জগন্নাথপুরে নিয়ন্ত্রণহীন নিত্যপণ্যের বাজার, বিপাকে ক্রেতারা
রবিবার, ০৩ মে ২০২৬, ০১:৪৩ AM

জগন্নাথপুরে নিয়ন্ত্রণহীন নিত্যপণ্যের বাজার, বিপাকে ক্রেতারা

রেজুওয়ান কোরেশী, জগন্নাথপুর প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ২০/০৯/২০২৩ ০৪:০০:৫১ AM

জগন্নাথপুরে নিয়ন্ত্রণহীন নিত্যপণ্যের বাজার, বিপাকে ক্রেতারা

Jagannathpur


সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর বাজারের নিত্যপণ্যের বাজারে অস্বাভাবিক পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছে। মূল্য সামঞ্জস্য না থাকা এবং নিয়মিত বাজার মনিটরিংয়ের অভাবে এখানে মধ্য ও নিম্ন আয়ের মানুষ অসহায় হয়ে পড়েছেন। নিয়ন্ত্রণহীন বাজারে গিয়ে অসহায় ক্রেতারা কখনও ফিরছেন খালি হাতে। বিশেষ করে খেটেখাওয়া মানুষ পড়ছেন বিপাকে।

জগন্নাথপুর পৌরশহরের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা বাবুল দাস জানান, গত রোববার বাজার করতে গিয়ে জগন্নাথপুর বাজারের টিএন্ডটি রোডস্থ বাউধরন স্টোর থেকে ৪৫ টাকা দরে এককেজি মুন্সীগঞ্জী আলু ক্রয় করেন তিনি। কোনো দোকানে দামও আরও বেশি। অথচ, সরকার আলুর দাম ৩৫ টাকা নির্ধারণ করে দিয়েছে। বাজার মনিটরিং না থাকায় সরকার নির্ধারিত দামের চেয়ে ৮-১০ টাকা বেশিতে বিক্রি করছেন বিক্রেতারা।

জগন্নাথপুর বাজারের ব্যবসায়ী আজমল হোসেন জানান, জগন্নাথপুর বাজারে নিত্যপণ্য ক্রয় করতে গিয়ে দোকানে দোকানে পণ্যের দামে মিল না থাকায় বিব্রত বোধ করি। তাই, হতাশ হয়ে যে কোনো একটি মুদি দোকান থেকে পণ্য ক্রয় করতে বাধ্য হই।

জগন্নাথপুর পৌরশহরের প্রধান বাজার জগন্নাথপুর বাজারে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বিভিন্ন পণ্যের মূল্য বৃদ্ধির পাশাপাশি নতুন করে পেঁয়াজ, আলুর দাম বেড়েছে।  দোকানে দোকানে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দামে মিল না থাকলে যাচাই বাচাই না করে বাধ্য হয়ে বেশি মূল্যে পণ্য ক্রয় করছেন ক্রেতারা। কারণ কোনো দোকানে এক পণ্যের দাম বেশি থাকলে অন্য দোকানে কম। আবার সেই দোকানে অন্য পণ্যের দাম বেশি। বাজার নিয়ন্ত্রণহীন থাকায় নাজেহাল সাধারণ মানুষ। তবে পাইকারী ও খুচরা বিক্রেতারা জানান, নিত্যপণ্যের মান অনুযায়ী  দাম কম-বেশি থাকে। এছাড়াও তারা জানান, দাম উঠা-নামা থাকায় আটকে যাওয়া পণ্যের মূল্য একটু বেশি থাকা অস্বাভাবিক কিছু নয়। 

জগন্নাথপুর বাজার ঘুরে দেখা গেছে, ১ হালি লাল মুরগির মুরগির ডিম ৫৫ টাকা। অর্থাৎ প্রতি পিস ডিম ক্রেতাকে ক্রয় করতে হচ্ছে ১৪ টাকায়। এই বাজারে পেঁয়াজের দামে সামঞ্জস্য নেই। পাইকারী দোকানের পাশ্ববর্তী খুচরা দোকানগুলোতে প্রতি কেজি পেঁয়াজ ৬০ টাকা দরে ও পাইকারী দোকানগুলোতে ৫৫ থেকে ৫৮ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে। প্রতি কেজি আলু ৪২ থেকে ৪৫ টাকা  দরে বিক্রি করছেন তারা।

