নিজস্ব প্রতিনিধি
কোম্পানীগঞ্জে নলেজ পার্কের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার দুপুরে সিলেট ইলেক্ট্রনিক্স সিটি এর অভ্যন্তরে পার্কের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়।
এ উপলক্ষ্যে সিলেট ইলেক্ট্রনিক্স সিটি প্রাঙ্গণে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী ও সিলেট-৪ আসনের সংসদ সদস্য ইমরান আহমদ।
এ সময় স্বাগত বক্তব্য দেন জেলা পর্যায়ে আইটি/হাইটেক পার্ক স্থাপন প্রকল্পের (১২টি জেলায়) প্রকল্প পরিচালক এ কে এ এম ফজলুল হক। বিশেষ অতিথি উপস্থিত ছিলেন তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (অতিরিক্ত সচিব) মো. মোস্তফা কামাল, সিলেটের জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট শেখ রাসেল হাসান, ভারতের সহকারী হাইকমিশনার নীরাজ কুমার জয়সওয়াল, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের সচিব মো. সামসুল আরেফিন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শেখ সেলিম।
প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রী তার বক্তব্যে বলেন, নলেজ ইজ পাওয়ার। তার বাস্তব প্রমাণ নলেজ পার্কের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন। এই পার্ক হবে কোম্পানীগঞ্জের তরুণ প্রজন্মের কর্মসংস্থানের ঠিকানা। এর মাধ্যমে তরুণ-তরুণীরা নিজের পায়ে দাঁড়ানোর সুযোগ পাবে। প্রকল্পের আওতায় ১ হাজার তরুণ-তরুণী প্রশিক্ষণ পাবে। এখানে তিন হাজার মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে। এর ফলে কোম্পানীগঞ্জের আর্থ-সামাজিক অবস্থার পরিবর্তন আসবে।
মন্ত্রী ইমরান আহমেদ বলেন, আজকের যুবকরাই আগামী দিনের চালিকাশক্তি। নলেজ পার্ক যুবকদের জন্যই হচ্ছে। যুবকরাই আগামীর বাংলাদেশকে এগিয়ে নেবে। নলেজ পার্কে আনলিমিটেড সুযোগ-সুবিধা থাকবে। এই সুযোগ আমাদের কাজে লাগাতে হবে। স্মার্ট বাংলাদেশ গড়তে হলে আমাদেরকে স্মার্ট হতে হবে।
মন্ত্রী বলেন, প্রবাসীরা হাইটেক পার্কে বিনিয়োগ করবে আশা করেছিলাম। তারা সাড়া না দেওয়ায় আমরা পিছিয়ে পড়েছি।
মন্ত্রী ইমরান আহমেদ নির্ধারিত 'টাইম ফ্রেইম' এর মধ্যে নলেজ পার্কের নির্মাণ কাজ সম্পন্ন করতে হাইটেক পার্ক কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।
প্রকল্প পরিচালক এ কে এ এম ফজলুল হক বলেন, প্রতিযোগিতার এ যুগে আমাদের তরুণদের টিকে থাকতে হলে প্রযুক্তি শিক্ষার বিকল্প নেই। সরকার এ জন্যই একটি প্রযুক্তি নির্ভর জাতি গড়ে তুলতে কাজ করে চলেছে। এখন থেকে আর চাকরির পেছনে ছুটতে হবে না, নিজেরাই উদ্যোক্তা হয়ে মানুষকে চাকরি দেবে।
তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (অতিরিক্ত সচিব) মো. মোস্তফা কামাল বলেন, এই পার্কে থাকবে স্টার্ট-আপ ফ্লোর ফ্যাসিলিটি, যেখানে প্লাস এ্যান্ড প্লে সুবিধা নিশ্চিত করা হবে। ছাত্র-শিক্ষকদের জন্য উন্নত গবেষণার সুবিধা নিশ্চিত করা হবে। থাকবে ছাত্রছাত্রীদের জন্য বিশেষায়িত ল্যাব। প্রকল্পটি ডিজিটাল বাংলাদেশের লক্ষ্য এবং ২০৪১ সালের মধ্যে ডিজিটাল থেকে স্মার্ট বাংলাদেশে রূপান্তরের লক্ষ্যকেও এগিয়ে নিয়ে যাবে।
সবশেষে বক্তব্য দেন বাংলাদেশ হাইটেক পার্ক কর্তৃপক্ষের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (গ্রেড-১) এনডিসি জি এম এম জাফরউল্লাহ। অনুষ্ঠানের শুরুতে বঙ্গবন্ধুর আদর্শ বিষয়ক তথ্যচিত্র 'মুজিব চিরঞ্জীব' প্রদর্শন করা হয়। এছাড়া অনুষ্ঠানের ফাঁকে প্রকল্পের তথ্য চিত্র এবং ডিজিটাল বাংলাদেশের তথ্য চিত্র প্রদর্শিত হয়।
এ সময় আরো উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ হাইটেক পার্কের পরিচালক (টেকনিক্যাল) গোলাম সরওয়ার ভূঁইয়া, জেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান জয়নাল আবেদীন, উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান শামীম আহমদ, উপজেলা নির্বাহী অফিসার লুসিকান্ত হাজং, উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা আলী আমজদ, সাধারণ সম্পাদক আপ্তাব আলী কালা মিয়া, গোয়াইনঘাট সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ ফজলুল হক।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শেষে মন্ত্রী হাইটেক পার্কে টুগেদার আইটি ইন্ডাস্ট্রি, আইরিশ ইলেক্ট্রনিক্স ইন্ডাস্ট্রি লিমিটেড ও হাইটেক পার্ক বোট ক্লাবের নির্মাণ কাজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন।
এম. এইচ. এ




