুলতে ব্যস্ত সময় পার করছেন তিনি। পাশাপাশি তিনি বোরো ও আমনের আবাদ করে থাকেন। এছাড়াও তার রয়েছে পোল্ট্রি খামার,দেশীয় গরুর খামার, মাছের ফিসারীসহ জারা লেবু মালটা ও বিভিন্ন জাতের শাক সবজির বাগান। এমনকি তিনি নিজে জৈব সার তৈরি করে থাকেন। যার জন্য তাকে আর বাজার থেকে রাসায়নিক সার কেনার প্রয়োজন পড়ে না।
কৃষক বিলাল নুরুল বলেন, সরকারি প্রণোদনা আউশ চাষে কৃষকদের উৎসাহিত করেছে। প্রতি বিঘা জমির জন্য একজন কৃষককে ২০ কেজি ইউরিয়া, ১০ কেজি এমওপি, ১০ কেজি ডিওপি এবং ৪০০ টাকা দিয়েছে সরকার। অনুকূল আবহাওয়ায় এবার ফলন ভালো। প্রতি বিঘা জমিতে ১৬-১৮ মণ ধান পাওয়া যাচ্ছে।
বিলাল নুরুল আরো বলেন, এক সপ্তাহ আগে ধান কাটা শুরু হয়েছে। বৃষ্টির কারণে মাড়াইয়ে কিছুটা সমস্যা হচ্ছে। বাজারে ধানের দাম ভালো। অন্য ধানের চেয়ে বর্ষালী আউশ আবাদে লাভ বেশি। প্রতি বিঘা আবাদে খরচ হয়েছে পাঁচ থেকে সাড়ে পাঁচ হাজার টাকা। প্রতি বিঘার ধানে আয় হচ্ছে ১০ হাজার টাকার ওপর।
লাভ বেশি হওয়ায় আগামী মৌসুমে আরও বেশি জমিতে আউশ আবাদ করবেন বলে জানান তিনি।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রায়হান পারভেজ রণি বলেন, সরকারি প্রণোদনা পাওয়ার কারণে কৃষকেরা আউশ ধান চাষে আগ্রহী হয়ে উঠেছেন। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এবার ফলন বেশ ভালো। দাম বেশি পাওয়ায় আগামীতে এ ধানের আবাদ আরও বাড়বে।
এস.ডি