দোকান গুলোতে নিত্যপণ্য পর্যবেক্ষণ করতে গিয়ে দেখা যায়, পাইকারী দোকান বাউধরন ভেরাইটিজ স্টোরে প্রতি কেজি ইন্ডিয়ান পেঁয়াজ ৫৫ টাকা, আলু ৪৫ টাকা ও প্রতি লিটার পিওর সয়াবিন তেল ১৬০  টাকা  হলে মহাদেব ট্রেডার্সে প্রতি কেজি ইন্ডিয়ান পেঁয়াজ ৫৭/৬০ টাকা, আলু ৪৫ টাকা,পিওর সয়াবিন তেল ১৭৫ টাকা, লাভলী ষ্টোরে ইন্ডিয়ান পেঁয়াজ ৫৮ টাকা, আলু  ৪৩ টাকা ও পিওর সয়াবিন তেল ১৮০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। এদিকে খুচরা দোকান মেসার্স তাওহিদা স্টোরে পিওর সয়াবিন তেল প্রতি লিটার ১৭০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া জগন্নাথপুর বাজারে অন্যান্য নিত্যপণ্যের মূল্যে  অসামঞ্জস্য লক্ষ্যনীয়।

বিভিন্ন দোকানে পামওয়েল প্রতি লিটার ১৪৫-১৬০ টাকা, প্রতি কেজি রসুন ১৭০-২০০ টাকা, চিনির কেজি ১ শ ৬০ টাকা, শুকনা মরিচ প্রতি কেজি ৪০০-৫০০ টাকা পর্যন্ত, চায়না আদা প্রতি কেজি ১৭০-২২০ টাকা পর্যন্ত, ব্রয়লার মুরগী প্রতি কেজি -১৬০-১৭০ টাকা।  দোকান গুলোতে বিভিন্ন পন্যের মূল্যের সামঞ্জস্য না থাকলেও একমাত্র চায়না মিডিয়াম ডালে সামঞ্জস্য রয়েছে। চায়না মিডিয়াম ডাল প্রতি কেজি ১ শ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। 

জগন্নাথপুর বাজারের মহাদেব ট্রেডার্সের পরিচালক অসিত দাশ জানান, কোয়ালিটি অনুযায়ী নিত্যপণ্যের দাম কম-বেশি থাকতে পারে। তাই যে দোকানে পণ্য ভালো সে দোকানে রেট ও একটু বেশি হবে; আর এটা স্বাভাবিক।

মেসার্স তাওহিদা স্টারের ম্যানেজার মো. ইকবাল হোসেন জানান, ক্রয় অনুযায়ী আমরা নিত্যপণ্যে  সীমিত লাভ ধরে ক্রেতাদের কাছে বিক্রি করি।

অভি এন্ড তাওসান ভেরাইটিজ স্টোরের পরিচালক সাজ্জাদ মিয়া বলেন, নিত্যপণ্যের মূল্য উঠানামা থাকায় কিছু পণ্য আটকে গেলে দোকানিরা পূর্বের রেটে বিক্রি করতে বাধ্য। নতুবা ব্যবসায় লোকসান গুনতে হবে।

মুঠোফোনে যোগাযোগ করলে সুনামগঞ্জ ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ কার্যালয় সুনামগঞ্জের সহকারী পরিচালক আল আমিন বলেন, আমাদের জনবল কম থাকার পরও সুনামগঞ্জ জেলার বিভিন্ন উপজেলায় ভোক্তা অধিকারের অভিযান চলছে। এর ধারাবাহিকতায় সম্প্রতি জগন্নাথপুরে ও অভিযান পরিচালনা করা হয়। আগামীতে ও অভিযান চলবে।

জগন্নাথপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সাজেদুল ইসলাম বলেন, আমরা অচিরেই ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে অসাধু ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেব।

SH